বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বিজয় দিবসের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬ Time View

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘ আমতলী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে বিজয় দিবস উপলক্ষে এনজিও ও সঞ্চয়–ঋণদান সমিতির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক এনজিও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বে-সরকারি সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসেন মোল্লা।

 

সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল শনিবার রাতে এ অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় সমবায় অফিসে নিবন্ধিত ৪৪টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি রয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অধিভুক্ত শতাধিক বেসরকারি সঞ্চয় ও ঋণদান প্রতিষ্ঠান এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের নামে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন মো. জাকির হোসেন মোল্লা।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা প্রশাসন ও এমআরএ-এর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অবগত নয়। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করছেন। গত দুই বছর ধরে একই কৌশলে চাঁদা আদায় করায় সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মো. জাকির হোসেন মোল্লা নিজেকে উপজেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি উপজেলা এনজিও ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এনজিও ফোরামের নাম ব্যবহার করে তিনি নানা অনিয়মে জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল বলেন, “জাকির হোসেন মোল্লা উপজেলা প্রশাসনের নামে আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রশাসন ও এমআরএ-এর ভয় দেখান। গত বছরও তিনি আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়েছিলেন।”

 

স্বদেশ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি জয় চন্দ্র মাঝি বলেন, “গত বছর আমার কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বছর আবার দাবি করলেও আমি টাকা দিইনি।”

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবা কর, কোনো সমস্যা নেই।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

আমতলী উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. বাদল আকন বলেন, “উপজেলায় নিবন্ধিত ৪৪টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির কাছ থেকে বিজয় দিবসের নামে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। সমবায় অফিস এ ধরনের চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অবগত নয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

 

নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, “জাকির হোসেনকে কোনো এনজিও বা সমিতি থেকে চাঁদা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি যদি চাঁদা আদায় করে থাকেন, তা তার ব্যক্তিগত দায়।”

 

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের নামে কোনো এনজিও বা সঞ্চয়–ঋণদান সমিতির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

আমতলীতে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বিজয় দিবসের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

Update Time : ০১:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি”‘ আমতলী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে বিজয় দিবস উপলক্ষে এনজিও ও সঞ্চয়–ঋণদান সমিতির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক এনজিও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বে-সরকারি সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসেন মোল্লা।

 

সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল শনিবার রাতে এ অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় সমবায় অফিসে নিবন্ধিত ৪৪টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি রয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অধিভুক্ত শতাধিক বেসরকারি সঞ্চয় ও ঋণদান প্রতিষ্ঠান এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের নামে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন মো. জাকির হোসেন মোল্লা।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা প্রশাসন ও এমআরএ-এর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অবগত নয়। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করছেন। গত দুই বছর ধরে একই কৌশলে চাঁদা আদায় করায় সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মো. জাকির হোসেন মোল্লা নিজেকে উপজেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি উপজেলা এনজিও ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এনজিও ফোরামের নাম ব্যবহার করে তিনি নানা অনিয়মে জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল বলেন, “জাকির হোসেন মোল্লা উপজেলা প্রশাসনের নামে আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রশাসন ও এমআরএ-এর ভয় দেখান। গত বছরও তিনি আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়েছিলেন।”

 

স্বদেশ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি জয় চন্দ্র মাঝি বলেন, “গত বছর আমার কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বছর আবার দাবি করলেও আমি টাকা দিইনি।”

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবা কর, কোনো সমস্যা নেই।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

আমতলী উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. বাদল আকন বলেন, “উপজেলায় নিবন্ধিত ৪৪টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির কাছ থেকে বিজয় দিবসের নামে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। সমবায় অফিস এ ধরনের চাঁদা আদায়ের বিষয়ে অবগত নয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

 

নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, “জাকির হোসেনকে কোনো এনজিও বা সমিতি থেকে চাঁদা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি যদি চাঁদা আদায় করে থাকেন, তা তার ব্যক্তিগত দায়।”

 

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের নামে কোনো এনজিও বা সঞ্চয়–ঋণদান সমিতির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”