বাংলাদেশ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানব পাচারের সিরাজুল ইসলাম বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা দিয়ে উধাও।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • ৮১ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশে আদম ব্যবসায়ী চক্রের প্রতারণার বিষয়টি বহুল আলোচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কিছু প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হলেও এসব চক্রের বহু সদস্য থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পরে ১/মুরুল হুদা রুমেল, ২/ মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান দুই ভুক্তভোগী কিভাবে তরুণরা সর্বস্ব হারাচ্ছেন তা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

 

 

সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার বিষয়ে তরুণদের আগ্রহ বেড়েছে। এ আগ্রহকে পুঁজি করে ইউরোপের ভুয়া ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ইত্যাদি দেখিয়ে তরুণদের কৌশলে ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। এরপর নানা কৌশলে তরুণদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ওই মানব পাচার চক্র সিরাজুল ইসলাম। প্রথমে দেশে কয়েক দফা তরুণদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

 

 

পরে তাদের পাঠানো হয় ভারতে। বলা হয়, সেখান থেকে তাদের ইউরোপ পাঠানো হবে। এরপর সেখানেও ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তরুণদের হোটেলে জিম্মি করে রাখা হয় টাকা না দিলে চলতে থাকে নির্যাতন। সম্প্রতি ভারত থেকে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পা দেওয়া

 

 

৮ জন তরুণ। এদের মধ্যে দুজন মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলাম টাকা নিয়ে বর্তমানে উধাও । জানা গেছে, মানব পাচার চক্রের কয়েকজন রাজধানীতে রংপুর বনশ্রী এলাকায় ঘুরাঘুরি করছে।

 

মানব পাচার চক্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিক যুক্ত থাকে। তাই এ চক্রের সব সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজটি কঠিন। যেহেতু আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, সেহেতু পাচার চক্রের সব সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলে এদের খপ্পরে পড়ে দেশের বহু তরুণ সর্বস্ব হারাবেন, এমন আশঙ্কা থেকেই যায়। জানা গেছে, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরে এখনো বহু বাংলাদেশি তরুণ জিম্মি করে সিরাজুল ইসলাম । এদের যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায় সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আদম ব্যবসায়ী চক্রের প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রতারকদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকার বিষয়টি দৃশ্যমান নয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতারণা করে যাতে কেউ পার পেতে না পরে সেজন্য জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার। মানব পাচার চক্রের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বেপরোয়া হয়ে ওঠার রহস্যও উদ্ঘাটন করা জরুরি। এসব বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করার পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে কর্মসংস্থানের সংকট দূর না হলে এ ধরনের সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

শীর্ষ প্রতারক মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলাম ২৮ লক্ষ টাকা একটি চেক প্রদান করেন পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজনার করা হয় আজও সেই টাকাটি পাইলো না ভুক্তভোগী

মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান প্রতারক সিরাজুল ইসলাম এর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করিলে । মোবাইল বন্ধ করে দেয়। তিন বছর ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শীর্ষ প্রতারক সিরাজুল ইসলামের ।

 

মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলামকে একদিন আটকের পর একটি হলকনামা গিয়েছিলো যার আমলনামা নিচে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

১ম পক্ষঃ

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পিতাঃ মোঃ আব্দুর রশিদ মোল্লা, বর্তমান ঠিকানাঃ প্লট নং-১৬৯/১৩/৯, পুষ্প শ্রী আবাসিক এলাকা, পূর্ব রামপুরা, রাপমপুরা, ঢাকা-১২১৯। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৪৬৪২৬২৪৫১৬।

 

২য় পক্ষঃ ১।

 

মুরুল হুদা রুমেল, পিতাঃ মোঃ হজরত আলী, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম: নয়ানগর, থানা: সিরাজদিখান, জেলা: মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং:-১৯৭২৫৯১৭৪৮১০০০০২৮। যিনি ২য় পক্ষের প্রধান ব্যক্তি।

দ্বিতীয় পক্ষ ২।

 

মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান, পিতাঃ মদরীছ আলী, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম: রাউৎগাঁও উত্তর, থানা: কুলাউরা, জেলা: মৌলবিবাজার। (বর্তমান ঠিকানাঃ হোটেল আইডিয়াল, রোম নং-৪০৩, ফকিরাপুল, ঢাকা)। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৭৭৫৫৬৫৭৩৮৯। ৩। আনিসুর রহমান আনিস, মালিক মেসার্স সানলাইট এন্টার প্রাইজ (আর. এল-৪৭৫) বর্তমান ঠিকানাঃ ২১৪/ই প্রগতি টাওয়ার, (৯ম তলা), মেরুল বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।

 

দুলাল নামে এক আদম ব্যবসায়ী বন্ধুর মাধ্যমে ১ম পক্ষের সাথে ২য় পক্ষের পরিচয় হয়, আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে ১ম পক্ষ তার বন্ধু রুবেল জামানীর PR সম্পর্ক দিয়ে বলে ইউরোপের MALTA শ্রমিক পাঠাবে বলে ডিমান্ড লেটার দেখায়।

 

সুচনা- ১ম বারঃ (২য় পক্ষের রুমেল ও উছমান একত্রে মিলে মিশে ১ম পক্ষের সাথে কাজ ও লেনদেন শুরু করে কিন্তু যাচাই ব্যতিত লেবাস ধারীকে বিশ্বাস করার পরিনাম।) তাই ৫টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়া হয়, ভার কিছুদিন পয় MALTA ওয়ার্ক পারমিট আনে। এর জন্য ৩৫০০০০/-(তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ১ম পক্ষকে দেয়া হয়। এর পর ইন্ডিয়ার ভিসা লাগিয়ে যাত্রী ইন্ডিয়ায় গিয়ে MALTA এমবাসীতে সাবমিট করে। প্রায় দের মাস ইন্ডিয়ায় অবস্থান করে MALTA ভিসা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসো তাতে ইন্ডিয়ায় থাকা খাওয়ার খরচ হয় ১৫০০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা।

 

 

২য় বারও এমতবস্থায় ১ম পক্ষ কানাডার ভিসা দিতে পারবে বলে ২য় পক্ষকে প্রস্তাব দেয়, ২য় পক্ষ বিশ্বাস করে কানাড়ার জন্য অন্য মোট ৮টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর কানাডার কিছু কাগজপত্র দেয়, যেমন কোম্পানীর অফার লেটার এবং L.M.I.A দেয়। এর উপর ভিত্তি ও বিশ্বাস করে, আবারও ২য় পক্ষ ১ম পক্ষকে মোট ৬৫০০০০/-(ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়।

 

পর্যায়ক্রমে আরো ২৫০০০০/-(দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়। কিন্তু কানাডার কাগজপত্র জাল প্রমানিত হলে ভিসা প্রসেসিং বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে ৯০০০০/ (নব্বই হাজার) টাকা ফেরৎ দেয়। কিছুদিন পর রুমেল সিরাজের সাথে আনিস নামে এক ব্যক্তি সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় তাই ব্রোমনিয়ার ব্যাপারে আনিসের যুক্ত হয়।

 

 

৩য় বারঃ ১ন পক্ষ ২য় পক্ষকে রুমানিয়ায় শ্রমিক পাঠাবে বলে প্রস্তাব দেয়। তাতে ২য় পক্ষের আনিস সাহেব অন্য ২৮টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়। ১ম পক্ষ কিছুদিন পর রুমানিয়ার ওয়ার্ক পারমিট দেয় এর জন্য আনিসের কাছ থেকে ৭০০০০০/-(সাত লক্ষ) টাকা নেয়। এই সময়ে ১ম পক্ষ তার এক ভাতিজা সানোয়ারের সাথে রুমেল ও আনিসকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের আলোচনা সাপেক্ষে সানোয়ার ৫জন যাত্রী রোমানিয়ার উদ্দেশ্যে দুবাই ভিজিট ভিসা করে এরজন্য আবার আনিস সানোয়ারকে সিরাজের কথায় ৫০০০০০/(পাঁচ লক্ষ) টাকা দেয়। একজন যাত্রী দুবাই পাঠায়।

 

 

