বাংলাদেশ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বগুড়ার হেলাল উদ্দিন!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • ২৯৯ Time View

 

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো::

নূরানী চেহারা আর মুখের মিষ্টি ভাষায় আকৃষ্ট করেন মানুষকে নিজের দিকে, দেখলে মনে হবে নিহাত আল্লাহর অলি। নিজে আলেম পরিচয় দেন।

কিন্তু লোকটা ভন্ড বিশ্ব প্রতারক। তার নাম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, তবে প্রতারণার সময় পরিচয় দেন আ: রহমান নাম

 

এই প্রতারক বক্তি বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ কোটির বেশি টাকা।

তার প্রতারণার শিকার

আশিক এলাহী নামের এক ব্যক্তি, তার বড় ভাইয়ের লিখিত বক্তব্য নিচে তুলে ধরলাম তিনি বলেন ওনার ছোটভাই আশিকে এলাহি

এক চিল্লার জন্য তাবলীগ জামাতে বের হয়েছিলো তাদের জামায়াতে সেই একমাত্র আলিম ছিলো। আর বাকি সবাই মুরুব্বি।মাগরিবের নামাজের পরে বয়ান করতেছিলো। এরমধ্যে এই ছদ্দবেশী প্রতারক লোকটি মসজিদে প্রবেশ করে। চার পাঁচ দিন এভাবে মসজিদে তালিমে বসে। একদিন তালিমের ফাঁকে সামনে এসে জিজ্ঞেস করে বাবাজি তোমার নাম কী?

 

সে বলে ‘আশিক এলাহী।’

 

লোকটা বলে, ‘ঠিক তোমার মতো দেখতে আমার একটা ছেলে আছে। তোমার মতোই মাথায় বাবরিচুল।

 

চেহারাও কিছুটা তোমার মতো। তার ছেলের ছবি দেখালো। আসলেই ছেলেটা দেখতে আশিকের মতো ছিলো কিছুটা।

আমার ছেলে মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। এভাবে কয়েকদিন ছোট ভাইয়ের সাথে এই লোকের আলাপচারিতা হয়। বাসা কোথায়, বাবা কী করে, কয় ভাইবোন, তার ফিউচার প্ল্যান কী? আশিক সবকিছু উত্তর দেয়।

 

লোকটা বলে সে আমেরিকার বুস্টান শহরে থাকে। তখন আমার ভাইয়েরও নিউইয়র্কে যাওয়ার কথাবার্তা হচ্ছিলো। কিন্তু সেটা ফাইনাল ছিলো না।

এসব কথাবার্তা বলার দুইতিন দিন পর সে বলল, বুস্টান শহরে তার শ্বশুরের একটা মসজিদ আছে। শ্বশুর আমেরিকান।

সেই মসজিদের ইমাম সাহেব বৃদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন ইন্সট্যান্ট ইমাম নিবে। আমার ভাইয়ের তেলাওয়াত শুনে তার ভালো লাগে। তারপর সে প্রস্তাব দেয় আমি চাই তোমাকে আমেরিকার বুস্টানে নিয়ে যেতে। সেরকম খরচ লাগবে না।

 

তারপর লোকটা বলে এসব কথাবার্তা তো মসজিদে বসে বলা যায় না

 

চলো আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে বসি।

তার ব্যবহার, কথাবার্তা এতটা অমায়িক ছিলো যে কেউ তার ভক্ত হতে বাধ্য৷ তারপর রেস্টুরেন্টে নিয়ে চাউমিন খেতে দেয়। ভাই বলে আঙ্কেল আমি এটা খেতে পারবো না। লোকটা এমনভাবে অনুরোধ করলো তারপর সে বাধ্য হলো খেতে।

 

আমার ভাইয়ের থেকে আব্বুর নাম্বার নিলো লোকটা। তারপর আব্বুকে সব খুলে বলল। জানিনা লোকটার কথায় কী জাদু ছিলো, আমার জ্ঞানী বাবাও এই লোকের কথা বিশ্বাস করে নেয়। কেমন যেন জিম্মি হয়ে যায়।

 

আমার ভাইকে যদি বলা হতো লোকটার বাসা কোথায়, তার আত্মিয়স্বজন কে কে আছে খোঁজ নিতে সে কেন যেনো রেগে যেতো। তারপর পাসপোর্ট করলো। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে নাকি অনেক কাটখোড় পোহানো লাগবে, দালালরা অনেক টাকা খাবে। এজন্য দিল্লি থেকে যেতে চাইলো।

 

যেখানে আমেরিকা যেতে ২৫/৩০ লাখ লেগে যায় সেখানে ১৫ লাখ লাগবে।

 

