বাংলাদেশ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুরমায় ‘মামলা বাণিজ্য’:করিম ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কখনো নিজেকে ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন।

সম্প্রতি কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করলে সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান। পরে করিম নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিম গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন অপরাধচক্র থেকে তিনি নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন।

পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের একটি কাউন্টার মামলা (নং: জি আর ৫৭/২১) আপোষের আশ্বাস দিয়ে করিম ৭০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না করেই সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে একই মামলার আপোষের কথা বলে আবারও ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে করিম ও তার সহযোগীরা বারবার টার্গেট করছে। সম্প্রতি জমি বিক্রির খবর পেয়ে পুনরায় অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে এনে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে থানায় জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে করিমের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন দিন পর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো থানায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করানো এবং পরে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’-এর অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার (নং: ৯৫/২৫) প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট অফিসার রাজীব মোহন দাস ও করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এক নাবালককে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করিমের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পরে ওই কিশোরকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “রিজাদ মামলার নথিভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবাদীদের সঙ্গে আমার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি।” অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “টাকা নেওয়ার প্রমাণ থাকলে দেখাতে হবে। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে টাকা নিলে তার দায় আমি নেব না।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

দক্ষিণ সুরমায় ‘মামলা বাণিজ্য’:করিম ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

Update Time : ১১:২৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কখনো নিজেকে ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন।

সম্প্রতি কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করলে সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান। পরে করিম নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিম গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন অপরাধচক্র থেকে তিনি নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন।

পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের একটি কাউন্টার মামলা (নং: জি আর ৫৭/২১) আপোষের আশ্বাস দিয়ে করিম ৭০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না করেই সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে একই মামলার আপোষের কথা বলে আবারও ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে করিম ও তার সহযোগীরা বারবার টার্গেট করছে। সম্প্রতি জমি বিক্রির খবর পেয়ে পুনরায় অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে এনে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে থানায় জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে করিমের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন দিন পর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো থানায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করানো এবং পরে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’-এর অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার (নং: ৯৫/২৫) প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট অফিসার রাজীব মোহন দাস ও করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এক নাবালককে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করিমের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পরে ওই কিশোরকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “রিজাদ মামলার নথিভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবাদীদের সঙ্গে আমার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি।” অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “টাকা নেওয়ার প্রমাণ থাকলে দেখাতে হবে। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে টাকা নিলে তার দায় আমি নেব না।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।