বাংলাদেশ ১০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে ভেদুরিয়ায় মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার-আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে ভেদুরিয়ার ১২ তারিখ নামক স্থানে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, (সোমবার) সকাল ১১টায় সর্বস্তরের জনসাধারণ হাতে নানান স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, নদী পারাপারের দুর্ভোগ এবং প্রতিশ্রুতি–বিলম্বের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভোলা–বরিশাল সেতু কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি ভোলাবাসীর বেঁচে থাকার অনিবার্য দাবি। স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, জরুরি চিকিৎসার রোগী, শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে সেতু নির্মাণে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। জনগণ আর অপেক্ষা করতে চায় না।”

 

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুফতি নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক; মুফতি নাঈম হাসান, সিনিয়র শিক্ষক জামিয়াতুস সুন্নাহ ভেদুরিয়া–ভোলার অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। তারা বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে যাতায়াত করতে হয়, যা তাদের জীবন ও শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার দিন কিংবা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সময়মতো পারাপার না হওয়ায় তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, সেতু না থাকার কারণে ভোলার আঞ্চলিক অর্থনীতি বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ছে। কৃষিপণ্য, মাছ, শিল্পকারখানার পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছেন এবং ভোলার সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উন্নয়ন বঞ্চনার প্রতিবাদে বক্তাদের তীব্র ক্ষোভ, পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন— “ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ শুধু ভোলার মানুষের দাবি নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। অতএব, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন, এবং জাতীয় বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।”

 

এসময় আয়োজক সংস্থা ও উপস্থিত জনসাধারণ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন— ১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দ্রুত বাস্তবায়ন। ২. ভোলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন। ৩. ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা। ৪. ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ৫. নন্দীভাঙ্গন প্রতিরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ।

 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের উপস্থিতি মানববন্ধনটিকে এলাকাব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। মানববন্ধন শেষে বক্তারা ঘোষণা দেন, ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোঃ জুয়েল। তিনি ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “ভোলা–বরিশাল সেতু এখন আর কেবল দাবি নয়, এটি ভোলাবাসীর অধিকার। দেশের উন্নয়ন ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার স্বার্থে এ সেতু নির্মাণ জরুরি।”

 

আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহকারী অর্থ সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নূরনবী, কার্যকরী সদস্য মোঃ সোহেল, মোঃ রাকিব, মোঃ হাসান, মোঃ রিয়াজ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ লাল মিয়া, মোঃ নুর ইসলাম, মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, মোহাম্মদ রাকিব, সবুজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে ভেদুরিয়ায় মানববন্ধন

Update Time : ০৩:১৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার-আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে ভেদুরিয়ার ১২ তারিখ নামক স্থানে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, (সোমবার) সকাল ১১টায় সর্বস্তরের জনসাধারণ হাতে নানান স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, নদী পারাপারের দুর্ভোগ এবং প্রতিশ্রুতি–বিলম্বের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভোলা–বরিশাল সেতু কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি ভোলাবাসীর বেঁচে থাকার অনিবার্য দাবি। স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, জরুরি চিকিৎসার রোগী, শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে সেতু নির্মাণে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। জনগণ আর অপেক্ষা করতে চায় না।”

 

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুফতি নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক; মুফতি নাঈম হাসান, সিনিয়র শিক্ষক জামিয়াতুস সুন্নাহ ভেদুরিয়া–ভোলার অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। তারা বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে যাতায়াত করতে হয়, যা তাদের জীবন ও শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার দিন কিংবা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সময়মতো পারাপার না হওয়ায় তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, সেতু না থাকার কারণে ভোলার আঞ্চলিক অর্থনীতি বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ছে। কৃষিপণ্য, মাছ, শিল্পকারখানার পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছেন এবং ভোলার সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উন্নয়ন বঞ্চনার প্রতিবাদে বক্তাদের তীব্র ক্ষোভ, পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন— “ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ শুধু ভোলার মানুষের দাবি নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। অতএব, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন, এবং জাতীয় বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।”

 

এসময় আয়োজক সংস্থা ও উপস্থিত জনসাধারণ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন— ১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দ্রুত বাস্তবায়ন। ২. ভোলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন। ৩. ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা। ৪. ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ৫. নন্দীভাঙ্গন প্রতিরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ।

 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের উপস্থিতি মানববন্ধনটিকে এলাকাব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। মানববন্ধন শেষে বক্তারা ঘোষণা দেন, ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোঃ জুয়েল। তিনি ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “ভোলা–বরিশাল সেতু এখন আর কেবল দাবি নয়, এটি ভোলাবাসীর অধিকার। দেশের উন্নয়ন ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার স্বার্থে এ সেতু নির্মাণ জরুরি।”

 

আদর্শ যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহকারী অর্থ সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নূরনবী, কার্যকরী সদস্য মোঃ সোহেল, মোঃ রাকিব, মোঃ হাসান, মোঃ রিয়াজ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ লাল মিয়া, মোঃ নুর ইসলাম, মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, মোহাম্মদ রাকিব, সবুজ।