
স্টাফ রিপোর্টার: টিকটক যেখানে বিনোদনের কথা, সেখানেই গড়ে উঠেছে ভয়ংকর প্রতারণার জাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ইসরাত জাহান সাদিয়া তার স্বামী ও তার বাবা সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ১০ জনকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাদিয়া, তার স্বামী ইমরান হোসেন ইমন এবং তার পিতা মোঃ লিটন যারা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের নিঃস্ব করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শাকিল ও আরো ৯ জনের দাবি, হাঙ্গেরিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়। ধাপে ধাপে টাকা নেওয়ার পর কোনো ভিসা বা বিদেশ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়নি বরং শুরু হয় টালবাহানা, প্রতারণা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন।
চাঞ্চল্যকরভাবে, ৮ লাখ টাকার চেক প্রদান করেও তা ব্যাংকে জমা দিলে ‘পর্যাপ্ত অর্থ নেই’ বলে ফেরত আসে যা প্রতারণার আরেকটি স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একইভাবে সাদিয়ার বাবাও একটি চেক প্রদান করেন অন্য চেকও বাউন্স করে, ফলে ভুক্তভোগীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
অভিযোগ আরও গুরুতর টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়েছে হুমকি, এমনকি প্রাণনাশের ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এটি শুধু প্রতারণা নয়, বরং একটি ভয়ংকর অপরাধচক্রের তৎপরতা।
সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। নারীদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে অসামাজিক কাজে বাধ্য করার মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে যা পুরো ঘটনাকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা বলছেন, টিকটকের আড়ালে গড়ে ওঠা এই প্রতারণা সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাদের দাবি এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, না হলে আরও অনেক নিরীহ মানুষ একই ফাঁদে পড়বে।
এখন প্রশ্ন কতদিন এভাবে চলবে টিকটকের আড়ালে প্রতারণার এই কালো সাম্রাজ্য?
Reporter Name 


















