বাংলাদেশ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকা প্রকাশে টালবাহানা ইউএনওর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৯০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ‘নয়-ছয়’-এর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন এর বিরুদ্ধে । প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বিতরণ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশে উপজেলা প্রশাসনের গড়িমসি নিয়ে মসজিদ মাদ্রাসার মুসল্লী, আলেম স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে কার্যালয় গিয়ে দেখা যায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত খেজুর না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাথে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বাকবিতন্ডায় চলছে।

জানতে চাইলে হাসান নগর ইউনিয়ন থেকে আসা মাওলানা আবদুল হাসেম জানান সহ পবিত্র মাহে রমজান মাসে হুজুর মাওলানা সহ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয় কিন্তু তারা তা পায়নি।

গঙ্গাপুর ইউনিয়ন থেকে আসা মসজিদের ইমাম হাফেজ রুহুল আমিন বলেন সরকারিভাবে খেজুর দেওয়া হবে শুনে আমরা ইউএনও অফিসে এসেছি কিন্তু এসে দেখি কোন খেজুর নেই সব খেজুর বিতরণ হয়ে গেছে।

এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ওই খেজুর কীভাবে এবং কারা পেয়েছেন—এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য কেউ জানেনা এবং এর কোন তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ রয়েছে বরাদ্দকৃত খেজুরের সঠিক বণ্টন নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিলো বলেও দাবি তাদের।

তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার পছন্দের লোকজনদের মাঝে খেজুর বিতরণ করেছেন।

তালিকা চাওয়ার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে তা দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ খেজুর পেয়েছেন কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অতি জরুরি। তারা দ্রুত খেজুর বিতরণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ীই খেজুর বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকা প্রকাশে টালবাহানা ইউএনওর

Update Time : ০৬:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ‘নয়-ছয়’-এর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন এর বিরুদ্ধে । প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বিতরণ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশে উপজেলা প্রশাসনের গড়িমসি নিয়ে মসজিদ মাদ্রাসার মুসল্লী, আলেম স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে কার্যালয় গিয়ে দেখা যায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত খেজুর না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাথে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বাকবিতন্ডায় চলছে।

জানতে চাইলে হাসান নগর ইউনিয়ন থেকে আসা মাওলানা আবদুল হাসেম জানান সহ পবিত্র মাহে রমজান মাসে হুজুর মাওলানা সহ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয় কিন্তু তারা তা পায়নি।

গঙ্গাপুর ইউনিয়ন থেকে আসা মসজিদের ইমাম হাফেজ রুহুল আমিন বলেন সরকারিভাবে খেজুর দেওয়া হবে শুনে আমরা ইউএনও অফিসে এসেছি কিন্তু এসে দেখি কোন খেজুর নেই সব খেজুর বিতরণ হয়ে গেছে।

এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ওই খেজুর কীভাবে এবং কারা পেয়েছেন—এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য কেউ জানেনা এবং এর কোন তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ রয়েছে বরাদ্দকৃত খেজুরের সঠিক বণ্টন নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিলো বলেও দাবি তাদের।

তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার পছন্দের লোকজনদের মাঝে খেজুর বিতরণ করেছেন।

তালিকা চাওয়ার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে তা দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ খেজুর পেয়েছেন কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অতি জরুরি। তারা দ্রুত খেজুর বিতরণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ীই খেজুর বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।