বাংলাদেশ ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনি হত্যার ‘নেপথ্যে সৌদি চাপ’, দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৮৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-এর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। হামলায় ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

হামলাটি চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post এবং বার্তা সংস্থা Reuters চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।

দুইটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার কিছুক্ষণ আগে খামেনি নিরাপদ স্থানে তার সিনিয়র উপদেষ্টা আলি লারিজানি ও আলি শামখানি-এর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। সেই সময়ই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই দেশের সমন্বিত চাপ ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সামরিক অভিযানে উৎসাহিত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সাবেক শাহ পরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-কে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তেহরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তার ভাই খালিদ বিন সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানবিরোধী একই বার্তা দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

খামেনি হত্যার ‘নেপথ্যে সৌদি চাপ’, দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

Update Time : ০৬:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-এর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। হামলায় ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

হামলাটি চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post এবং বার্তা সংস্থা Reuters চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।

দুইটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার কিছুক্ষণ আগে খামেনি নিরাপদ স্থানে তার সিনিয়র উপদেষ্টা আলি লারিজানি ও আলি শামখানি-এর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। সেই সময়ই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই দেশের সমন্বিত চাপ ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সামরিক অভিযানে উৎসাহিত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সাবেক শাহ পরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-কে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তেহরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তার ভাই খালিদ বিন সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানবিরোধী একই বার্তা দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।