
বিশেষ প্রতিবেদ: ঢাকা (১০ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ভয়াবহ মাত্রায় তীব্র হয়ে উঠেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলছেন, প্রাথমিক সমীক্ষায় ৮,৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়েছে — যা এই নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধীরেসুস্থে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা উন্মোচিত করছে।
আইজিপি আরও জানিয়েছেন, প্রায় ১৬,০০০ কেন্দ্রকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং প্রায় ১৬,০০০ কেন্দ্রকে ‘সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি সত্ত্বেও ব্যাপক তৎপরতা প্রয়োজন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেছেন, দেশের ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা হিসেবে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে মোবাইল টহল ও তৃতীয় স্তরে স্ট্রাইকিং ফোর্সের মাধ্যমে কার্যক্রম তৎপর রাখা হবে, যা ইঙ্গিত দেয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন সম্ভাবনার প্রতি।
নির্বাচনে মাঠে ১,৮৭,৬০৩ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হবে বলে ঘোষণা করা হলেও, এই বিশাল নিরাপত্তা বলয়ের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ সহিংসতার পূর্বাভাস — কারণ শেষ তিন মাসে দেশব্যাপী ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৫ জন নিহত ও ৬০৩ জন আহত হয়েছে। আইজিপি নিজেই স্বীকার করেছেন, “এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমানোর জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।”
নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৭,০০৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র ইতোমধ্যে থানায় জমা পড়েছে এবং ১,৩৩০টি লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্র বিবেচনায় রয়েছে, যা সরকারের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আইজিপি বলেছেন, “অতীতে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির হুমকি কমে এসেছে” — কিন্তু এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি, প্রচুর পুলিশ ও নজরদারি সত্ত্বেও ভয়াবহতার পরশ এখনও বিদ্যমান।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নে আইজিপি স্বীকার করেছেন, বাহিনীকে পুনঃপ্রশিক্ষণ শুরু করা হয়েছে — কিন্তু ১৫ বছরের মনোভাব এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়।
এLECTION 2026 কোণে, সবকিছু ঝুঁকির তলোয়ারের ওপরে ঘুরছে — এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন বিশাল নিরাপত্তা বলয়ই তাই এখন দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের এক একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
Reporter Name 























