
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: গঠনতন্ত্র, নৈতিকতা ও প্রচলিত আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের তথাকথিত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈধ ও সক্রিয় সদস্যদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে “পকেট কমিটি” গঠনের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।
সত্য কথা বলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরার অপরাধে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা। হামলার ঘটনায় তিনি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো একজন সাংবাদিককে এভাবে রক্তাক্ত করা প্রমাণ করে—এখানে সাংবাদিকতা নয়, বরং ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার অপচেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, একজন কলম সৈনিক কখনোই সন্ত্রাসের ভাষায় কথা বলে না। অথচ নবীগঞ্জে একটি প্রভাবশালী চক্র আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা, হুমকি ও নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই চক্রের পৃষ্ঠপোষক কারা, আর তাদেরই কি স্বার্থ রক্ষায় প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে?
আশাহীদ আলী আশার ওপর সন্ত্রাসী হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সচেতন সাংবাদিক মহল মনে করছেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত নির্বাচন স্থগিত না করা হলে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব স্বাধীন সাংবাদিকতার কেন্দ্র না থেকে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দখলদারিত্বের প্রতীকে পরিণত হবে। এখনই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ না হলে কলমের স্বাধীনতা চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
Reporter Name 






















