
বিশেষ প্রতিবেদন:
**নবীগঞ্জে ২৫ বছর একাই লড়েছেন সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারে একটি ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদের নাম ও ইতিহাস পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার অভিযোগে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আশাহীদ আলী আশা। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, জালিয়াতি, সামাজিক চাপ, হামলা ও মামলার মুখেও তিনি আপস করেননি—বরং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইনাতগঞ্জ পশ্চিম বাজার জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দানশীল সমাজসেবী মরহুম ওহাব উল্যার উদ্যোগে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ইবাদতের সুবিধার্থে তিনি নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে জায়গা প্রদান করেন। পরবর্তীতে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য তার পুত্র মরহুম ইব্রাহিম উল্যা ১৯৮৯ সালে (ওয়াকফ দলিল নং ৩৩/৮৯) আইনানুগভাবে মসজিদের নামে জমি দান করেন।
কিন্তু ঠিক সেই সময় থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর ষড়যন্ত্র।
একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ১৯৮৯ সালেই সাইনবোর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে মসজিদের ইতিহাস মুছে ফেলতে তৎপর হয়। ১৯৯৪ সালে জাল দলিল ও ভুয়া নথির মাধ্যমে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ইনাতগঞ্জ পশ্চিম বাজার জামে মসজিদের নাম পরিবর্তন করে ‘সালেহা জামে মসজিদ’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এমনকি ওয়াকফ প্রশাসনের নথিতেও ভুয়া তথ্য সংযোজনের অভিযোগ উঠেছে (ইসি-১৭৭১০)। এই ঘটনাকে স্থানীয়রা বলছেন
“আল্লাহর ঘর দখলের রাজনীতি”।
এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আশাহীদ আলী আশার পরিবার চরম মূল্য দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক প্রভাবশালীদের চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় তার পিতা মরহুম ইব্রাহিম উল্যা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন এবং এক পর্যায়ে ইন্তেকাল করেন। পরিবারটি দীর্ঘদিন নীরবে কান্না করেছে—কিন্তু তখন ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ দেখায়নি।
একাই মাঠে নামেন আশাহীদ আলী আশা। শুরু হয় তার দীর্ঘ ২৫ বছরের সংগ্রাম। একের পর এক হামলা, মিথ্যা মামলা, হুমকি, সামাজিক বয়কট সবই ছিল নিয়মিত ঘটনা। তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি। নিজের সম্পদ বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েও ইতিহাস ও সত্যের প্রশ্নে আপস করেননি। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ইনাতগঞ্জে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়। সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা সেই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে ইনাতগঞ্জের হারানো ইতিহাস পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রগতি আসে। ঐতিহ্যবাহী মসজিদের নাম ও পরিচয় ফিরিয়ে আনার দাবিতে তার আন্দোলন জনসমর্থন পেতে শুরু করে। বিবেকবান মানুষের দোয়া ও সমর্থনে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ইনাতগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনে বারবার বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেন জনগণের আস্থা এখনও সত্যের পক্ষে।
আশাহীদ আলী আশা স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমি দেখেছি কীভাবে কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, সুশীল সমাজের অংশবিশেষ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু আল্লাহর সাহায্যে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই লড়াই ব্যক্তি আশাহীদ আলীর নয় এই লড়াই ইতিহাস, ধর্ম ও ন্যায়ের পক্ষে। জালিম যত শক্তিশালী হোক, ইনশাআল্লাহ মজলুমের পক্ষে আমার অবস্থান আমৃত্যু অটল থাকবে।”
এই প্রতিবেদন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে?
➡️ কে বা কারা আল্লাহর ঘর নিয়ে জালিয়াতি করেছিল?
➡️ কার ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ইতিহাস বিক্রি হয়েছে?
➡️ ওয়াকফ প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা তখন কী করছিলেন?
নবীগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে না।
লেখক ও গণমাধ্যম কর্মী:
আশাহীদ আলী আশা।
নির্বাহী সদস্য: জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ।
সিনিয়র সহ-সভাপতি: বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি।
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা।
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: channel 26
Reporter Name 























