বাংলাদেশ ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুন, হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ২৩ Time View

বিশেষ প্রতিবেদক: ২ মে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র উদ্যোগে হাওরের জলবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তিন দফা বৃষ্টিতে এবং কয়েকটি হাওরের বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত হাওর অঞ্চলে অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত: ৮০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এখনো হাওরে এবং মেঘালয়ের পাহাড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

হাওরবাসী আজ ভয়াবহ দুর্যোগের সম্মুখীন। হাওরাঞ্চলের মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত হাওরের যে-সব জমির জমির ধান কাটা হয়েছে, সেসব ধান বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পচে গেছে। পানির তোড়ে মাড়াই করা ধান খলা থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছে। এসব ধান নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন হাওরের কৃষক।

এবছরের মতো অতীতে জলাবদ্ধতা এত ব্যাপক আকারে দেখা যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত অতিবৃষ্টি এবং হাওরের অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধ এই জলাবদ্ধতার জন্য মূলত দায়ী। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও গবেষণা ছাড়া হাহরে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এসব কোনো ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা খুব বাঁধে জরুরি।

মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়- হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী খাদ্য সহায়তা প্রদান। হাওরে ব্যাপক ভিত্তিতে নদী-খাল-বিল খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। হাওরের মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা। হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গবেষণা করে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে কৌশলগত অবস্থান নির্ণয় করে ফ্লুইস গেট নির্মাণ। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ ও এনজিও ঋণ-এর কিস্তি মওকুফ করা হোক। স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও গবেষকদের কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয় করে দ্রুত হাওরের সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাই এই মুহূর্তে হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

বন্যা হোক কিংবা জলাবদ্ধতা, উভয় ক্ষেত্রেই কৃষকের ক্ষতির ধরন একই। পানিতে তলিয়ে যায় স্বপ্নের সোনালি ফসল। কৃষকরা ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। ফসলের উপর নির্ভর করে কৃষি পরিবারের আচার অনুষ্ঠান, বিয়ে, সাদি, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ মেটানো হয়। শুধু ফসলই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তাই হাওরের ফসল হানী মানেই মানবিক বিপর্যয়। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। তাই সরকার সও সংশ্লিষ্ট সব মহলকে হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাওর অঞ্চলবাসীর প্রধান সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, এড. আবেদ রাজা চৌধুরী, ইমতেছার আহমেদ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম শফিক, এডভোকেট ফরিদ আহমেদ, প্রফেসর ডা: শাহীন রেজা চৌধুরী, প্রিন্সিপাল এম, এ মোনায়েম, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্কারের সভাপতি কাশমির রেজা, খালেদ সানোয়ার, বুরহান উদ্দিন আহমেদ, জহিরুল কাজল, হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু, ক্যাপ্টেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান ,কুতুব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, শফিকুল সজল, রুপক চৌধুরী, নাইমুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, বশির উদ্দিন ভূইয়া, ড. শরীফ এ সাকী, এড, তাজুল ইসলাম, কাইয়ুম সেলিম, মোঃ লিয়াকত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ হাবিব উল্লাহ, নাহিদা হাসান চৌধুরী, শাকিল মিয়া, সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা: সৈয়দ উমর খৈয়াম। পরিচালনা করেন মেনন চৌধুরী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুন, হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ান

Update Time : ০২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: ২ মে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র উদ্যোগে হাওরের জলবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তিন দফা বৃষ্টিতে এবং কয়েকটি হাওরের বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত হাওর অঞ্চলে অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত: ৮০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এখনো হাওরে এবং মেঘালয়ের পাহাড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

হাওরবাসী আজ ভয়াবহ দুর্যোগের সম্মুখীন। হাওরাঞ্চলের মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত হাওরের যে-সব জমির জমির ধান কাটা হয়েছে, সেসব ধান বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পচে গেছে। পানির তোড়ে মাড়াই করা ধান খলা থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছে। এসব ধান নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন হাওরের কৃষক।

এবছরের মতো অতীতে জলাবদ্ধতা এত ব্যাপক আকারে দেখা যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত অতিবৃষ্টি এবং হাওরের অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধ এই জলাবদ্ধতার জন্য মূলত দায়ী। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও গবেষণা ছাড়া হাহরে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এসব কোনো ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা খুব বাঁধে জরুরি।

মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়- হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী খাদ্য সহায়তা প্রদান। হাওরে ব্যাপক ভিত্তিতে নদী-খাল-বিল খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। হাওরের মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা। হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গবেষণা করে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে কৌশলগত অবস্থান নির্ণয় করে ফ্লুইস গেট নির্মাণ। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ ও এনজিও ঋণ-এর কিস্তি মওকুফ করা হোক। স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও গবেষকদের কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয় করে দ্রুত হাওরের সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাই এই মুহূর্তে হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

বন্যা হোক কিংবা জলাবদ্ধতা, উভয় ক্ষেত্রেই কৃষকের ক্ষতির ধরন একই। পানিতে তলিয়ে যায় স্বপ্নের সোনালি ফসল। কৃষকরা ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। ফসলের উপর নির্ভর করে কৃষি পরিবারের আচার অনুষ্ঠান, বিয়ে, সাদি, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ মেটানো হয়। শুধু ফসলই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তাই হাওরের ফসল হানী মানেই মানবিক বিপর্যয়। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। তাই সরকার সও সংশ্লিষ্ট সব মহলকে হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাওর অঞ্চলবাসীর প্রধান সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, এড. আবেদ রাজা চৌধুরী, ইমতেছার আহমেদ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম শফিক, এডভোকেট ফরিদ আহমেদ, প্রফেসর ডা: শাহীন রেজা চৌধুরী, প্রিন্সিপাল এম, এ মোনায়েম, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্কারের সভাপতি কাশমির রেজা, খালেদ সানোয়ার, বুরহান উদ্দিন আহমেদ, জহিরুল কাজল, হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু, ক্যাপ্টেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান ,কুতুব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, শফিকুল সজল, রুপক চৌধুরী, নাইমুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, বশির উদ্দিন ভূইয়া, ড. শরীফ এ সাকী, এড, তাজুল ইসলাম, কাইয়ুম সেলিম, মোঃ লিয়াকত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ হাবিব উল্লাহ, নাহিদা হাসান চৌধুরী, শাকিল মিয়া, সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা: সৈয়দ উমর খৈয়াম। পরিচালনা করেন মেনন চৌধুরী।