
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ বাজার এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি পুকুর দখল করে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের অভিযোগে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের একাংশ এবং উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নীরবতা ও সহযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ হাট মৌজার এস.এ দাগ নং-১৩৮ এবং আর.এস দাগ নং-১১৬৪ এর প্রায় ১০ শতক জমি সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এবং জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডকৃত। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাব ভবনের জন্য ওই জমি বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করা হলেও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন বা বৈধ লিজ ছাড়াই সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, পুকুর শ্রেণির জমি পরিবর্তনের আইনগত সুযোগ না থাকলেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে শ্রেণি পরিবর্তনের সুপারিশ এনে ভবন নির্মাণের পথ তৈরি করা হয়। পরে দ্রুততার সঙ্গে ভবনের কাজ শেষ করে সেটি উদ্বোধনও করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া তালুকদার এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদা সংগ্রহ এবং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান সদস্য অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণের নামে সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হলেও তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি হিসাব ও কাগজপত্র চাইতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য ও সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভবন নির্মাণ ও অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনিয়ম ও মামলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক সাংবাদিক ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন, সরকারি পুকুর ভরাট করে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় এটি সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো একের পর এক দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে নবীগঞ্জ জে কে উচ্চ বিদ্যালয় এর সাবেক শিক্ষার্থীরাও পুকুরটি রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একসময় পুকুরটি ছিল এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ এবং জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। এখন সেটি দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সরকারি পুকুরটি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তারা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 


















