বাংলাদেশ ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী গলাচিপায় মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ ইউএনও মাহমুদুল হাসান: বদলে যাচ্ছে গলাচিপার দৃশ্যপট।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ Time View

মোঃ নুহু ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় জনপদ গলাচিপা উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

 

গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি তার মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে উপজেলার দৃশ্যপট আমূল বদলে দিতে শুরু করেছেন। একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি কেবল দাফতরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং বহুমুখী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবাকে পৌঁছে দিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। সাধারণ মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতা আজ তাকে জনগণের ভালোবাসায় মুগ্ধ ও সিক্ত করেছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে তাকে অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করতে হয়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শুধু তাই নয়, উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পদটি শূন্য থাকায় অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তিনি সেই অতিরিক্ত দায়িত্বও একাধিকবার সুচারুভাবে পালন করেছেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং সর্বশেষ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বর্তমানে জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় দাপ্তরিক কাজের চাপে দিনের বেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকির সুযোগ না পেলেও তিনি গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যান এবং কাজের মান তদারকি করেন, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার কাজের প্রতি চরম নিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ।

 

মাহমুদুল হাসানের সৃজনশীল চিন্তাধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করছে উপজেলা পরিষদ ও সম্প্রসারণ ভবনের চারপাশ। এক সময় যা অবহেলিত ছিল, তা আজ আধুনিক শৈল্পিক ছোঁয়ায় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভবনের চারপাশে মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সামনের বিশাল মাঠ সংস্কার এবং একটি আধুনিক শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ভবন থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত রঙিন নকশা করা পাকা রাস্তা এবং তার দুই পাশে চমৎকার আলোকসজ্জা স্থানীয়দের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। মানুষ ভালোবেসে এই নান্দনিক পথটিকে ‘সেলফি রোড’ হিসেবে অভিহিত করছে। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ গলাচিপা খেয়াঘাটে আধুনিক নেইম ফলক স্থাপন, টল ঘর নির্মাণ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক পার্ক গড়ে তুলে তিনি দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা দূর করেছেন।

 

পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থ সংকটের মধ্যেও তিনি দমে যাননি। সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে তিনি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করছেন। গলাচিপার সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ মনে করে, একজন কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলে একটি জনপদ যে কতটা দ্রুত বদলে যেতে পারে, মাহমুদুল হাসান তার জ্যান্ত প্রমাণ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তার মতো একজন জনবান্ধব ও কর্মঠ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই কর্মকর্তা আরও কিছুদিন গলাচিপা থাকলে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং অচিরেই গলাচিপা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হবে। মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন মাহমুদুল হাসানকে আগামীতে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পটুয়াখালী গলাচিপায় মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ ইউএনও মাহমুদুল হাসান: বদলে যাচ্ছে গলাচিপার দৃশ্যপট।

Update Time : ০৩:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নুহু ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় জনপদ গলাচিপা উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

 

গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি তার মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে উপজেলার দৃশ্যপট আমূল বদলে দিতে শুরু করেছেন। একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি কেবল দাফতরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং বহুমুখী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবাকে পৌঁছে দিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। সাধারণ মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতা আজ তাকে জনগণের ভালোবাসায় মুগ্ধ ও সিক্ত করেছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে তাকে অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করতে হয়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শুধু তাই নয়, উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পদটি শূন্য থাকায় অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তিনি সেই অতিরিক্ত দায়িত্বও একাধিকবার সুচারুভাবে পালন করেছেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং সর্বশেষ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বর্তমানে জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় দাপ্তরিক কাজের চাপে দিনের বেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকির সুযোগ না পেলেও তিনি গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যান এবং কাজের মান তদারকি করেন, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার কাজের প্রতি চরম নিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ।

 

মাহমুদুল হাসানের সৃজনশীল চিন্তাধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করছে উপজেলা পরিষদ ও সম্প্রসারণ ভবনের চারপাশ। এক সময় যা অবহেলিত ছিল, তা আজ আধুনিক শৈল্পিক ছোঁয়ায় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভবনের চারপাশে মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সামনের বিশাল মাঠ সংস্কার এবং একটি আধুনিক শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ভবন থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত রঙিন নকশা করা পাকা রাস্তা এবং তার দুই পাশে চমৎকার আলোকসজ্জা স্থানীয়দের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। মানুষ ভালোবেসে এই নান্দনিক পথটিকে ‘সেলফি রোড’ হিসেবে অভিহিত করছে। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ গলাচিপা খেয়াঘাটে আধুনিক নেইম ফলক স্থাপন, টল ঘর নির্মাণ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক পার্ক গড়ে তুলে তিনি দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা দূর করেছেন।

 

পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থ সংকটের মধ্যেও তিনি দমে যাননি। সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে তিনি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করছেন। গলাচিপার সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ মনে করে, একজন কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলে একটি জনপদ যে কতটা দ্রুত বদলে যেতে পারে, মাহমুদুল হাসান তার জ্যান্ত প্রমাণ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তার মতো একজন জনবান্ধব ও কর্মঠ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই কর্মকর্তা আরও কিছুদিন গলাচিপা থাকলে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং অচিরেই গলাচিপা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হবে। মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন মাহমুদুল হাসানকে আগামীতে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে।