বাংলাদেশ ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় নেই গ্রীড ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে ৩ লাখ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৯২ Time View

 

কে এম বেলাল

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা, 

বরগুনার পাথরঘাটায় আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে থমকে যায় বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা কথাটি হাস্যকর মনে হলে এটাই দিন দিন বাস্তব হয়ে যাচ্ছে পাথরঘাটার মানুষের কাছে । আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে ,একটু বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ভান্ডারিয়া গ্রিডের সাথে থাকা সংযোগ ব্যবস্থা । নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় জনমানুষের জীবন যাত্রার মান। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা হয়ে যায় অকার্যকর। নিকটতম  গ্রিট ব্যবস্থা পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বৈরী আবহাওয়া, বজ্রপাত বা সামান্য ঝড়ো হাওয়াতেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় পাথরঘাটার ১৩০০ কিলোমিটার লাইনের ৬০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ।

 

 

 

বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ, বাজার, হাসপাতালসহ প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছে উপজেলার মৎস্য খাত। কারণ এখানে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অচল হয়ে পড়ছে।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে লোকসানের টাকা গুনতে হয় তাদের। মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ তৈরি করা যাচ্ছে না সময়মতো। বিদ্যুৎ না থাকায় আইস প্ল্যান্টগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু মাছের গুণগত মানই নষ্ট হচ্ছে না, আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে হাজারো জেলেকে।

 

 

 

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। তাদের দাবি, দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ গ্রীড স্থাপন করা হোক, যাতে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে এবং মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যায়।

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীল রতন সরকার বলেন,বিদ্যুৎ না থাকার কারনে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। সকল প্রকার পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে । এছাড়া হাসপাতালের ফ্রিজে রাখা বিভিন্ন প্রকার ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরিফ শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, পাথরঘাটার বিদ্যুৎ লাইনটি দীর্ঘ ৬৬ কিলোমিটার দূরত্বে ভান্ডারিয়া হওয়ায় ৬৬ কিলোমিটার মধ্যে যেকোন স্থানে সমস্যা দেখা দিলেই গোটা পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই দীর্ঘ লাইনের সমস্যা খুঁজে বের করা সময় সাপেক্ষ। এই কারণেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে পাথরঘাটায়।

 

 

তিনি আরও বলেন , বরগুনায় গ্রিড থেকে একটি সংযোগের অনুমোদন পেয়েছি আমরা । এই লাইনটি দ্রুত চালু হলে সমস্যার সমাধান হবে। এই লাইন চালু হতে প্রায় এক বছর অধিক সময় দরকার।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পাথরঘাটায় নেই গ্রীড ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে ৩ লাখ মানুষ

Update Time : ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

 

কে এম বেলাল

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা, 

বরগুনার পাথরঘাটায় আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে থমকে যায় বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা কথাটি হাস্যকর মনে হলে এটাই দিন দিন বাস্তব হয়ে যাচ্ছে পাথরঘাটার মানুষের কাছে । আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে ,একটু বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ভান্ডারিয়া গ্রিডের সাথে থাকা সংযোগ ব্যবস্থা । নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় জনমানুষের জীবন যাত্রার মান। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা হয়ে যায় অকার্যকর। নিকটতম  গ্রিট ব্যবস্থা পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বৈরী আবহাওয়া, বজ্রপাত বা সামান্য ঝড়ো হাওয়াতেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় পাথরঘাটার ১৩০০ কিলোমিটার লাইনের ৬০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ।

 

 

 

বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ, বাজার, হাসপাতালসহ প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছে উপজেলার মৎস্য খাত। কারণ এখানে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অচল হয়ে পড়ছে।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে লোকসানের টাকা গুনতে হয় তাদের। মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ তৈরি করা যাচ্ছে না সময়মতো। বিদ্যুৎ না থাকায় আইস প্ল্যান্টগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু মাছের গুণগত মানই নষ্ট হচ্ছে না, আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে হাজারো জেলেকে।

 

 

 

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। তাদের দাবি, দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ গ্রীড স্থাপন করা হোক, যাতে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে এবং মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যায়।

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীল রতন সরকার বলেন,বিদ্যুৎ না থাকার কারনে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। সকল প্রকার পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে । এছাড়া হাসপাতালের ফ্রিজে রাখা বিভিন্ন প্রকার ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরিফ শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, পাথরঘাটার বিদ্যুৎ লাইনটি দীর্ঘ ৬৬ কিলোমিটার দূরত্বে ভান্ডারিয়া হওয়ায় ৬৬ কিলোমিটার মধ্যে যেকোন স্থানে সমস্যা দেখা দিলেই গোটা পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই দীর্ঘ লাইনের সমস্যা খুঁজে বের করা সময় সাপেক্ষ। এই কারণেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে পাথরঘাটায়।

 

 

তিনি আরও বলেন , বরগুনায় গ্রিড থেকে একটি সংযোগের অনুমোদন পেয়েছি আমরা । এই লাইনটি দ্রুত চালু হলে সমস্যার সমাধান হবে। এই লাইন চালু হতে প্রায় এক বছর অধিক সময় দরকার।