বাংলাদেশ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় বৃষ্টির মধ্যেই সড়ক কার্পেটিং, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • ৮৩ Time View

 

কে এম বেলাল প্রতিনিধি পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় একটানা মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই চলছে গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ। পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টিতে প্রাইম কোট ধুয়ে গেলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবিরামভাবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করে চলেছে। এতে কাজের গুণগতমান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজ চলায় অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাবে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবল বর্ষণের মধ্যে শ্রমিকেরা ছাতা মাথায় কাজ করছেন। সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি বেলচা দিয়ে সরিয়ে তড়িঘড়ি করে দেওয়া হচ্ছে পিচ। কয়েক দিন আগে দেওয়া প্রাইম কোট বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলেও নতুন করে আর প্রাইম কোট প্রয়োগ না করেই চলছে কার্পেটিং। পুরো কাজেই নেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কোনো সরাসরি তদারকি।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কটির কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম চলে আসছে। সড়কের দুই পাশের (এজিং) বহু জায়গায় মাটি দেওয়া হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট ও খোয়া। এলাকার মানুষ আপত্তি জানালেও কার্যত কেউ শুনছে না তাদের কথা। তারা বলেন, “এইভাবে যদি বৃষ্টির মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ চলে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে।”

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে কাঁঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটির সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১ কোটি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৬ টাকার এই কাজটি পায় সিকদার ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ওই বছরের অক্টোবরে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৪ মে পর্যন্ত করা হয়।

 

সিকদার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনির জোমাদ্দার বলেন, “যখন কাজ শুরু করি তখন বৃষ্টি ছিল না। পরে বৃষ্টি শুরু হলে আমরা কাজ বন্ধ করেছি।” তবে প্রাইম কোট ধুয়ে যাওয়ার পরেও কেন নতুন করে দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম করছি না, নিয়ম মেনেই কাজ করছি।”

 

সড়কে কর্মরত শ্রমিকদের একজন বলেন, “আমরা ঠিকাদারের নির্দেশ মতো কাজ করি। প্রতিদিন কাজ করলে টাকা পাই, ভালো-মন্দ বুঝি না।”

 

এদিকে ঘটনাস্থলে কোনো এলজিইডি কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও পাথরঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী সমিরন মন্ডল জানান, “এই কাজটি বিআরবি প্রকল্পের অধীনে। দুই দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের লোক যাওয়ার আগেই কাজ শুরু হয়েছে। যে মাল দেওয়া হয়েছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি।”

 

তবে কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও এজিংয়ের পাশে মাটি না থাকায় তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, “এই কাজটি আমার যোগদানের আগের। আমি যেভাবে পেয়েছি, সেভাবেই এগোচ্ছি। তবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বর্ষার মধ্যে এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে গেলে অল্পদিনেই সড়কটি নষ্ট হয়ে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পাথরঘাটায় বৃষ্টির মধ্যেই সড়ক কার্পেটিং, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Update Time : ০৫:৩০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

 

কে এম বেলাল প্রতিনিধি পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় একটানা মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই চলছে গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ। পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টিতে প্রাইম কোট ধুয়ে গেলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবিরামভাবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করে চলেছে। এতে কাজের গুণগতমান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজ চলায় অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাবে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবল বর্ষণের মধ্যে শ্রমিকেরা ছাতা মাথায় কাজ করছেন। সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি বেলচা দিয়ে সরিয়ে তড়িঘড়ি করে দেওয়া হচ্ছে পিচ। কয়েক দিন আগে দেওয়া প্রাইম কোট বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলেও নতুন করে আর প্রাইম কোট প্রয়োগ না করেই চলছে কার্পেটিং। পুরো কাজেই নেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কোনো সরাসরি তদারকি।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কটির কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম চলে আসছে। সড়কের দুই পাশের (এজিং) বহু জায়গায় মাটি দেওয়া হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট ও খোয়া। এলাকার মানুষ আপত্তি জানালেও কার্যত কেউ শুনছে না তাদের কথা। তারা বলেন, “এইভাবে যদি বৃষ্টির মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ চলে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে।”

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে কাঁঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটির সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১ কোটি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৬ টাকার এই কাজটি পায় সিকদার ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ওই বছরের অক্টোবরে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৪ মে পর্যন্ত করা হয়।

 

সিকদার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনির জোমাদ্দার বলেন, “যখন কাজ শুরু করি তখন বৃষ্টি ছিল না। পরে বৃষ্টি শুরু হলে আমরা কাজ বন্ধ করেছি।” তবে প্রাইম কোট ধুয়ে যাওয়ার পরেও কেন নতুন করে দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম করছি না, নিয়ম মেনেই কাজ করছি।”

 

সড়কে কর্মরত শ্রমিকদের একজন বলেন, “আমরা ঠিকাদারের নির্দেশ মতো কাজ করি। প্রতিদিন কাজ করলে টাকা পাই, ভালো-মন্দ বুঝি না।”

 

এদিকে ঘটনাস্থলে কোনো এলজিইডি কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও পাথরঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী সমিরন মন্ডল জানান, “এই কাজটি বিআরবি প্রকল্পের অধীনে। দুই দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের লোক যাওয়ার আগেই কাজ শুরু হয়েছে। যে মাল দেওয়া হয়েছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি।”

 

তবে কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও এজিংয়ের পাশে মাটি না থাকায় তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, “এই কাজটি আমার যোগদানের আগের। আমি যেভাবে পেয়েছি, সেভাবেই এগোচ্ছি। তবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বর্ষার মধ্যে এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে গেলে অল্পদিনেই সড়কটি নষ্ট হয়ে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।