বাংলাদেশ ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে স্পিডবোটচালিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনজন হাসপাতালে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮২ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার- তানজিল হোসেন:

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন-সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আহতদের ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

 

গুলিবিদ্ধরা হলেন—কাচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আয়ুব আলীর ছেলে শাজাহান মীর (৭০), ছিদ্দিক উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আলী মৃধা (৬০) এবং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নয়নের ছেলে অপূর্ব শুভ (১৭)।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর প্রতিবাদে শতাধিক বাসিন্দা একত্রিত হয়ে নদীতে গিয়ে বালু উত্তোলনের সময় একটি ড্রেজার আটক করেন। পরে স্পিডবোটযোগে একদল সন্ত্রাসী সেখানে এসে এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

আহত শাজাহান মীর, মোহাম্মদ আলী ও শুভ বলেন, “মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের ভিটেমাটি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শতাধিক এলাকাবাসী নদীতে গিয়ে একটি ড্রেজারকে বাধা দিই এবং উত্তোলন বন্ধ করি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সন্ত্রাসীরা স্পিডবোটযোগে এসে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আমাদের প্রত্যেকের শরীরে একটি করে গুলি লাগে।”

 

ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে তিনজন গুলিবিদ্ধ রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। সবার শরীরে একটি করে ছররা গুলি পাওয়া গেছে। তারা শঙ্কামুক্ত এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “আহতদের ওপর একটি গ্রুপ হামলা চালিয়েছে—এ রকম একটি খবর পেয়েছি। সেখানে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে স্পিডবোটচালিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনজন হাসপাতালে

Update Time : ০৩:২১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

 

স্টাফ রিপোর্টার- তানজিল হোসেন:

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন-সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আহতদের ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

 

গুলিবিদ্ধরা হলেন—কাচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আয়ুব আলীর ছেলে শাজাহান মীর (৭০), ছিদ্দিক উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আলী মৃধা (৬০) এবং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নয়নের ছেলে অপূর্ব শুভ (১৭)।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর প্রতিবাদে শতাধিক বাসিন্দা একত্রিত হয়ে নদীতে গিয়ে বালু উত্তোলনের সময় একটি ড্রেজার আটক করেন। পরে স্পিডবোটযোগে একদল সন্ত্রাসী সেখানে এসে এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

আহত শাজাহান মীর, মোহাম্মদ আলী ও শুভ বলেন, “মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের ভিটেমাটি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শতাধিক এলাকাবাসী নদীতে গিয়ে একটি ড্রেজারকে বাধা দিই এবং উত্তোলন বন্ধ করি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সন্ত্রাসীরা স্পিডবোটযোগে এসে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আমাদের প্রত্যেকের শরীরে একটি করে গুলি লাগে।”

 

ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে তিনজন গুলিবিদ্ধ রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। সবার শরীরে একটি করে ছররা গুলি পাওয়া গেছে। তারা শঙ্কামুক্ত এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “আহতদের ওপর একটি গ্রুপ হামলা চালিয়েছে—এ রকম একটি খবর পেয়েছি। সেখানে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”