বাংলাদেশ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কপিলমুনিতে দোকান ভাড়ার জামানতের টাকা না দিয়ে বিক্রি করে ভারতে পাড়ি!, টাকা ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসুস্থ্য চা দোকানি অমরেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩০ Time View

এফ,এম,এ রাজ্জাক, খুলনা জেলা প্রতিনিধি :-খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক মোকাম কপিলমুনিতে ভাড়াটিয়ার জামানতের টাকা ফেরৎ না দিয়ে দোকান বিক্রি করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের পর নিজেও পাড়ি জমিয়েছে রাম প্রসাদ অধিকারী নামে এক ব্যাক্তি।

 

স্বজনসহ স্থানীয়রা বলছেন, ভাড়াটিয়ার জামানতের দেড় লক্ষ টাকা দোকান ক্রেতা তৃপ্তির কাছে রেখেই ভারতে পাড়ি জমায় রাম প্রসাদ। অন্যদিকে দোকান ক্রেতা তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেন’র ছেলে তৃপ্তি সেন বলছেন, দোকান ক্রয়ের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। তার কাছে ভাড়াটিয়ার কোন টাকা রেখে যায়নি। এমনকি বিষয়টি নাকি তার না।

 

এ ঘটনায় চারম শারীরিক অসুস্থ্য অমরেশ ভৌমিকের ছেলে তন্ময় ও জামানতের টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, কপিলমুনি সদরের নাছিরপুর এলাকার সনৎ ভৌমিকের ছেলে অমরেশ ভৌমিক একই এলাকার নিতাই অধিকারীর ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ অধিকারী ও তার ছোট ভাই রাম প্রসাদ অধিকারীর নিকট থেকে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে অগ্রিম দেড় লক্ষ টাকা প্রদান করে মাসিক ২ হাজার টাকা চুক্তিতে সদরের সোনাপট্টির এসএ ১৫২/৩/১৪৯ খতিয়ানের ১৭৩ দাগের যা বর্তমান জরিপের ডিপি ১৩০ খতিয়ানের ২৫৯ দাগের ০.০২ একর সম্পত্তির উপর নির্মিত দোকান ঘরের একাংশ ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি রামপ্রসাদ অধিকারী তার চায়ের দোকানসহ অপরাংশ তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেনের ছেলে তৃপ্তি সেন’র নিকট ৪২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে ভারতে চলে গেছে। বিষয়টি খবর পেয়ে অমরেশ রামপ্রসাদ ও তার বড় ভাই রবীন্দ্র নাথ অধিকারী ও দোকান ক্রেতা তৃপ্তিকে জানালে তারা জানায়, রেজিস্ট্রির পর বিষয়চি তারা দেখবেন। এমনকি তৃপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় অপর মধ্যস্থতাকারী সাধন অধিকারীর কাছে দেড় লক্ষ টাকা জমা রাখার কথা জানায় তারা।

 

তবে ইতোমধ্যে দোকান বিক্রির ৪/৫ মাস অতিবাহিত ও রাম প্রসাদ ভারতে চলে যাওয়ার পরও টাকা দিতে দোকান ক্রেতা তৃপ্তি সহ অন্যান্যরা নানা টালবাহানা এমনকি তাকে দোকান ছেড়ে দিতে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

 

অমরেশ ভৌমিকের ছেলে তন্ময় ভৌমিক জানায়, তার বাবা খুবই অসুস্থ্য। এমনকি স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি এখন শয্যাশায়ী। একদিকে তার চিকিৎসা করাতে তার পরিবার যখন হিমশিম খাচ্ছে অন্যদিকে দোকান ক্রেতা তার জামানতের টাকা দিতে অনাগ্রহ দেখিয়ে উল্টো তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

 

জানাগেছে, গত প্রায় ৪/৫ বছর আগে রামপ্রসাদ তারস্ত্রী-পুত্রসহ ভারতে পাড়ি জমিয়ে গত প্রায় এক বছর আগে ফের দেশে ফিরে আসে তার পিতার রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য।

 

চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে কপিলমুনিস্থ সোনা কারবারী তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেনের ছেলে তৃপ্তি সেনের কাছে ৪২ লক্ষ টাকায় ০.০১ শতাংশ জমি যার উপর দু’টি দোকান বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে সমৃদয় টাকা ভারতে পাঠিয়ে নিজেও পরে ভারতে পাড়ি জমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, দোকানে যেহেতু অন্য ভাড়াটিয়ার অবস্থান ছিল সেহেতু দোকান ক্রেতার পক্ষে প্রথমেই ভাড়াটিয়ার লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা। তবে এক অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তৃপ্তি কারোর কথাই মূল্যায়ন করছেন। অমরেশ ভৌমিকের টাকা ফিরিয়ে না দিতে মহল বিশেষকে সাথে নিয়ে নানা টালবাহানা করে আসছে।

 

এব্যাপারে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল) ইউনুস আলী মোড়ল জানান, যিনি দোকান কিনেছেন তিনি তো ভাড়াটিয়াকে দেখেই কিনেছেন। তাই রেজিস্ট্রির আগেই তার সাথে লেন-দেন সংক্রান্ত সকল সমস্যা দূর করেই রেজিস্ট্রি করার কথা। তিনি তন্ময় নামে এক যুবকের কাছ থেকে এ সংক্রান্তে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন মর্মে জানিয়ে শালিশীর জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

