
স্টাফ রিপোর্টার- চিকিৎসা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী। অদ্য ৪ মার্চ (বুধবার) সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব এবং সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ওঠে। রোগীর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকা সত্ত্বেও দ্রুত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণে গাফিলতি দেখা যায়। এ অবস্থায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানাতে ফাতেমা রহমান বিথী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি গ্রুপ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রোগীর জীবনরক্ষার প্রশ্নে প্রতিবাদ জানানো কোনো অপরাধ নয়; বরং চিকিৎসা সেবায় অবহেলা বা বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু এর পরিবর্তে একজন ছাত্রনেত্রীকে হেনস্তা করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জরুরি বিভাগে স্ট্রোকের মতো গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেখানে অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় একজন ছাত্রনেত্রীকে হেনস্তা করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
নেতৃদ্বয় অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা ফাতেমা রহমান বিথীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার সঙ্গে হওয়া অসদাচরণের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি জানান।
তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ
১. ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. ফাতেমা রহমান বিথীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ।
৩. জরুরি বিভাগে স্ট্রোকসহ গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা।
৪. হাসপাতালের সার্বিক সেবাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও তদারকি জোরদার করা।
স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্ট্রোক রোগীর ক্ষেত্রে “গোল্ডেন আওয়ার” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে জরুরি বিভাগে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং স্পষ্ট প্রটোকল অনুসরণ অত্যাবশ্যক।
ঘটনাটি স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, চিকিৎসা সেবায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা জবাবদিহিতা দাবি করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এর বিপরীতে হেনস্তা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
Reporter Name 
























