বাংলাদেশ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলী ইকোপার্ক সংলগ্ন সোনাকাটা বন্ধ থাকা সেতুটির নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ Time View

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ৭ নম্বর সোনাকাটা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকাটা গ্রামে ইকোপার্ক সংলগ্ন একটি সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে। দৈনিক পুনরুত্থান, দৈনিক দক্ষিণবঙ্গ, দৈনিক দেশ আলো ও দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা সেতুটির কাজ শুরু করে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় যাতায়াত ও যোগাযোগে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। সেতুর নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার দক্ষিণা খাল (স্থানীয় নাম সোনাকাটা খাল)-এর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭২ মিটার, প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ টাকা। সেতুটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে ১০ ফুট। প্রক্রিয়া শেষে বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে ঠিকাদারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে দুই পাড়ের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও মাঝখানের ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি আড়াই বছরেও স্থাপন করা হয়নি।
এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগের ভিত্তিতে সেতুর উচ্চতা কম করা হয়েছে—এমন দাবি ওঠায় কাজটি বন্ধ ছিল। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সোনাকাটা খালটি একটি ছোট খাল, যেখানে অল্পসংখ্যক ছোট মাছধরা ট্রলার ছাড়া বড় কোনো নৌযান চলাচল করে না। এলাকাবাসীর দাবি, নির্ধারিত উচ্চতায় সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।
সোনাকাটা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মহসিন বলেন, “সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করার পক্ষে যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ বরগুনা জেলা সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান খান এবং এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
সোনাকাটায় কর্মরত বনরক্ষী মো. জাকির হোসেন বলেন, “আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই সেতুর কাজ বন্ধ দেখেছি। কয়েক মাস আগে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান খান ভাইয়ের সংবাদ প্রকাশের পর কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হামজা বলেন, “দীর্ঘদিন পর সেতুর কাজ আবার শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের লেখা সংবাদ ও এলজিইডির প্রকৌশলীদের উদ্যোগেই এটি সম্ভব হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের ফলে বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং এলজিইডির সার্বিক সহায়তায় পুনরায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে।”
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, “সেতুর উচ্চতা নিয়ে অভিযোগের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। একাধিকবার পরিদর্শন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লিখিত আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে তালতলী ইকোপার্কসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

তালতলী ইকোপার্ক সংলগ্ন সোনাকাটা বন্ধ থাকা সেতুটির নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু

Update Time : ১১:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ৭ নম্বর সোনাকাটা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকাটা গ্রামে ইকোপার্ক সংলগ্ন একটি সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে। দৈনিক পুনরুত্থান, দৈনিক দক্ষিণবঙ্গ, দৈনিক দেশ আলো ও দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা সেতুটির কাজ শুরু করে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় যাতায়াত ও যোগাযোগে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। সেতুর নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার দক্ষিণা খাল (স্থানীয় নাম সোনাকাটা খাল)-এর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭২ মিটার, প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ টাকা। সেতুটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে ১০ ফুট। প্রক্রিয়া শেষে বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে ঠিকাদারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে দুই পাড়ের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও মাঝখানের ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি আড়াই বছরেও স্থাপন করা হয়নি।
এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগের ভিত্তিতে সেতুর উচ্চতা কম করা হয়েছে—এমন দাবি ওঠায় কাজটি বন্ধ ছিল। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সোনাকাটা খালটি একটি ছোট খাল, যেখানে অল্পসংখ্যক ছোট মাছধরা ট্রলার ছাড়া বড় কোনো নৌযান চলাচল করে না। এলাকাবাসীর দাবি, নির্ধারিত উচ্চতায় সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।
সোনাকাটা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মহসিন বলেন, “সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করার পক্ষে যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ বরগুনা জেলা সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান খান এবং এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
সোনাকাটায় কর্মরত বনরক্ষী মো. জাকির হোসেন বলেন, “আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই সেতুর কাজ বন্ধ দেখেছি। কয়েক মাস আগে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান খান ভাইয়ের সংবাদ প্রকাশের পর কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হামজা বলেন, “দীর্ঘদিন পর সেতুর কাজ আবার শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের লেখা সংবাদ ও এলজিইডির প্রকৌশলীদের উদ্যোগেই এটি সম্ভব হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের ফলে বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং এলজিইডির সার্বিক সহায়তায় পুনরায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে।”
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, “সেতুর উচ্চতা নিয়ে অভিযোগের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। একাধিকবার পরিদর্শন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লিখিত আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে তালতলী ইকোপার্কসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।