কারণ লোকটা ফ্যামিলি ভিসায় নিতে চেয়েছে।

 

বিশ্বাস করার অনেক কারণ ছিলো, সে ওমরা গিয়ে কাবা শরিফের ঘরের সামনে, তাওয়াফ করার সময়, সায়ী করার সময়, মদিনা গিয়ে আমার আব্বুর সাথে, ভাইয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতো। কাবার গিলাফের কাছে গিয়ে বলেছে ভাইজান চিন্তা করবেন না আপনার ছেলেকে আমি আমার নিজের সন্তানের মতো জানি। বিশ্বাস অর্জনের জন্য যা যা লাগে সব করেছে সে।

 

দেশে এসে আমার ভাইকে সে বলল, ভাইপো, আমাকে চিংড়ি মাছ গিফট করো। আমাদের এলাকা চিংড়ির জন্য বিক্ষাত। আমার দয়ালু বাবা ১৫ কেজি গলদা চিংড়ি উপহার দেয়। সেটা নাকি সে আমেরিকা পাঠাবে।

 

তারপর ভিভো নতুন ফোন কিনালো, এটা নাকি লাগবে এম্বাসিতে দেখানোর জন্য। ব্লাড কানেক্টেড ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বলা যাবে না। কারণ দিল্লির চেকপোস্টে এগুলো চেক করে। এগুলো মাথার উপর দিয়ে যায় আমাদের। ভিসা নেওয়ার সময় এম্বাসিতে নতুন ফোন জমা দিতে হবে।

প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পাঠায়। এটা ভিসার কাজে লাগবে। যা যা করানো লাগে সবই করে, মেডিকেল থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু ঢাকা থেকে করে।

কিন্তু ভিসা দিল্লি থেকে করতে হবে। দিল্লি হয়ে গেলে সুবিধা।

 

লোকটা বারবার বলতো, বাংলাদেশের মানুষ হলো কুত্তা। এরা টাকার কুত্তা। সব দালাল, সব জায়গায় ঘুষ খায়। বলতো, ঘুষ আমি খাবো না। এসব আমি পছন্দ করি না। খাবারও বেছে চলতো। এমনভাবে বলতো মনে হতো সে একজন আল্লাহর ওলী।

 

৫ লাখ টাকা ডলার করে বেনাপোল থেকে দিল্লিতে যায়। সেখানে একটা হোটেল বুকিং করে আশিককে রাখে। সেখানে মিট আইটেম কিছুই যেন না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক করতো। মাছ সবজী এসব যেন খায়। মাংস তো হালাল হবে না।

 

দিল্লি এম্বাসিতে ঢোকার সাথে সাথে সেখানে চেক করে বলে এগুলো কিসের ডলার? এটা বলার সাথে সাথে এই লোকটা ভাইয়ের থেকে ডলার গুলো নিয়ে বলে এগুলো কিছু না। এই ছেলেটা আমার রিলেটিভ। ভিসা হতে তিনদিন লাগবে। কোনো সমস্যা নেই সবই ঠিক আছে।

 

তিনদিন দিল্লিতে বসে কী করবে এজন্য লোকটা ট্যুরিস্ট বাস বুকিং করে বলে, ‘আশিক, আজ সারাদিন দিল্লি শহর ঘুরে দেখো। একা একা ভালো লাগবে না। লোকটা নিজের সাথে আশিককে রাখলো না। কারণ লোকটার সাথে তার স্ত্রী ছিলো। স্ত্রী হলো আমেরিকান মহিলা। আগে অমুসলিম ছিল, পরে মুসলিম হয়ে এই লোককে বিবাহ করে। তার স্ত্রী আসার কারণ হলো সে যেহেতু সরাসরি আমেরিকান এজন্য ভিসা হতে সময় লাগবে না।

 

সারাদিন দিল্লিতে ঘুরে রাতে হোটেলে ফিরে চোখটা লেগে আসে আশিকের৷ রাত ২ টার সময় তার ফোনে ম্যাসেজ আসে, বাবাজি আমার শ্বাশুড়ি মারা গেছে, সে তো অসুস্থ ছিলো কয়েকমাস ধরে। তোমার আন্টিই তাদের একমাত্র মেয়ে। তোমার আন্টি একদম ভেঙ্গে পড়েছে। এজন্য তাকে নিয়ে ইন্সট্যান্ট টিকিট কেটে আমেরিকা চলে যাচ্ছি।

ইনশাআল্লাহ ৩ মাস পরে এসে আমরা তোমাকে নিয়ে যাবো। আমার ভাই তো তখন সর্বশান্ত। তার হাতে ২ হাজার টাকা ছাড়া কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পরে সে দেশে আসে।

 