সেখানে ২০দিন অবস্থান করে কিন্তু রোমানিয়া পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করতে পারায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। এরপর ১ম পক্ষ হাতে পায়ে ধরে মাফচেয়ে আর একবার সুযোগ চায়। এবার ১ম পক্ষ রোমানিয়ার ওয়ার্ক পারমিট এনে পাসপোর্ট ইন্ডিয়ায় পাঠিয়েছে বলে রোমানিয়া এম্বাসির জমা রিসিট দের, ২০দিন পর য়োমানিয়ার ভিসার কপি দেখায়। তাতে পর্যায় ক্রমে মোট ৩,৫০০০০/ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ২য় পক্ষর রুমেল ১ম পক্ষকে দেয়। এর পর থেকে ১ম পক্ষ শুধু ফ্লাইটের তারিখ দিতে থাকে। অনেক দিন হওয়ার পর ফ্লাইট দিতে না পারায় ২য় পক্ষ ক্ষীপ্ত হয়ে ভরা মজলিসে ১ম পক্ষকে আটক করার পর ।

 

 

MEND মোঃ সিরাজল ইসলাম ৩ পক্ষ তার সমস্ত ভুলত্রুটি এবং তার দেয়া সমস্ত ডকোমেন্টস ও জাল ভিসা বলে স্বীকার করে সমস্ত পাসপোর্ট ফেরৎ দেয় সেখানে ২টি পাসপোর্টের ভিতরে রোমানিয়ার জাল ভিসা লাগানো স্টিকার পাওয়া যায়। ভরা মজলিসে ১ম পক্ষ সর্ব মোট নেয়া ২৯৫০০০০/-(উনত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বিভিন্ন কিস্তিতে ফেরৎ দিবে বলে অঙ্গীকার করে। তার ব্র্যাক ব্যাংক এর চেক প্রদান করে, (চেক নং SBF 3190129)। কথা থাকে যে, যথেষ্ট সুযোগ দেয়ার পরেও যদি ১ম পক্ষ টাকা ফেরত দিতে কোনো প্রকার তাল বাহানা করিলে ২য় পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

 

 

শীর্ষ প্রতারক সিরাজুল ইসলামের সন্ধান দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান।

 

যোগাযোগ: +880 1720-363599

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

মানব পাচারের সিরাজুল ইসলাম বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা দিয়ে উধাও।

Update Time : ০৯:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

 

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশে আদম ব্যবসায়ী চক্রের প্রতারণার বিষয়টি বহুল আলোচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কিছু প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হলেও এসব চক্রের বহু সদস্য থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পরে ১/মুরুল হুদা রুমেল, ২/ মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান দুই ভুক্তভোগী কিভাবে তরুণরা সর্বস্ব হারাচ্ছেন তা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

 

 

সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার বিষয়ে তরুণদের আগ্রহ বেড়েছে। এ আগ্রহকে পুঁজি করে ইউরোপের ভুয়া ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ইত্যাদি দেখিয়ে তরুণদের কৌশলে ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। এরপর নানা কৌশলে তরুণদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ওই মানব পাচার চক্র সিরাজুল ইসলাম। প্রথমে দেশে কয়েক দফা তরুণদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

 

 

পরে তাদের পাঠানো হয় ভারতে। বলা হয়, সেখান থেকে তাদের ইউরোপ পাঠানো হবে। এরপর সেখানেও ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তরুণদের হোটেলে জিম্মি করে রাখা হয় টাকা না দিলে চলতে থাকে নির্যাতন। সম্প্রতি ভারত থেকে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পা দেওয়া

 

 

৮ জন তরুণ। এদের মধ্যে দুজন মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলাম টাকা নিয়ে বর্তমানে উধাও । জানা গেছে, মানব পাচার চক্রের কয়েকজন রাজধানীতে রংপুর বনশ্রী এলাকায় ঘুরাঘুরি করছে।

 

মানব পাচার চক্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিক যুক্ত থাকে। তাই এ চক্রের সব সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজটি কঠিন। যেহেতু আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, সেহেতু পাচার চক্রের সব সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলে এদের খপ্পরে পড়ে দেশের বহু তরুণ সর্বস্ব হারাবেন, এমন আশঙ্কা থেকেই যায়। জানা গেছে, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরে এখনো বহু বাংলাদেশি তরুণ জিম্মি করে সিরাজুল ইসলাম । এদের যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায় সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আদম ব্যবসায়ী চক্রের প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রতারকদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকার বিষয়টি দৃশ্যমান নয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতারণা করে যাতে কেউ পার পেতে না পরে সেজন্য জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার। মানব পাচার চক্রের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বেপরোয়া হয়ে ওঠার রহস্যও উদ্ঘাটন করা জরুরি। এসব বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করার পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে কর্মসংস্থানের সংকট দূর না হলে এ ধরনের সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

