বাংলাদেশ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনা জেলা ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮ Time View

মোঃ নুহু ইসলাম ্স্টাফ রিপোর্টার: ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন

নেত্রকোনা প্রতারণায়

ঢাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর নাম ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন জানান, নিজেকে মোহাম্মদ আলী মাইনু (ছদ্মনাম) নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ইফাদ-এর কর্মকর্তা দাবি করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ‘ইফাদ লিংক লোন’ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনলাইনে আবেদন করানো হয়।

পরবর্তীতে আবেদন সনদ, লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত সনদ ও লোন অনুমোদন সনদ নামে একাধিক নথিপত্র পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ফেরতযোগ্য ফি’ ও ‘ফান্ড ট্রান্সফার ফি’ বাবদ বিভিন্ন ধাপে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুয়া চিঠি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতারক চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের (বিআরডি) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির অনুকরণে ভুয়া নথি পাঠায়। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের অর্থ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, ৩০ লাখ টাকা ঋণ পেতে হলে ইফাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘উপহার’ হিসেবে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে।

পরিচয় জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকি

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন, সেগুলোর সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি বনানীর একটি ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর থেকেই আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দম্ভ করে বলছে—‘আমাদের ক্ষমতা অনেক, পারলে যেখানে খুশি অভিযোগ কর’।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত

ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে সিআইডি ও মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস অভিযোগের নথিপত্র গ্রহণ করেছে। এছাড়া র‌্যাব-১, র‌্যাব-১০সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে অনলাইনে ঋণ দেওয়ার কোনো বৈধ বিধান নেই। ঋণের বিনিময়ে আগাম অর্থ, উপহার বা কমিশন দাবি করা হলে তা প্রতারণারই লক্ষণ।

বর্তমানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত লাকি খাতুনের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

নেত্রকোনা জেলা ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি

Update Time : ০১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ নুহু ইসলাম ্স্টাফ রিপোর্টার: ভুয়া নথি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন

নেত্রকোনা প্রতারণায়

ঢাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর নাম ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন জানান, নিজেকে মোহাম্মদ আলী মাইনু (ছদ্মনাম) নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ইফাদ-এর কর্মকর্তা দাবি করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ‘ইফাদ লিংক লোন’ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনলাইনে আবেদন করানো হয়।

পরবর্তীতে আবেদন সনদ, লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত সনদ ও লোন অনুমোদন সনদ নামে একাধিক নথিপত্র পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ফেরতযোগ্য ফি’ ও ‘ফান্ড ট্রান্সফার ফি’ বাবদ বিভিন্ন ধাপে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুয়া চিঠি ও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতারক চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের (বিআরডি) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির অনুকরণে ভুয়া নথি পাঠায়। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের অর্থ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, ৩০ লাখ টাকা ঋণ পেতে হলে ইফাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘উপহার’ হিসেবে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে।

পরিচয় জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকি

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন, সেগুলোর সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি বনানীর একটি ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর থেকেই আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দম্ভ করে বলছে—‘আমাদের ক্ষমতা অনেক, পারলে যেখানে খুশি অভিযোগ কর’।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত

ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে সিআইডি ও মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস অভিযোগের নথিপত্র গ্রহণ করেছে। এছাড়া র‌্যাব-১, র‌্যাব-১০সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে অনলাইনে ঋণ দেওয়ার কোনো বৈধ বিধান নেই। ঋণের বিনিময়ে আগাম অর্থ, উপহার বা কমিশন দাবি করা হলে তা প্রতারণারই লক্ষণ।

বর্তমানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত লাকি খাতুনের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।