
নতুন বছর এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—রাষ্ট্র কি আদৌ নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে, নাকি অপরাধীদের রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে?
গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ডাকাতি, ছিনতাই, মিথ্যা মামলা—এগুলো আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার উপসর্গ। অপরাধীরা কেবল রাস্তায় নয়, অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্ষমতার করিডোরেও বিচরণ করছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই অপরাধীরা কার আশ্রয়ে এতটা নির্ভীক?
রাজধানীর সূত্রাপুর থানা এলাকায় দিনে দুপুরে কাঁচা বাজার দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানকে যুবলীগের কর্তৃক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সত্য কথা বলায় ওসমান হাদী ও আব্দুর রহমানকে প্রকাশ্যে হত্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নয়ন—যুবলীগের কর্মী। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নয়নকে গ্রেফতার করলেও তদন্ত এখনো ধীরগতিতে চলছে। খুনিদের কি জামাই আদর করবে? সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—তদন্ত কি থমকে আছে, নাকি স্বাধীনতা আমাদের এই বাংলাদেশে শুধুই স্লোগান?
আজ বাংলাদেশে অপরাধের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিচারহীনতা। তদন্ত ঝুলে থাকে, চার্জশিট বদলে যায়, সাক্ষী হারিয়ে যায়—আর অপরাধীরা দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। আইন কি কেবল দুর্বলদের জন্য প্রযোজ্য, আর ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা সংবিধান আছে?
চাঁদাবাজি এখন আর গোপন নয়, প্রকাশ্য। দিনের আলোয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে, ঘুষ ও চাঁদা এখন ফুটপাথ থেকে অফিস, বাজার থেকে প্রতিষ্ঠানে—সব জায়গায়। প্রশাসন জানে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানে—তবু কেন নীরবতা? অক্ষমতা, নাকি অংশীদারিত্ব?
দুর্নীতি রাষ্ট্রযন্ত্রের রক্তে মিশে গেছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট, প্রকল্পের নামে কমিশন, নিয়োগের নামে বাণিজ্য—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র আজ সাধারণ মানুষের কাছে ভীতিকর প্রতিষ্ঠান। জনগণ কর দেয়, ভোট দেয়, কিন্তু নিরাপত্তা পায় না—এ কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা?
ধর্ম, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ—সবই ব্যবহৃত হচ্ছে অন্যায় ঢাকতে। প্রকাশ্যে অন্যায় করা ব্যক্তিরাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নৈতিকতার ভাষণ দেয়। এই দ্বিচারিতা সমাজকে ভয়ঙ্কর জায়গায় নিয়ে গেছে—অপরাধীরা সম্মানিত, প্রতিবাদকারীরা হয়রানির শিকার।
নতুন বছর ২০২৬ হওয়া উচিত হিসাব চাওয়ার বছর। গুমের জবাব চাই, খুনের বিচার চাই, চাঁদাবাজদের তালিকা প্রকাশ চাই, দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত চাই। কাগুজে আশ্বাস নয়—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
গণমাধ্যমের ভূমিকা আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি ভয় পেয়ে চুপ থাকে, অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হবে। সত্য বলা কি অপরাধে পরিণত হচ্ছে? যদি হ্যাঁ, তাহলে নীরবতা আমাদের জাতির অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
২০২৬ সালকে আমরা হুঁশিয়ারির বছর হিসেবে দেখতে চাই। রাষ্ট্র অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, নাকি অপরাধই রাষ্ট্রকে গ্রাস করবে? মাঝামাঝি কোনো রাস্তা নেই।
সময় শেষ। সিদ্ধান্ত এখনই।
লেখক:
মোঃ সাইফুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা-১০০০
Reporter Name 






















