বাংলাদেশ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে টাকা জমাদেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রসহ দুইজনকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৭ Time View

 

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলীতে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্র ইমরান ফকির (২৩) ও জাহিদুল ইসলাম (২৫) কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের প্রথমে স্থানীয়রা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইমরান ফকির বুধবার দুপুরে ফরম পূরণের টাকা জমা দিতে অগ্রণী ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ান। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সজল মৃধা ও সহ-দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ তাকে পিছনে ফেলে টাকা জমা দেন। ইমরান এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে সজল, ফরহাদসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন।

 

পরে বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খাঁনের বাসায় ডাকা হয় ইমরান ফকিরকে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পৌঁছার আগেই ২০–২৫ জন ছাত্রদল কর্মী ইমরান ও তার সহযোগী জাহিদুলকে ঘিরে ধরে লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

 

আহত ইমরান ফকির বলেন, “আমি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে আমাকে পিছনে ফেলে ছাত্রদল নেতারা টাকা জমা দেয়। প্রতিবাদ করায় কলেজের ভেতরে আমাকে মারধর করে। পরে সন্ধ্যায় মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে আবারও লোহার রড দিয়ে আমাকে ও আমার সহযোগীকে পিটিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চাই।”

 

তবে ছাত্রদল নেতা সজল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছাত্রলীগ নেতা ইমরান ফকির উল্টো আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রচার সম্পাদক রব্বানী শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”

 

আমতলী উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খান জানান, “কেন্দ্রীয় নেতার অনুরোধে মীমাংসার জন্য ইমরান ফকিরকে ডেকেছিলাম। তবে পথিমধ্যে কে বা কারা তাদের মারধর করেছে, আমি জানি না।”

 

বরগুনা জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম রনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, “আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

 

আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “দুই ছাত্রকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ব্যাংকে টাকা জমাদেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রসহ দুইজনকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

Update Time : ১১:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

 

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলীতে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্র ইমরান ফকির (২৩) ও জাহিদুল ইসলাম (২৫) কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের প্রথমে স্থানীয়রা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইমরান ফকির বুধবার দুপুরে ফরম পূরণের টাকা জমা দিতে অগ্রণী ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ান। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সজল মৃধা ও সহ-দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ তাকে পিছনে ফেলে টাকা জমা দেন। ইমরান এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে সজল, ফরহাদসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন।

 

পরে বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খাঁনের বাসায় ডাকা হয় ইমরান ফকিরকে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পৌঁছার আগেই ২০–২৫ জন ছাত্রদল কর্মী ইমরান ও তার সহযোগী জাহিদুলকে ঘিরে ধরে লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

 

আহত ইমরান ফকির বলেন, “আমি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে আমাকে পিছনে ফেলে ছাত্রদল নেতারা টাকা জমা দেয়। প্রতিবাদ করায় কলেজের ভেতরে আমাকে মারধর করে। পরে সন্ধ্যায় মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে আবারও লোহার রড দিয়ে আমাকে ও আমার সহযোগীকে পিটিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চাই।”

 

তবে ছাত্রদল নেতা সজল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছাত্রলীগ নেতা ইমরান ফকির উল্টো আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রচার সম্পাদক রব্বানী শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”

 

আমতলী উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খান জানান, “কেন্দ্রীয় নেতার অনুরোধে মীমাংসার জন্য ইমরান ফকিরকে ডেকেছিলাম। তবে পথিমধ্যে কে বা কারা তাদের মারধর করেছে, আমি জানি না।”

 

বরগুনা জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম রনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, “আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

 

আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “দুই ছাত্রকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”