শীর্ষ প্রতারক মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলাম ২৮ লক্ষ টাকা একটি চেক প্রদান করেন পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজনার করা হয় আজও সেই টাকাটি পাইলো না ভুক্তভোগী

মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান প্রতারক সিরাজুল ইসলাম এর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করিলে । মোবাইল বন্ধ করে দেয়। তিন বছর ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শীর্ষ প্রতারক সিরাজুল ইসলামের ।

 

মানব পাচারকারী সিরাজুল ইসলামকে একদিন আটকের পর একটি হলকনামা গিয়েছিলো যার আমলনামা নিচে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

১ম পক্ষঃ

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পিতাঃ মোঃ আব্দুর রশিদ মোল্লা, বর্তমান ঠিকানাঃ প্লট নং-১৬৯/১৩/৯, পুষ্প শ্রী আবাসিক এলাকা, পূর্ব রামপুরা, রাপমপুরা, ঢাকা-১২১৯। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৪৬৪২৬২৪৫১৬।

 

২য় পক্ষঃ ১।

 

মুরুল হুদা রুমেল, পিতাঃ মোঃ হজরত আলী, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম: নয়ানগর, থানা: সিরাজদিখান, জেলা: মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং:-১৯৭২৫৯১৭৪৮১০০০০২৮। যিনি ২য় পক্ষের প্রধান ব্যক্তি।

দ্বিতীয় পক্ষ ২।

 

মোঃ সাইজুল ইসলাম উছমান, পিতাঃ মদরীছ আলী, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম: রাউৎগাঁও উত্তর, থানা: কুলাউরা, জেলা: মৌলবিবাজার। (বর্তমান ঠিকানাঃ হোটেল আইডিয়াল, রোম নং-৪০৩, ফকিরাপুল, ঢাকা)। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৭৭৫৫৬৫৭৩৮৯। ৩। আনিসুর রহমান আনিস, মালিক মেসার্স সানলাইট এন্টার প্রাইজ (আর. এল-৪৭৫) বর্তমান ঠিকানাঃ ২১৪/ই প্রগতি টাওয়ার, (৯ম তলা), মেরুল বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।

 

দুলাল নামে এক আদম ব্যবসায়ী বন্ধুর মাধ্যমে ১ম পক্ষের সাথে ২য় পক্ষের পরিচয় হয়, আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে ১ম পক্ষ তার বন্ধু রুবেল জামানীর PR সম্পর্ক দিয়ে বলে ইউরোপের MALTA শ্রমিক পাঠাবে বলে ডিমান্ড লেটার দেখায়।

 

সুচনা- ১ম বারঃ (২য় পক্ষের রুমেল ও উছমান একত্রে মিলে মিশে ১ম পক্ষের সাথে কাজ ও লেনদেন শুরু করে কিন্তু যাচাই ব্যতিত লেবাস ধারীকে বিশ্বাস করার পরিনাম।) তাই ৫টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়া হয়, ভার কিছুদিন পয় MALTA ওয়ার্ক পারমিট আনে। এর জন্য ৩৫০০০০/-(তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ১ম পক্ষকে দেয়া হয়। এর পর ইন্ডিয়ার ভিসা লাগিয়ে যাত্রী ইন্ডিয়ায় গিয়ে MALTA এমবাসীতে সাবমিট করে। প্রায় দের মাস ইন্ডিয়ায় অবস্থান করে MALTA ভিসা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসো তাতে ইন্ডিয়ায় থাকা খাওয়ার খরচ হয় ১৫০০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা।

 

 

