
শাবানা আক্তার জনি হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনের রাজনৈতিক চিত্র ততই নতুন করে আলোচনায় আসছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নির্বাচনী উপস্থিতি কেবল দৃশ্যমানই নয়, বরং ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে মাঠের বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শেখ সুজাতকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান করলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতি সমর্থনের বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি রেজা কিবরিয়া। তবে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে যুক্ত থেকেও শেখ সুজাতের মনোনয়ন না পাওয়া স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেই প্রশ্ন থেকেই মূলত একটি বিকল্প রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও শেখ সুজাত নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। তার অবস্থান স্পষ্ট—এই নির্বাচন কেবল দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এটি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, মতামত এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। সেই অবস্থান থেকেই তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্থানীয় জনসমর্থন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। হবিগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, রাজনীতিতে কেবল প্রতীক নয়, ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগ এবং মাঠে থাকা গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনের দিন যত সামনে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—শেখ সুজাতের প্রার্থিতা নিছক একটি বিদ্রোহ নয়, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতিতে জনভিত্তিক সিদ্ধান্তের একটি প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন পথে হাঁটবেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এই আসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তা।
Reporter Name 























