বাংলাদেশ ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ না দেওয়ায় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪১ Time View

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সি আর মামলা নং ২৪৪/২৫-এর তদন্তভার হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের ওপর ন্যস্ত করা হয়। মামলার বিবাদীরা অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন বিবাদীদের পক্ষে দেওয়ার শর্তে ওই কর্মকর্তা তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

 

লিখিত অভিযোগে সাবেক সেনা সদস্য রেজাউল করিম, কাদের সিকদার ও মাহমুদা আক্তার উল্লেখ করেন, আমতলী উপজেলার ৫৫ নং ছকনাটা মৌজার এস.এ ১৫০ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন ফজল আলী (পিতা– আইউব আলী)। জোতদার খতিয়ানের হাল ১/১ অংশে মোট ২ দশমিক ৬১ একর জমির মালিক হয়ে তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ জুন ৩৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে ওই জমি কাশেম আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।

 

পরবর্তীতে কাশেম আলী ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯০৮ নং দলিল এবং ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ১০৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে (১ দশমিক ৩৩ + ১ দশমিক ০০) মোট ২ দশমিক ৩৩ একর জমি বিবাদীদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্রয়কৃত ওই জমিতে রোপণকৃত গাছ মামলায় উল্লেখিত আসামিরা কর্তন করলে মোঃ শাহ আলম জমাদার আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিককে।

 

বিবাদীদের অভিযোগ, ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সাফা আ সাদিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই তড়িঘড়ি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

এ বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলে জানান।

 

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।এ বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তোশিলদারের সাথে কথা বলব।

 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ঘুষ না দেওয়ায় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান

Update Time : ০৭:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সি আর মামলা নং ২৪৪/২৫-এর তদন্তভার হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের ওপর ন্যস্ত করা হয়। মামলার বিবাদীরা অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন বিবাদীদের পক্ষে দেওয়ার শর্তে ওই কর্মকর্তা তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

 

লিখিত অভিযোগে সাবেক সেনা সদস্য রেজাউল করিম, কাদের সিকদার ও মাহমুদা আক্তার উল্লেখ করেন, আমতলী উপজেলার ৫৫ নং ছকনাটা মৌজার এস.এ ১৫০ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন ফজল আলী (পিতা– আইউব আলী)। জোতদার খতিয়ানের হাল ১/১ অংশে মোট ২ দশমিক ৬১ একর জমির মালিক হয়ে তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ জুন ৩৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে ওই জমি কাশেম আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।

 

পরবর্তীতে কাশেম আলী ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯০৮ নং দলিল এবং ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ১০৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে (১ দশমিক ৩৩ + ১ দশমিক ০০) মোট ২ দশমিক ৩৩ একর জমি বিবাদীদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্রয়কৃত ওই জমিতে রোপণকৃত গাছ মামলায় উল্লেখিত আসামিরা কর্তন করলে মোঃ শাহ আলম জমাদার আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিককে।

 

বিবাদীদের অভিযোগ, ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সাফা আ সাদিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই তড়িঘড়ি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

এ বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলে জানান।

 

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।এ বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তোশিলদারের সাথে কথা বলব।

 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।