২য় বারও এমতবস্থায় ১ম পক্ষ কানাডার ভিসা দিতে পারবে বলে ২য় পক্ষকে প্রস্তাব দেয়, ২য় পক্ষ বিশ্বাস করে কানাড়ার জন্য অন্য মোট ৮টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর কানাডার কিছু কাগজপত্র দেয়, যেমন কোম্পানীর অফার লেটার এবং L.M.I.A দেয়। এর উপর ভিত্তি ও বিশ্বাস করে, আবারও ২য় পক্ষ ১ম পক্ষকে মোট ৬৫০০০০/-(ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়।

 

পর্যায়ক্রমে আরো ২৫০০০০/-(দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়। কিন্তু কানাডার কাগজপত্র জাল প্রমানিত হলে ভিসা প্রসেসিং বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে ৯০০০০/ (নব্বই হাজার) টাকা ফেরৎ দেয়। কিছুদিন পর রুমেল সিরাজের সাথে আনিস নামে এক ব্যক্তি সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় তাই ব্রোমনিয়ার ব্যাপারে আনিসের যুক্ত হয়।

 

 

৩য় বারঃ ১ন পক্ষ ২য় পক্ষকে রুমানিয়ায় শ্রমিক পাঠাবে বলে প্রস্তাব দেয়। তাতে ২য় পক্ষের আনিস সাহেব অন্য ২৮টি পাসপোর্ট ১ম পক্ষকে দেয়। ১ম পক্ষ কিছুদিন পর রুমানিয়ার ওয়ার্ক পারমিট দেয় এর জন্য আনিসের কাছ থেকে ৭০০০০০/-(সাত লক্ষ) টাকা নেয়। এই সময়ে ১ম পক্ষ তার এক ভাতিজা সানোয়ারের সাথে রুমেল ও আনিসকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের আলোচনা সাপেক্ষে সানোয়ার ৫জন যাত্রী রোমানিয়ার উদ্দেশ্যে দুবাই ভিজিট ভিসা করে এরজন্য আবার আনিস সানোয়ারকে সিরাজের কথায় ৫০০০০০/(পাঁচ লক্ষ) টাকা দেয়। একজন যাত্রী দুবাই পাঠায়।

 

 

সেখানে ২০দিন অবস্থান করে কিন্তু রোমানিয়া পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করতে পারায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। এরপর ১ম পক্ষ হাতে পায়ে ধরে মাফচেয়ে আর একবার সুযোগ চায়। এবার ১ম পক্ষ রোমানিয়ার ওয়ার্ক পারমিট এনে পাসপোর্ট ইন্ডিয়ায় পাঠিয়েছে বলে রোমানিয়া এম্বাসির জমা রিসিট দের, ২০দিন পর য়োমানিয়ার ভিসার কপি দেখায়। তাতে পর্যায় ক্রমে মোট ৩,৫০০০০/ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ২য় পক্ষর রুমেল ১ম পক্ষকে দেয়। এর পর থেকে ১ম পক্ষ শুধু ফ্লাইটের তারিখ দিতে থাকে। অনেক দিন হওয়ার পর ফ্লাইট দিতে না পারায় ২য় পক্ষ ক্ষীপ্ত হয়ে ভরা মজলিসে ১ম পক্ষকে আটক করার পর ।

 

 

MEND মোঃ সিরাজল ইসলাম ৩ পক্ষ তার সমস্ত ভুলত্রুটি এবং তার দেয়া সমস্ত ডকোমেন্টস ও জাল ভিসা বলে স্বীকার করে সমস্ত পাসপোর্ট ফেরৎ দেয় সেখানে ২টি পাসপোর্টের ভিতরে রোমানিয়ার জাল ভিসা লাগানো স্টিকার পাওয়া যায়। ভরা মজলিসে ১ম পক্ষ সর্ব মোট নেয়া ২৯৫০০০০/-(উনত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বিভিন্ন কিস্তিতে ফেরৎ দিবে বলে অঙ্গীকার করে। তার ব্র্যাক ব্যাংক এর চেক প্রদান করে, (চেক নং SBF 3190129)। কথা থাকে যে, যথেষ্ট সুযোগ দেয়ার পরেও যদি ১ম পক্ষ টাকা ফেরত দিতে কোনো প্রকার তাল বাহানা করিলে ২য় পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

 

 

শীর্ষ প্রতারক সিরাজুল ইসলামের সন্ধান দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান।

 

যোগাযোগ: +880 1720-363599