বাংলাদেশ ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে নামকরণের সার্থকতা: বিলুপ্তির পথে কাউনিয়ার ‘কাউন’।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৬০ Time View

মন্জুরুল আহসান শামীম,স্টাফ রিপোর্টারঃ এক সময়ের প্রবাদপ্রতিম ‘কাউনিয়ার কাউন’ এখন শুধুই ইতিহাস হওয়ার পথে। যার নামে এই জনপদ, সেই চরাঞ্চলেই এখন আর কাউনের সোনালী শীষের দেখা মেলে না। আধুনিক ফসলের আগ্রাসনে আর ন্যায্য দামের অভাবে কাউনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে আদি এই কৃষিপণ্য।

 

গদাই গ্রামের কৃষক নজু মিয়ার কণ্ঠে ঝরল আক্ষেপ। তিনি বলেন, “লাভ নেই, তাই কাউন বুনি না।” একই সুর চর নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের। তিনি জানান, নতুন নতুন ফসল অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই বংশপরম্পরায় চলে আসা এই কাউন চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। এমনকি প্রাণনাথ চরের কৃষক আনোয়ার হোসেনের আশঙ্কা আরও ভয়ংকর—এভাবে চললে আগামী এক যুগের মধ্যে কাউন চাষ কেবল রূপকথার গল্পে পরিণত হবে।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের কাছেও নেই কাউন চাষের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতারের মতে, কাউন এখন আর মানুষের খাবার নয়, বরং সৌখিন পাখি পালনের সরঞ্জামে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিকল্প ও আধুনিক চাষে উৎসাহিত করলেও স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন।

 

তারা মনে করেন, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা আর সরকারি প্রণোদনা না পেলে কাউনিয়া হারাবে তার নামকরণের আসল সার্থকতা। ঐতিহ্যের এই ফসলটিকে রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এখন চরাঞ্চলবাসীর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

হারিয়ে যাচ্ছে নামকরণের সার্থকতা: বিলুপ্তির পথে কাউনিয়ার ‘কাউন’।

Update Time : ০৩:১০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মন্জুরুল আহসান শামীম,স্টাফ রিপোর্টারঃ এক সময়ের প্রবাদপ্রতিম ‘কাউনিয়ার কাউন’ এখন শুধুই ইতিহাস হওয়ার পথে। যার নামে এই জনপদ, সেই চরাঞ্চলেই এখন আর কাউনের সোনালী শীষের দেখা মেলে না। আধুনিক ফসলের আগ্রাসনে আর ন্যায্য দামের অভাবে কাউনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে আদি এই কৃষিপণ্য।

 

গদাই গ্রামের কৃষক নজু মিয়ার কণ্ঠে ঝরল আক্ষেপ। তিনি বলেন, “লাভ নেই, তাই কাউন বুনি না।” একই সুর চর নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের। তিনি জানান, নতুন নতুন ফসল অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই বংশপরম্পরায় চলে আসা এই কাউন চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। এমনকি প্রাণনাথ চরের কৃষক আনোয়ার হোসেনের আশঙ্কা আরও ভয়ংকর—এভাবে চললে আগামী এক যুগের মধ্যে কাউন চাষ কেবল রূপকথার গল্পে পরিণত হবে।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের কাছেও নেই কাউন চাষের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতারের মতে, কাউন এখন আর মানুষের খাবার নয়, বরং সৌখিন পাখি পালনের সরঞ্জামে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিকল্প ও আধুনিক চাষে উৎসাহিত করলেও স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন।

 

তারা মনে করেন, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা আর সরকারি প্রণোদনা না পেলে কাউনিয়া হারাবে তার নামকরণের আসল সার্থকতা। ঐতিহ্যের এই ফসলটিকে রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এখন চরাঞ্চলবাসীর।