বাংলাদেশ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকার নেই, তবুও থামছে না প্রক্রিয়া: কে পড়াবেন নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬০ Time View

বিকাল বার্তা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পরপরই সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ২১২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শপথ পড়ানোর দায়িত্ব যাদের, সেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর কার্যত স্পিকারের পদ শূন্য। ফলে শুরু হয়েছে আইনি ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক।

 

তিন দিনের সময়সীমা, চাপ বাড়ছে?

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমা ঘিরেই বাড়ছে প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বিকল্প ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

বিকল্প কী?

প্রথমত, রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত ব্যক্তি যদি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।

অর্থাৎ, সাংবিধানিক শূন্যতার সুযোগ নেই যে কোনো পরিস্থিতিতেই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

সরকার গঠন কার হাতে?

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন যিনি রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর পক্ষেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক পথ সুগম হয়েছে।

দলীয় নেতা সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এরপর মন্ত্রিসভা গঠন এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তরিত হবে। আলাদা কোনো প্রশাসনিক ঘোষণা প্রয়োজন হবে না।

রাজনৈতিক বাস্তবতা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত শপথ ও সরকার গঠন না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে এখন নজর সবার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত এবং শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণের পর গণভোটসহ নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন। এখন শুধু শপথ তারপরই শুরু হবে নতুন সরকারের অধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

স্পিকার নেই, তবুও থামছে না প্রক্রিয়া: কে পড়াবেন নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ?

Update Time : ০৮:৩৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিকাল বার্তা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পরপরই সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ২১২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শপথ পড়ানোর দায়িত্ব যাদের, সেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর কার্যত স্পিকারের পদ শূন্য। ফলে শুরু হয়েছে আইনি ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক।

 

তিন দিনের সময়সীমা, চাপ বাড়ছে?

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমা ঘিরেই বাড়ছে প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বিকল্প ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

বিকল্প কী?

প্রথমত, রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত ব্যক্তি যদি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।

অর্থাৎ, সাংবিধানিক শূন্যতার সুযোগ নেই যে কোনো পরিস্থিতিতেই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

সরকার গঠন কার হাতে?

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন যিনি রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর পক্ষেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক পথ সুগম হয়েছে।

দলীয় নেতা সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এরপর মন্ত্রিসভা গঠন এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তরিত হবে। আলাদা কোনো প্রশাসনিক ঘোষণা প্রয়োজন হবে না।

রাজনৈতিক বাস্তবতা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত শপথ ও সরকার গঠন না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে এখন নজর সবার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত এবং শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণের পর গণভোটসহ নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন। এখন শুধু শপথ তারপরই শুরু হবে নতুন সরকারের অধ্যায়।