বাংলাদেশ ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে একের পর এক গুরুতর মামলায় আওয়ামী নেতৃবৃন্দের জামিনে মুক্তি গভীর সন্দেহ ও উদ্বেগজনক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ Time View

তানজিল হোসেন, বরিশাল: বরিশালে গুরুতর মামলায় আ.লীগ নেতাদের জামিনে মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ, আদালতে ভাঙচুরের নিন্দা গণসংহতি আন্দোলনের। বরিশালে একের পর এক গুরুতর মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন, বরিশাল জেলা কমিটি। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে মব সৃষ্টি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

অদ্য মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়া আওয়ামী লীগের বরিশালের সম্মুখসারির বেশ কয়েকজন নেতা, যারা সে সময় আন্দোলন দমন-পীড়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য একাধিক মামলা বিচারাধীন—তাদের কেউ কেউ সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টি জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে তারা মন্তব্য করেন।

 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের সহিংস ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি কিংবা কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা জনমনে সন্দেহ ও অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

 

একই সঙ্গে তারা আদালত প্রাঙ্গণে কিছু ব্যক্তির মব সৃষ্টির চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের ওপর যে কোনো ধরনের আক্রমণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপমুক্ত রেখে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আদালতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সাংবিধানিক অধিকার হলেও তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পন্থায় হওয়া উচিত।

 

শেষে নেতৃবৃন্দ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

বরিশালে একের পর এক গুরুতর মামলায় আওয়ামী নেতৃবৃন্দের জামিনে মুক্তি গভীর সন্দেহ ও উদ্বেগজনক

Update Time : ০৯:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তানজিল হোসেন, বরিশাল: বরিশালে গুরুতর মামলায় আ.লীগ নেতাদের জামিনে মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ, আদালতে ভাঙচুরের নিন্দা গণসংহতি আন্দোলনের। বরিশালে একের পর এক গুরুতর মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন, বরিশাল জেলা কমিটি। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে মব সৃষ্টি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

অদ্য মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়া আওয়ামী লীগের বরিশালের সম্মুখসারির বেশ কয়েকজন নেতা, যারা সে সময় আন্দোলন দমন-পীড়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য একাধিক মামলা বিচারাধীন—তাদের কেউ কেউ সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টি জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে তারা মন্তব্য করেন।

 

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের সহিংস ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি কিংবা কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা জনমনে সন্দেহ ও অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

 

একই সঙ্গে তারা আদালত প্রাঙ্গণে কিছু ব্যক্তির মব সৃষ্টির চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের ওপর যে কোনো ধরনের আক্রমণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপমুক্ত রেখে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আদালতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সাংবিধানিক অধিকার হলেও তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পন্থায় হওয়া উচিত।

 

শেষে নেতৃবৃন্দ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।