
মন্জুরুল আহসান শামীম,স্টাফ রিপোর্টারঃ কাউনিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সেচ আর কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে মাঠ সোনালি রঙে ভরে উঠলেও বাজারদরের নিম্নমুখী প্রবণতায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় চাষিদের। বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন দিশেহারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় প্রায় ৭ হাজার ৫৪৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে আশাতীত। কিন্তু ফসলের এই প্রাচুর্যই এখন কৃষকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও রয়েছে না পাওয়ার বেদনা। হরিশ্বর গ্রামের কৃষক রফিকুল বলেন, “ইঁদুরের আক্রমণ আর কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আমরা ফসল ঘরে তুলছি। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১,২০০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮৫০ টাকায়। এভাবে চললে আগামীতে চাষাবাদ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের মূল্য নির্ধারিত থাকলেও সাধারণ কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছেন না প্রান্তিক চাষিরা। ফলে তারা স্থানীয় বাজারেই কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া উপজেলার অনেক প্রান্তিক চাষি এখনো সরকারি ‘কৃষি কার্ড’-এর আওতায় আসেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কার্ড না থাকায় তারা বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবারহ বেড়েছে, যার প্রভাবে দাম কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে কৃষকদের এই সমস্যাগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রকৃত চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সংগ্রহ অভিযানে স্বচ্ছতা আনা এবং দ্রুত কৃষি কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা না করলে কাউনিয়ার কৃষকদের এই বড় লোকসান থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
Reporter Name 


















