বাংলাদেশ ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম: ফরিদ ডাক্তারের ক্লিনিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৯ Time View

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলা: ভোলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাইফ আবরার (এক্স), বিএন-এর নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সেকশন টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অদ্য ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভোলা সদর এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

তবে ছোট্ট শহর ভোলার বাংলাস্কুল মোড়ে বসে আছে মেঘনা হেলথ কেয়ার সেন্টার (ক্লিনিক)। বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো, কিন্তু ভেতরের চিত্র ভয়াবহ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল যে, নোংরা মেঝে, ভাঙাচোরা চেয়ার আর অস্বাস্থ্যকর সরঞ্জামে ভরা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল ক্লিনিকের স্টাফদের আচরণ—অবজ্ঞা, তুচ্ছ ভঙ্গি আর অসদাচরণ।

 

সাধারণ রোগীরা বুঝতে পারছেন, স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে এখানে অনিয়ম ও অপ্রত্যাশিত অপকারিতা চলছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এ ধরনের ক্লিনিকে মানুষ কীভাবে নিরাপদে চিকিৎসা পাবে? ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা করা হলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন এই ধরনের ক্লিনিকের নোংরা কার্যক্রম ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে দাঁড়াবে। “স্বাস্থ্যসেবা শুধুই নামের নয়, এটি নিরাপদ ও সৎ হতে হবে। মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনো স্বাস্থ্যসেবা নয়।”

 

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মশিউর রহমান-এর নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেঘনা হেলথ কেয়ার সেন্টার (ক্লিনিক)-কে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় সিভিল সার্জন, ভোলা সদর-এর পক্ষে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভোলা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. নাইমুল হাসনাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভোলা সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে ভোলা শহরের বাংলাস্কুল মোড় এলাকায় অবস্থিত মেঘনা হেলথ কেয়ার-এ উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ নাসির আহম্মেদকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলেও জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম: ফরিদ ডাক্তারের ক্লিনিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

Update Time : ০৪:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলা: ভোলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাইফ আবরার (এক্স), বিএন-এর নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সেকশন টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অদ্য ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভোলা সদর এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

তবে ছোট্ট শহর ভোলার বাংলাস্কুল মোড়ে বসে আছে মেঘনা হেলথ কেয়ার সেন্টার (ক্লিনিক)। বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো, কিন্তু ভেতরের চিত্র ভয়াবহ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল যে, নোংরা মেঝে, ভাঙাচোরা চেয়ার আর অস্বাস্থ্যকর সরঞ্জামে ভরা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল ক্লিনিকের স্টাফদের আচরণ—অবজ্ঞা, তুচ্ছ ভঙ্গি আর অসদাচরণ।

 

সাধারণ রোগীরা বুঝতে পারছেন, স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে এখানে অনিয়ম ও অপ্রত্যাশিত অপকারিতা চলছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এ ধরনের ক্লিনিকে মানুষ কীভাবে নিরাপদে চিকিৎসা পাবে? ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা করা হলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন এই ধরনের ক্লিনিকের নোংরা কার্যক্রম ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে দাঁড়াবে। “স্বাস্থ্যসেবা শুধুই নামের নয়, এটি নিরাপদ ও সৎ হতে হবে। মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনো স্বাস্থ্যসেবা নয়।”

 

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মশিউর রহমান-এর নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেঘনা হেলথ কেয়ার সেন্টার (ক্লিনিক)-কে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় সিভিল সার্জন, ভোলা সদর-এর পক্ষে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভোলা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. নাইমুল হাসনাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভোলা সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে ভোলা শহরের বাংলাস্কুল মোড় এলাকায় অবস্থিত মেঘনা হেলথ কেয়ার-এ উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ নাসির আহম্মেদকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলেও জানা গেছে।