
জেলা প্রতিনিধি- ভোলা: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার পর উভয় গ্রুপই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে। কে আগে হামলা চালিয়েছে— এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার এলাকায় উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন এবং যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), আল-আমীন (২৫) ও রুবেল (৩৫)। আহত আল-আমীনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন অভিযোগ করে বলেন,
“২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আমার বাজারের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমাকে মারধর করে উলঙ্গ করে ফেলে। পরে ২০১৮ সালে স্লুইজঘাট এলাকায় সাবেক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের মার্কেটে একটি দোকান নিই। ২০১৯ সালে বিস্ফোরক আইনে দায়ের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে দোকানের চাবি সবুজ তালুকদারের কাছে রেখে যাই।” তিনি আরও বলেন, “আদালত আমাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠালে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করে ফিরে এসে দেখি আমার দোকানের সব মালামাল সবুজ ও তার ভাই রিয়াজ মিলে লুট করে নিয়েছে। পরে ৫ আগস্টের পর পাওনা বুঝে নিতে গেলে যুবদলের এক নেতা গিয়াস ও মিজানের নেতৃত্বে বাধা সৃষ্টি করা হয়। গতকাল শশীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ মাথায় সবুজ তালুকদারকে ধরতে গেলে গিয়াস ও মিজানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার দাবি করে বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে ইকবাল হোসেন লিটন দক্ষিণ বাজারে ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় রুবেল বাধা দিলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের প্রতিহত করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আমাদের রুবেল, ইলিয়াছ ও আবু সাইদসহ কয়েকজন আহত হন।”
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 
























