
বিশেষ কোন তদবির বা অজুহাত প্রযোজ্য নয়?
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টার এখন কার্যত অবৈধ দখলদারদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও এক শ্রেণির দৈনিক মজুরী ভিত্তিক,অবসরপ্রাপ্ত, ও অন্যান্য নির্লজ্জভাবে সেখানে বসে আছে, আর প্রতিবারই নতুন নতুন অজুহাত দাঁড় করিয়ে সময় পার করছে।
কেউ বলছে অসুস্থ, কেউ বলছে সন্তানদের পড়াশোনা, আবার কেউ বলছে বাসা পাচ্ছে না এই সব পুরনো, ক্লান্তিকর অজুহাত দেখিয়ে তারা মূলত সরকারি সম্পদ স্টাফ কোয়াটার জবরদখল করে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এরা কেউই কোয়ার্টার ছাড়ার মানসিকতা রাখে না; বরং নানা কৌশলে অবৈধ দখল দীর্ঘায়িত করতে চায়।
এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু দখলদার ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ডিভিশনের ডিএমডি, জিএম,ডিজিএম, এজিএম, এসপিওদের নাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের অবস্থান বৈধ দেখানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা স্পষ্টতই একটি অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রবণতা।
অনেকেই কোয়ার্টারকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে বসে আছে। তারা ভুলে গেছে,এটি রাষ্ট্রের সম্পদ কোনো ব্যক্তির আজীবন ভোগদখলের জায়গা নয়। এই ধরনের মানসিকতা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি চরম অবমাননা।
সবচেয়ে ভণ্ডামিপূর্ণ দিক হলো কিছু ব্যক্তি বাইরে ধর্মীয়তার মুখোশ পরে চললেও, ভেতরে তারা অবৈধ দখলদারিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে যদি অন্যের অধিকার হরণ করা হয়, তাহলে সেই ধার্মিকতার কোনো মূল্য থাকে না, এটা সরাসরি অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। আর কোনো সময়ক্ষেপণ নয়, আর কোনো অজুহাত নয় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কোয়ার্টারগুলো উদ্ধার করতে হবে।
রাষ্ট্রের সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ হওয়া উচিত। যারা এখনো দখল ছাড়তে গড়িমসি করছে, তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া দরকার আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এবং অবৈধ দখলের পরিণতি ভোগ করতেই হবে।
Reporter Name 


















