বাংলাদেশ ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউনিয়ায় কচুরিপানা ফুলের মায়াবী রূপ: প্রকৃতি ও কৃষিতে আনছে নতুন সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ২৮ Time View

মন্জুরুল আহসান শামীম স্টাফ রিপোর্টারঃ বর্ষার আগমনে প্রকৃতির এক অপরূপ ললিত সাজে সেজেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ও অবহেলিত উদ্ভিদ কচুরিপানা এখন তার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসেছে। উপজেলার আনাচে-কানাচে ফুটে থাকা এই মনোমুগ্ধকর ফুল যে কাউকেই বিমুগ্ধ করছে।

 

কবির সেই চিরন্তন বাণী— “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া”— যেন সার্থকতা পেয়েছে কাউনিয়ার জলাশয়গুলোতে। উপজেলার মানাস নদী, বেতানীর দোলা, থলের দোলা এবং নিজপাড়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ডোবা-নালায় এখন বেগুনি আর সাদাটে রঙের কচুরি ফুলের সমারোহ। বিকেলের নরম আলোয় এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। গ্রামীণ শিশুরা মেতে উঠছে কচুরি ফুল তোলার আনন্দে।

 

টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, এক সময় উপজেলার খাল-বিলগুলো কচুরিপানা ফুলে এলাকাটিকে এক মায়াবী রূপ দিত। তবে ক্রমান্বয়ে জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই প্রাকৃতিক দৃশ্যটি আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। তবুও এ বছর বর্ষার শুরুতেই বিল-ঝিলের এই সাজ জনমনে প্রশান্তি জাগাচ্ছে।

 

সৌন্দর্যের পাশাপাশি কচুরিপানার অর্থনৈতিক ও কৃষিভিত্তিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার। তিনি জানান, কচুরিপানা কেবল সৌন্দর্যই ছড়ায় না, বরং এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদও বটে। কৃষকরা বর্তমানে কচুরিপানা তুলে পচিয়ে আলু, রসুন, মাসকালাই ও পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে জমির উর্বরতা বাড়ার পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা ও খরচ—উভয়ই কমছে। কৃষকদের এই কচুরিপানা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিলে তারা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি গবাদিপশুর খাদ্যের সংকটও অনেকাংশে দূর হবে।

 

প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা আর কৃষির নতুন সম্ভাবনা মিলিয়ে কাউনিয়ার কচুরিপানা এখন এলাকাবাসীর কাছে ভিন্ন মাত্রায় ধরা দিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

কাউনিয়ায় কচুরিপানা ফুলের মায়াবী রূপ: প্রকৃতি ও কৃষিতে আনছে নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

মন্জুরুল আহসান শামীম স্টাফ রিপোর্টারঃ বর্ষার আগমনে প্রকৃতির এক অপরূপ ললিত সাজে সেজেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ও অবহেলিত উদ্ভিদ কচুরিপানা এখন তার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসেছে। উপজেলার আনাচে-কানাচে ফুটে থাকা এই মনোমুগ্ধকর ফুল যে কাউকেই বিমুগ্ধ করছে।

 

কবির সেই চিরন্তন বাণী— “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া”— যেন সার্থকতা পেয়েছে কাউনিয়ার জলাশয়গুলোতে। উপজেলার মানাস নদী, বেতানীর দোলা, থলের দোলা এবং নিজপাড়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ডোবা-নালায় এখন বেগুনি আর সাদাটে রঙের কচুরি ফুলের সমারোহ। বিকেলের নরম আলোয় এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। গ্রামীণ শিশুরা মেতে উঠছে কচুরি ফুল তোলার আনন্দে।

 

টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, এক সময় উপজেলার খাল-বিলগুলো কচুরিপানা ফুলে এলাকাটিকে এক মায়াবী রূপ দিত। তবে ক্রমান্বয়ে জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই প্রাকৃতিক দৃশ্যটি আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। তবুও এ বছর বর্ষার শুরুতেই বিল-ঝিলের এই সাজ জনমনে প্রশান্তি জাগাচ্ছে।

 

সৌন্দর্যের পাশাপাশি কচুরিপানার অর্থনৈতিক ও কৃষিভিত্তিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার। তিনি জানান, কচুরিপানা কেবল সৌন্দর্যই ছড়ায় না, বরং এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদও বটে। কৃষকরা বর্তমানে কচুরিপানা তুলে পচিয়ে আলু, রসুন, মাসকালাই ও পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে জমির উর্বরতা বাড়ার পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা ও খরচ—উভয়ই কমছে। কৃষকদের এই কচুরিপানা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিলে তারা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি গবাদিপশুর খাদ্যের সংকটও অনেকাংশে দূর হবে।

 

প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা আর কৃষির নতুন সম্ভাবনা মিলিয়ে কাউনিয়ার কচুরিপানা এখন এলাকাবাসীর কাছে ভিন্ন মাত্রায় ধরা দিচ্ছে।