কপিলমুনিতে দোকান ভাড়ার জামানতের টাকা না দিয়ে বিক্রি করে ভারতে পাড়ি!, টাকা ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসুস্থ্য চা দোকানি অমরেশ

Update Time : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

এফ,এম,এ রাজ্জাক, খুলনা জেলা প্রতিনিধি :-খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক মোকাম কপিলমুনিতে ভাড়াটিয়ার জামানতের টাকা ফেরৎ না দিয়ে দোকান বিক্রি করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের পর নিজেও পাড়ি জমিয়েছে রাম প্রসাদ অধিকারী নামে এক ব্যাক্তি।

 

স্বজনসহ স্থানীয়রা বলছেন, ভাড়াটিয়ার জামানতের দেড় লক্ষ টাকা দোকান ক্রেতা তৃপ্তির কাছে রেখেই ভারতে পাড়ি জমায় রাম প্রসাদ। অন্যদিকে দোকান ক্রেতা তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেন’র ছেলে তৃপ্তি সেন বলছেন, দোকান ক্রয়ের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। তার কাছে ভাড়াটিয়ার কোন টাকা রেখে যায়নি। এমনকি বিষয়টি নাকি তার না।

 

এ ঘটনায় চারম শারীরিক অসুস্থ্য অমরেশ ভৌমিকের ছেলে তন্ময় ও জামানতের টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, কপিলমুনি সদরের নাছিরপুর এলাকার সনৎ ভৌমিকের ছেলে অমরেশ ভৌমিক একই এলাকার নিতাই অধিকারীর ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ অধিকারী ও তার ছোট ভাই রাম প্রসাদ অধিকারীর নিকট থেকে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে অগ্রিম দেড় লক্ষ টাকা প্রদান করে মাসিক ২ হাজার টাকা চুক্তিতে সদরের সোনাপট্টির এসএ ১৫২/৩/১৪৯ খতিয়ানের ১৭৩ দাগের যা বর্তমান জরিপের ডিপি ১৩০ খতিয়ানের ২৫৯ দাগের ০.০২ একর সম্পত্তির উপর নির্মিত দোকান ঘরের একাংশ ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি রামপ্রসাদ অধিকারী তার চায়ের দোকানসহ অপরাংশ তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেনের ছেলে তৃপ্তি সেন’র নিকট ৪২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে ভারতে চলে গেছে। বিষয়টি খবর পেয়ে অমরেশ রামপ্রসাদ ও তার বড় ভাই রবীন্দ্র নাথ অধিকারী ও দোকান ক্রেতা তৃপ্তিকে জানালে তারা জানায়, রেজিস্ট্রির পর বিষয়চি তারা দেখবেন। এমনকি তৃপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় অপর মধ্যস্থতাকারী সাধন অধিকারীর কাছে দেড় লক্ষ টাকা জমা রাখার কথা জানায় তারা।

 

তবে ইতোমধ্যে দোকান বিক্রির ৪/৫ মাস অতিবাহিত ও রাম প্রসাদ ভারতে চলে যাওয়ার পরও টাকা দিতে দোকান ক্রেতা তৃপ্তি সহ অন্যান্যরা নানা টালবাহানা এমনকি তাকে দোকান ছেড়ে দিতে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

 

অমরেশ ভৌমিকের ছেলে তন্ময় ভৌমিক জানায়, তার বাবা খুবই অসুস্থ্য। এমনকি স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি এখন শয্যাশায়ী। একদিকে তার চিকিৎসা করাতে তার পরিবার যখন হিমশিম খাচ্ছে অন্যদিকে দোকান ক্রেতা তার জামানতের টাকা দিতে অনাগ্রহ দেখিয়ে উল্টো তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

 

জানাগেছে, গত প্রায় ৪/৫ বছর আগে রামপ্রসাদ তারস্ত্রী-পুত্রসহ ভারতে পাড়ি জমিয়ে গত প্রায় এক বছর আগে ফের দেশে ফিরে আসে তার পিতার রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য।

 

চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে কপিলমুনিস্থ সোনা কারবারী তালার মাগুরা এলাকার রবীন্দ্র নাথ সেনের ছেলে তৃপ্তি সেনের কাছে ৪২ লক্ষ টাকায় ০.০১ শতাংশ জমি যার উপর দু’টি দোকান বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে সমৃদয় টাকা ভারতে পাঠিয়ে নিজেও পরে ভারতে পাড়ি জমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, দোকানে যেহেতু অন্য ভাড়াটিয়ার অবস্থান ছিল সেহেতু দোকান ক্রেতার পক্ষে প্রথমেই ভাড়াটিয়ার লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা। তবে এক অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তৃপ্তি কারোর কথাই মূল্যায়ন করছেন। অমরেশ ভৌমিকের টাকা ফিরিয়ে না দিতে মহল বিশেষকে সাথে নিয়ে নানা টালবাহানা করে আসছে।

 

এব্যাপারে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল) ইউনুস আলী মোড়ল জানান, যিনি দোকান কিনেছেন তিনি তো ভাড়াটিয়াকে দেখেই কিনেছেন। তাই রেজিস্ট্রির আগেই তার সাথে লেন-দেন সংক্রান্ত সকল সমস্যা দূর করেই রেজিস্ট্রি করার কথা। তিনি তন্ময় নামে এক যুবকের কাছ থেকে এ সংক্রান্তে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন মর্মে জানিয়ে শালিশীর জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি