বাংলাদেশ ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউনিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, ছোট গরুর চাহিদা বেশি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
  • ১০৭ Time View

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে কাউনিয়ায় শেষ মুহূর্তে জমে ওঠেছে কোরবানির পশুরহাট গুলো। কোরবানীকে সামনে রেখে উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৫হাজার ৬৪২টি গবাদি পশু। স্থানীয় খামার গুলোতে প্রস্তুত করা এসব পশু এলাকার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৮হাজার ৪০৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কোরবানির ঈদ অতি নিকটে আশায় পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড় বাড়ছে। একটি সূত্রে জানাগেছে প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারি ও কৃষকরা গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটা তাজাকরণে ব্যস্ত থাকেন। তাই এ বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

 

একাধিক খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গো-খাদ্যর দাম ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও কোরবানির পশুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আছে। এ বছর মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদ বেশি। রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার না করে নিরাপদ উপায়ে পশু হৃষ্ট-পুষ্টকরণ করেছে কাউনিয়ার খামারীরা। লালন-পালন খরচ আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় দাম চড়া থাকার সম্ভবনা রয়েছে।

 

ভারতীয় গরু কম আসায় বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা। উপজেলার টেপামধুপুর ও কাউনিয়া তকিপল হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে,বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন পাইকার বিক্রেতা, খামারি ও গবাদিপশু পালনকারি প্রান্তিক কৃষকগণ। দেশি ও উন্নত জাতের গরুতে বাজার ভরেগেছে। বিক্রেতারা বড় গরুর দাম হাঁকছেন ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ছোটো গরুর দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। উপজেলার বাইরে থেকে বিশেষ করে ফেনী, , ঢাকা, চট্রগ্রাম,নোয়াখালী থেকে বেশ কিছু পাইকার এসেছেন পশু কিনতে। প্রখর রোদ ও বৃষ্টিতে হাটে পশু বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমে উঠেছে কোরবানির হাট।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এবার উপজেলায় ছোট বড় ৩২৭৩ খামারীর খামারে কোরবানির জন্য প্রায় ষাঁড় ৬৬৩১টি, বলদ ২০২৬টি, গাভী ২০৮২টি, মহিষ ১০৮টি, ছাগল ১৩৯৪৫টি, ভেড়া ৮৪২টি, অন্যান্য ৮টি, মোট ২৫৬৪২টি পশু তৈরী করেছেন। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এআরএম আল মামুন বলেন, কাউনিয়া উপজেলায় ২৫হাজার ৬৪২টি পশু মজুত রয়েছে। কুরবানীর পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা অসুস্থ পশু চিহ্নিত করা, বাজারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া পশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা, গর্ভ পরীক্ষা, লিফলেট বিতরণসহ সহ গবাদি পশু ক্রেতা- বিক্রেতাদের নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন। আশা করছি খামারীরা তাদের পশুর ভাল দাম পাবেন।

কাউনিয়া তকিপল হাটের ইজারাদার মোঃ সফিকুল আলম (সফি) বলেন,হাটে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি হাট কমিটির পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারীর ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

কাউনিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, ছোট গরুর চাহিদা বেশি

Update Time : ০৪:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে কাউনিয়ায় শেষ মুহূর্তে জমে ওঠেছে কোরবানির পশুরহাট গুলো। কোরবানীকে সামনে রেখে উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৫হাজার ৬৪২টি গবাদি পশু। স্থানীয় খামার গুলোতে প্রস্তুত করা এসব পশু এলাকার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৮হাজার ৪০৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কোরবানির ঈদ অতি নিকটে আশায় পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড় বাড়ছে। একটি সূত্রে জানাগেছে প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারি ও কৃষকরা গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটা তাজাকরণে ব্যস্ত থাকেন। তাই এ বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

 

একাধিক খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গো-খাদ্যর দাম ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও কোরবানির পশুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আছে। এ বছর মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদ বেশি। রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার না করে নিরাপদ উপায়ে পশু হৃষ্ট-পুষ্টকরণ করেছে কাউনিয়ার খামারীরা। লালন-পালন খরচ আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় দাম চড়া থাকার সম্ভবনা রয়েছে।

 

ভারতীয় গরু কম আসায় বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা। উপজেলার টেপামধুপুর ও কাউনিয়া তকিপল হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে,বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন পাইকার বিক্রেতা, খামারি ও গবাদিপশু পালনকারি প্রান্তিক কৃষকগণ। দেশি ও উন্নত জাতের গরুতে বাজার ভরেগেছে। বিক্রেতারা বড় গরুর দাম হাঁকছেন ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ছোটো গরুর দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। উপজেলার বাইরে থেকে বিশেষ করে ফেনী, , ঢাকা, চট্রগ্রাম,নোয়াখালী থেকে বেশ কিছু পাইকার এসেছেন পশু কিনতে। প্রখর রোদ ও বৃষ্টিতে হাটে পশু বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমে উঠেছে কোরবানির হাট।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এবার উপজেলায় ছোট বড় ৩২৭৩ খামারীর খামারে কোরবানির জন্য প্রায় ষাঁড় ৬৬৩১টি, বলদ ২০২৬টি, গাভী ২০৮২টি, মহিষ ১০৮টি, ছাগল ১৩৯৪৫টি, ভেড়া ৮৪২টি, অন্যান্য ৮টি, মোট ২৫৬৪২টি পশু তৈরী করেছেন। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এআরএম আল মামুন বলেন, কাউনিয়া উপজেলায় ২৫হাজার ৬৪২টি পশু মজুত রয়েছে। কুরবানীর পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা অসুস্থ পশু চিহ্নিত করা, বাজারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া পশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা, গর্ভ পরীক্ষা, লিফলেট বিতরণসহ সহ গবাদি পশু ক্রেতা- বিক্রেতাদের নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন। আশা করছি খামারীরা তাদের পশুর ভাল দাম পাবেন।

কাউনিয়া তকিপল হাটের ইজারাদার মোঃ সফিকুল আলম (সফি) বলেন,হাটে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি হাট কমিটির পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারীর ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে ।