
এফ এম এ রাজ্জাক পাইকগাছা (খুলনা) খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ এসবি ইটভাটার দৌরাত্ম্যে ধ্বংসের মুখে পড়েছে উর্বর কৃষিজমি ও নদী। একদিকে নির্বিচারে মাটি কেটে ফসলি জমি নষ্ট করা হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর চর কেটে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে ওঠার পরই একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে বেকু মেশিন নামিয়ে দেয়। কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি, ইজারা কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর চর ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে গড়ে তোলা হয়েছে এসবি নামের একটি ইটভাটা। দিনের আলোতেই চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুকে বড় বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী রক্ষার দায়িত্ব যেখানে রাষ্ট্রের, সেখানে নদী ধ্বংসের এই প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
নদীর পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষিজমি। ধানক্ষেত ও সবজি চাষের জমি কেটে নেওয়ায় অনেক কৃষক তাদের জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছেন। মাটি কাটার ফলে তৈরি হওয়া গর্তে বৃষ্টির পানি জমে চাষাবাদ পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন,
“নদী কেটে চর বানাল, চর কেটে ভাটা চালাল—এখন আমাদের বাঁচার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসবি ইটভাটাটি বোয়ালিয়া ব্রিজের একেবারে সন্নিকটে অবস্থিত। ভারী যান চলাচল, মাটি পরিবহন ও বেকু মেশিনের তীব্র কম্পনে ব্রিজটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়াও ভাটার আশপাশে রয়েছে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও কালো ছাইয়ের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা। দিনের পর দিন অবৈধভাবে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হলেও নেই কোনো অভিযান, উচ্ছেদ বা আইনি ব্যবস্থা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি এই অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার সিন্ডিকেট প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে?
পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর চর থেকে মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংস করা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ইটভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং নদী রক্ষা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর পরিণতি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও চরম মূল্য দিতে হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে নদীর চর ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং অবৈধ এসবি ইটভাটা উচ্ছেদ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বোয়ালিয়া ব্রিজ এলাকা শুধু নদী ও কৃষিজমিই হারাবে না, হারাবে আইনের শাসনের শেষ চিহ্নটুকুও।
এ বিষয়ে এসবি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ডালিম সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 





















