
৫ই আগস্টের পর রাজধানী ঢাকায় যেন প্রকাশ্যে গুলির লাইসেন্স পেয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। রাজনৈতিক নেতা, যুব সংগঠনের কর্মী ও সাধারণ নাগরিক—কারও জীবনই নিরাপদ নয়। একের পর এক গুলি করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানী পরিণত হয়েছে আতঙ্কের নগরীতে, আর নীরব দর্শকের ভূমিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাতে পল্টন থানায় মামলা হলেও, ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষও যদি এভাবে গুলিবিদ্ধ হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এর আগেই রাজধানীর মিরপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হয় পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর-১২ সি-ব্লক মোড়ে জনসম্মুখে তাকে লক্ষ্য করে অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন—এটি ছিল ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
একইভাবে শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডে যুবলীগ নেতা নয়নের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এলেও, সূত্রাপুর থানা পুলিশ এখনো সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ। অপরাধীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?
এদিকে, ভিআইপি হোটেল সুপার স্টারের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত মুসাব্বিরের মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তোলে। সহযোদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু নিহতদের তালিকা দীর্ঘ হলেও, গ্রেপ্তার ও বিচারের তালিকা শূন্যের কোঠায়।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে ওয়ারী থানা ও ৩৮নং ওয়ার্ড যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো কিশোর গ্যাং নিয়ে।
দলনেতা রবিউল আওয়াল উজ্জল, তার সহযোগী মিজানুর রহমান মিজান, সায়েদুল হক ও মো. সবুজসহ কয়েকজন চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় গুলিস্তান ইউনিট যুবদলের কর্মী মো. রমজানকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে নির্মম হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা কোথায়?
রাজধানীর একের পর এক গুলির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—
ঢাকা কি এখন অপরাধীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি কেবল লাশ গোনার দায়িত্বে?
নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, অবিলম্বে—
সব হত্যাকাণ্ডে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন
রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার
প্রকাশ্য খুনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
তা না হলে রাজধানীতে গুলির শব্দই হয়ে উঠবে রাষ্ট্রের ভাষা—এমন আশঙ্কাই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক ও চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা
Reporter Name 






















