বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে সাত নারী ধানের শীষের ঝড়, রুমিনের বিস্ফোরক চমক।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫২ Time View

বিকাল বার্তা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু ফলাফলে প্রাধান্য দেখাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৮৩ জন নারী প্রার্থীর লড়াই থেকে শেষ পর্যন্ত সাতজন জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই বিএনপির প্রার্থী, আর একমাত্র স্বতন্ত্র হিসেবে চমক দেখিয়েছেন রুমিন ফারহানা।

ভোটের মাঠে ধানের শীষের দাপট এতটাই ছিল যে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কার্যত ছিটকে পড়েছেন। বড় ব্যবধান, স্পষ্ট বার্তা নারী নেতৃত্বে এবার পিছিয়ে নেই বিরোধী শিবির।

মানিকগঞ্জ-৩:

আফরোজা খান রিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৬২ হাজার ৯১৬ ভোটে থেমে যান। ব্যবধানই বলে দিচ্ছে লড়াই কতটা একপেশে ছিল।

সিলেট-২:

‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী-র স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ৭৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধান এটি কেবল বিজয় নয়, রাজনৈতিক বার্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২:

নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ফল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে সবাইকে চমকে দেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রার্থীকে ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন দলীয় প্রতীক ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ফ্যাক্টর।

ঝালকাঠি-২:

ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী প্রায় ৪৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে।

 

ফরিদপুর-২:

শামা ওবায়েদ ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোটে জয়ী। প্রতিদ্বন্দ্বী ৮৭ হাজারে আটকে।

ফরিদপুর-৩: নায়াব ইউসুফ আহমেদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোটে জয় নিশ্চিত করেন। ব্যবধান প্রায় ২৪ হাজার।

 

নাটোর-১:

ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ১ হাজার ৬৮৪ ভোটে এগিয়ে থেকে আসনটি দখলে নেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৯১ হাজার ৩০১ ভোটে থেমে যান।

 

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৮৩ জন কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন মাত্র সাতজন।

বিএনপি জোটের জয়ের ঢেউয়ের ভেতর এই সাত নারীর উত্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে মাঠের লড়াইয়ে নারীরা এখন আর ‘সহযোগী’ নন, বরং ‘ফ্রন্টলাইন ফোর্স’। বিশেষ করে রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র বিজয় এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সংসদে সাত নারী ধানের শীষের ঝড়, রুমিনের বিস্ফোরক চমক।

Update Time : ১২:০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিকাল বার্তা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু ফলাফলে প্রাধান্য দেখাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৮৩ জন নারী প্রার্থীর লড়াই থেকে শেষ পর্যন্ত সাতজন জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই বিএনপির প্রার্থী, আর একমাত্র স্বতন্ত্র হিসেবে চমক দেখিয়েছেন রুমিন ফারহানা।

ভোটের মাঠে ধানের শীষের দাপট এতটাই ছিল যে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কার্যত ছিটকে পড়েছেন। বড় ব্যবধান, স্পষ্ট বার্তা নারী নেতৃত্বে এবার পিছিয়ে নেই বিরোধী শিবির।

মানিকগঞ্জ-৩:

আফরোজা খান রিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৬২ হাজার ৯১৬ ভোটে থেমে যান। ব্যবধানই বলে দিচ্ছে লড়াই কতটা একপেশে ছিল।

সিলেট-২:

‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী-র স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ৭৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধান এটি কেবল বিজয় নয়, রাজনৈতিক বার্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২:

নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ফল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে সবাইকে চমকে দেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রার্থীকে ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন দলীয় প্রতীক ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ফ্যাক্টর।

ঝালকাঠি-২:

ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী প্রায় ৪৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে।

 

ফরিদপুর-২:

শামা ওবায়েদ ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোটে জয়ী। প্রতিদ্বন্দ্বী ৮৭ হাজারে আটকে।

ফরিদপুর-৩: নায়াব ইউসুফ আহমেদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোটে জয় নিশ্চিত করেন। ব্যবধান প্রায় ২৪ হাজার।

 

নাটোর-১:

ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ১ হাজার ৬৮৪ ভোটে এগিয়ে থেকে আসনটি দখলে নেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৯১ হাজার ৩০১ ভোটে থেমে যান।

 

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৮৩ জন কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন মাত্র সাতজন।

বিএনপি জোটের জয়ের ঢেউয়ের ভেতর এই সাত নারীর উত্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে মাঠের লড়াইয়ে নারীরা এখন আর ‘সহযোগী’ নন, বরং ‘ফ্রন্টলাইন ফোর্স’। বিশেষ করে রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র বিজয় এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।