
মো: মেহেরাজ ইসলাম (বগুড়া সদর প্রতিনিধি) বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ডিবি/পুলিশ/সাংবাদিক নামে মিথ্যা পরিচয়ে কৌশলে অটোরিক্সা/ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একটি চক্রকে আটক করা হয়েছে। ছিনতাইকারী এ চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের তথ্যমতে ৪ টি ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা/ইজিবাইক উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ৷ এসময় তাদের ব্যবহৃত ২টি ওয়াকিটকি ১টি প্রাইভেটকার ও ৬ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর থানায় এক ভিকটিমের লিখিত এজাহার দায়ের করেন যে, গত ২৫/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা যাত্রীকে নিয়ে তিনি বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালে যান। তার ইজিবাইকে বহনকারী অজ্ঞাতনামা যাত্রীর পরিচিত একজন লোক সেখানে আসে। তারা পরস্পর কথা বলে। অনুঃ ৫/৬ মিনিট পর তার ইজিবাইকে বহনকারী অজ্ঞাতনামা যাত্রী তার সঙ্গে কথা বলা লোককে দেখিয়ে বলে তুমি ওর সাথে যাও এবং ওর মাইক্রোবাসে থাকা কাগজটা নিয়ে চলে আসো, আমি তোমার ইজিবাইকে বসে আছি। বাদী যেতে না চাইলে সে নিজেকে বগুড়া সদর থানার সিভিল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে ঝারি মারে।বাদী তার কাছে একটি ছোট ওয়্যারলেস সেট দেখতে পায়। বাদীর বাটন মোবাইল চেয়ে রেখে দেয়। বাদী সেখানে গিয়ে দেখিতে পান উক্ত ব্যক্তি সেখানে নাই। কিছুক্ষন খোঁজাখুজি করে না পাইয়া বাদী পুনরায় তার ইজিবাইকের কাছে এসে দেখিতে পান তার ইজিবাইকসহ তার ইজিবাইকে বসা অজ্ঞাতনামা যাত্রী নাই। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করিয়াও পাওয়া যায় নাই। উক্ত এজাহারের প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানার মামলা নং-২৭, তারিখ-০৫/০৫/২০২৬; ধারা-১৭০/৩৭১ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু হয়।
উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম মহোদয় এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় বগুড়া সদর থানার পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা, বগুড়া ছায়াতদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা, বগুড়া’র অফিসার ইনচার্জ এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফজলুল হক এর নেতৃত্বে বগুড়া ডিবির একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও নিঁখুত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া ০৫/০৫/২০২৬ খ্রি. ভোর ০৫.৪৫ ঘটিকার সময় বগুড়া জেলার সদর থানাধীন চারামাথা এলাকায় অবস্থিত খাজা হইওয়ে হোটেল (আবাসিক/বোডিং) এ অভিযান পরিচালনা করিয়া উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ১। মোঃ মামুন শিকদার (৪০), পিতা-মোঃ মনজিল শিকদার, মাতা-খাইরুন নেছা, সাং-দক্ষিণ চর মশুরা, থানা-মুন্সীগঞ্জ, ২। মোঃ মিঠু পাটোয়ারী (৩০), পিতা-বাবুল পাটোয়ারী, মাতা-মৃত শিউলি, সাং-কবিরাজ দুধল, সাং-বাকেরগঞ্জ, জেলা-বরিশাল ৩। মোঃ সুমন মিয়া (৩০), পিতা-মোঃ মধু মন্ডল, মাতা-মোছাঃ শামছুন্নাহার বেগম, সাং-ব্যাপারীপাড়া, থানা ও জেলা-গাইবান্ধা, ৪। মোঃ জাকির হোসেন (৪০), পিতা-মৃত আনোয়োর হোসেন, মাতা-মৃত আনোয়ারা বেগম, সাং-বালিপাড়া (বালিয়াতলা), থানা-কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী, ৫। মোঃ নিজাম (৪৬), পিতা-আবুল কাশেম হাওলাদার, মাতা-মৃত লাল বরু বেগম, সাং-জৌতা, থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী’গনদেরকে গ্রেফতার পূর্বক তাদের হেফাজত হইতে চোরাইকাজে ব্যবহৃত ১। ০২(দুই)টি ওয়াকিটকি সেট, ২।০১(এক) টি ওয়াকিটকি সেটের চার্জার, ৩। ০১(এক) টি ওয়াকিটকি সেটেরে অতিরিক্ত ব্যটারী, ৪।০১(এক) টি প্রাইভেটকার চাবিসহ, ৫। ০৬(ছয়) টি অটো গাড়ির চাবি, ৬।০৫(পাঁচ) টি বাটন মোবাইল ফোন, ৭।০১(এক) টি স্মার্ট মোবাইল ফোন, ৮।০১(এক) টি মার্তুল, ৯।০১(এক) টি কালো কসটেপ উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, বগুড়া জেলা হইতে চারটি অটোরিক্সা/ইজিবাইক ছিনতাই করে রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানার অর্ন্তগত বানুপাড়া এলাকায় বিক্রি করিয়াছে।ধৃত আসামীদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক উল্লেখিত এলাকায় ০৫/০৫/২০২৬ খ্রি. ১৪.৩০ ঘটিকার সময় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করিয়া চোরাই অটোরিক্সা/ইজিবাইক ক্রয়কারী ব্যবসায়ী আসামী ৬। মোঃ ওবায়দুল ইসলাম বেগ (৪০), পিতা-মোঃ মকবুল বেগ, মাতা-মোছাঃ উম্মে কুলসুম, ও ৭। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪২), পিতা-মৃত সোলায়মান মিয়া, মাতা-মোছাঃ জামিলা বেগম, উভয় সাং-বানুপাড়া, থানা-হারাগাছ, জেলা-রংপুরদ্বয়কে গ্রেফতার পূর্বক আসামী মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর দোকান হইতে বাদীর ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা/ইজিবাইক সহ বিভিন্ন মডেলের সর্বমোট ০৪(চার) টি ছিনতাইকৃত অটোরক্সা/ইজিবাইক উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
সিডিএমএস পর্যালোচনায় ধৃত আসামী ১। মোঃ মামুন শিকদার (৪০), এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ০১ টি চুরি মামলা, ২। মোঃ মিঠু পাটোয়ারী (৩০) এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ০২ টি চুরি মামলা, ৪। মোঃ জাকির হোসেন (৪০), এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ০৩ টি চুরি/দস্যুতা মামলা, ৫। মোঃ নিজাম (৪৬), এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ০১ টি চুরি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
প্রকাশ থাকে যে, ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হইতেছে।
Reporter Name 


















