বাংলাদেশ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আমতলীর ইউএনওর গোপন বৈঠক! ছবি ভাইরাল — দ্রুত ব্যবস্থা চায় বিএনপি-জামায়াত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬০ Time View

 

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার গোপন বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতারা বিষয়টির তদন্ত এবং ইউএনওর অপসারণ দাবি করেছেন।

হোটেলের ভিআইপি কক্ষে গোপন বৈঠক

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন আমতলী চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘সকাল-সন্ধ্যা হোটেল’-এর ভিআইপি কক্ষে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী সামসুল হক, সভাপতি মতিয়ার রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বশির মৃধা, রাসেল, ট্রাফিক বিভাগের এসআই নুরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন। বৈঠকের পর তাদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিতে ইউএনওর উপস্থিতি স্পষ্ট

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ইউএনও রোকনুজ্জামান খাঁন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে খাবার টেবিলে বসে আছেন। আরেকটি ছবিতে ইউএনওর পরিবার ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বিপ্লবের সঙ্গে পারিবারিক পরিবেশে তোলা ছবি প্রকাশ পেয়েছে।

নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ইউএনওকে প্রায়ই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে উঠাবসা করতে দেখা যায়। এতে তার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

জামায়াতে ইসলামী আমতলী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মো. ইলিয়াস হোসাইন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এমন বৈঠক গর্হিত কাজ। আমরা তার অব্যাহতি দাবি করছি।”

 

আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ আসাদুজ্জামান কাওসার বলেন, “ইউএনও রোকনুজ্জামান খাঁন আওয়ামী লীগের দোসরদের লালন করছেন। গোপনে বৈঠক ও খাওয়া-দাওয়া তার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ঘটনা সম্পর্কে জানতে ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খাঁনের সরকারি মোবাইল ফোনে (০১৭৯৭৭৯৩৭২২) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এমন বৈঠক করা সমীচীন নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আমতলীর ইউএনওর গোপন বৈঠক! ছবি ভাইরাল — দ্রুত ব্যবস্থা চায় বিএনপি-জামায়াত

Update Time : ০২:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

 

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার গোপন বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতারা বিষয়টির তদন্ত এবং ইউএনওর অপসারণ দাবি করেছেন।

হোটেলের ভিআইপি কক্ষে গোপন বৈঠক

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন আমতলী চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘সকাল-সন্ধ্যা হোটেল’-এর ভিআইপি কক্ষে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী সামসুল হক, সভাপতি মতিয়ার রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বশির মৃধা, রাসেল, ট্রাফিক বিভাগের এসআই নুরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন। বৈঠকের পর তাদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিতে ইউএনওর উপস্থিতি স্পষ্ট

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ইউএনও রোকনুজ্জামান খাঁন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে খাবার টেবিলে বসে আছেন। আরেকটি ছবিতে ইউএনওর পরিবার ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বিপ্লবের সঙ্গে পারিবারিক পরিবেশে তোলা ছবি প্রকাশ পেয়েছে।

নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ইউএনওকে প্রায়ই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে উঠাবসা করতে দেখা যায়। এতে তার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

জামায়াতে ইসলামী আমতলী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মো. ইলিয়াস হোসাইন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এমন বৈঠক গর্হিত কাজ। আমরা তার অব্যাহতি দাবি করছি।”

 

আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ আসাদুজ্জামান কাওসার বলেন, “ইউএনও রোকনুজ্জামান খাঁন আওয়ামী লীগের দোসরদের লালন করছেন। গোপনে বৈঠক ও খাওয়া-দাওয়া তার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ঘটনা সম্পর্কে জানতে ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খাঁনের সরকারি মোবাইল ফোনে (০১৭৯৭৭৯৩৭২২) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এমন বৈঠক করা সমীচীন নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”