বাংলাদেশ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জায়গা-জমির শত্রুতার জেরে নাফিজকে দুই ঘণ্টা বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার পরাণগঞ্জ বাজার এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তমুন্সি আনন্দ পট্রি রোড সংলগ্ন বাদশার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কিশোরের নাম আফিফ ওরফে নাফিজ (১৬)।

 

স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত জাকির হোসেন পন্ডিত, তার ছেলে ইব্রাহিম ও জুয়েলসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

 

ভুক্তভোগী নাফিজ বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৪’টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি পরাণগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুল থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাদশার দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। দোকানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাকির হোসেন পন্ডিত ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায়।

 

নাফিজ গণমাধ্যমে বলেন, “আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করতে করতে জোরপূর্বক তাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আমার হাতে থাকা প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি আইফোন ভেঙে ফেলা হয়, যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাফিজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় কেউ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নাফিজকে উদ্ধার করে।

 

পরে তাকে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

নাফিজের সহপাঠীরা জানান, “আমরা সবাই একসঙ্গে ঝালমুড়ির দোকানের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ জাকির হোসেন ও তার লোকজন নাফিজকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মারধর শুরু করে এবং টেনে নিয়ে যায়। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়।”

 

ভুক্তভোগীর বাবা মো. মাহে-আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই আমার নিরপরাধ ছেলেকে এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই বর্বরতা চালানো হয়েছে। বর্তমানে সে গুরুতর আহত অবস্থায় ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন পন্ডিত ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত জাকির হোসেন পন্ডিতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজে ফোন রিসিভ করেননি। এ সময় তার ছেলে ফোন রিসিভ করে ইচ্ছাকৃতভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় জানার পরও তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন এবং একাধিকবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন,

“ঘটনাটি আমরা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

জায়গা-জমির শত্রুতার জেরে নাফিজকে দুই ঘণ্টা বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

Update Time : ০৭:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার পরাণগঞ্জ বাজার এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তমুন্সি আনন্দ পট্রি রোড সংলগ্ন বাদশার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কিশোরের নাম আফিফ ওরফে নাফিজ (১৬)।

 

স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত জাকির হোসেন পন্ডিত, তার ছেলে ইব্রাহিম ও জুয়েলসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

 

ভুক্তভোগী নাফিজ বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৪’টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি পরাণগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুল থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাদশার দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। দোকানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাকির হোসেন পন্ডিত ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায়।

 

নাফিজ গণমাধ্যমে বলেন, “আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করতে করতে জোরপূর্বক তাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আমার হাতে থাকা প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি আইফোন ভেঙে ফেলা হয়, যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাফিজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় কেউ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নাফিজকে উদ্ধার করে।

 

পরে তাকে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

নাফিজের সহপাঠীরা জানান, “আমরা সবাই একসঙ্গে ঝালমুড়ির দোকানের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ জাকির হোসেন ও তার লোকজন নাফিজকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মারধর শুরু করে এবং টেনে নিয়ে যায়। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়।”

 

ভুক্তভোগীর বাবা মো. মাহে-আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই আমার নিরপরাধ ছেলেকে এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই বর্বরতা চালানো হয়েছে। বর্তমানে সে গুরুতর আহত অবস্থায় ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন পন্ডিত ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত জাকির হোসেন পন্ডিতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজে ফোন রিসিভ করেননি। এ সময় তার ছেলে ফোন রিসিভ করে ইচ্ছাকৃতভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় জানার পরও তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন এবং একাধিকবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন,

“ঘটনাটি আমরা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”