তারপর ৩ মাস গেলো, তখন আরেকটা অযুহাত দেখালো। একবার তার শ্বাশুড়ি মরলো, আরেকবার তার বউ অসুস্থ হলো, শেষে তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ম্যাসেজ আসলো, ‘বাবাজি আমি তোমার আঙ্কেলের বোন ফুফু বলতেছি। তোমার আঙ্কেল মারা গেছে। আমরা তোমাদের ১০ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাই। ব্যাংক আকাউন্টের নাম্বার পাঠাও, আমার ভাই একাউন্ট নাম্বার পাঠালো। আজ দেব, কাল দেব করে দেয়নি।

 

যে ম্যাসেজ এসেছিলো সেই ম্যাসেজের ধরণ এই লোকের ম্যাসেজের মতোই ছিলো। সে মারা গেলো কী করে!

 

এই খবর শোনার পরে আমার ভাই, আব্বু ভেঙ্গে পড়েছিলো একদম। আমার মনে হচ্ছিলো, কী যেন হয়ে গেলো। কয়েকমাস আমাদের পরিবার একটা ট্রমার ভেতর ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিবে! কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। খোঁজ নিয়ে যেটা বের হয়, লোকটার নাম বলেছিলো আব্দুর রহমান। কিন্তু ব্যাংক একাউন্টে নাম ছিলো হেলাল উদ্দীন। এটা একটা গ্যাং, যার সাথে অনেক হিন্দু জড়িত।

 

আমাদের এসবে যখন সন্দেহ হতো তখন বলতাম লোকটা যদি ফ্রড হয়? এই কথা বললে আমার ভাই এবং আব্বু দুজনই কেনো যেন রেগে যেতো। এখানে রেগে যাওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। আমার আব্বু কখনোই কাউকে এভাবে বিশ্বাস করে টাকা দেয়নি। এই লোকটাকে কেনো বিশ্বাস করলো তিনি এখনো বুঝে উঠতে পারেননা। আমার ভাই তো এক প্রকার উন্মাদ ছিলো। তার আচরণ ছিলো অন্যরকম।

 

আমাদের অনেক আত্মিয়স্বজন আমেরিকা আছে। জেঠা, মামাদের অনেকেই আছে। আব্বু তাদের সাথেও শুরুতে এই লোকের কথা বলে, তারাও বলল হয়তো ভালো হবে। কিন্তু এত বড় প্রতারণার ফাঁদ বুঝলো না।

লেবাস আর কথায় বিশ্বাস করেছে। সে নিজেকে আলিম পরিচয় দিয়েছিলো। কথাবার্তাও আলিমের মতোই ছিলো।

 

শেষে একটাই সান্ত্বনা মনকে দিলাম আমার ভাইকে দিল্লি নিয়ে মেরে ফেলেনি এটাই অনেক।

 

সিলেটের মাওলানা জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সিলেট শাহপরান থানায় তার বিরুদ্ধে লিখত অভিযোগ করেন। মাওলানা জাহিদুল এর কাছ থেকে অভিনব কায়দায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

আমেরিকায় পাঠাবে বলে প্রতারণা করে ।

স্হায়ী ঠিকানা : মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ছদ্ম নাম আ:রহমান) পিতা:মোঃ আয়েজ উদ্দিন,মাতা: মোছাঃ জামিলা বেগম স্ত্রী মোছাঃ মুর্শিদা খাতুন। Occupation ব্যবসা Blood Group 0- জন্ম তারিখ ০১-০২-১৯৬৫

০ ফুলবাড়ী, জয়পুর পাড়া দক্ষিন, ওয়ার্ড নং-১৭, বগুড়া পৌরসভা, পৌরসভা, বগুড়া, সদর জেলা বগুড়া।

 

অস্থায়ী ঠিকানা

জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র,

বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান রোড, তেজগাঁও ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ।

পুরাতন NID নাম্বার

19651022017000006

নতুন NID নাম্বার

1499468419

 

+1 323-510-3833

 

+880 1790-625334

 

+1323-510-3833

 

+13235103833

একাউন্ট নাম্বার

20215152743 ডাচ্ বাংলা ব্যাংক আশকোনা শাখা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

আমেরিকার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বগুড়ার হেলাল উদ্দিন!

Update Time : ১২:১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

 

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো::

নূরানী চেহারা আর মুখের মিষ্টি ভাষায় আকৃষ্ট করেন মানুষকে নিজের দিকে, দেখলে মনে হবে নিহাত আল্লাহর অলি। নিজে আলেম পরিচয় দেন।

কিন্তু লোকটা ভন্ড বিশ্ব প্রতারক। তার নাম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, তবে প্রতারণার সময় পরিচয় দেন আ: রহমান নাম

 

এই প্রতারক বক্তি বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ কোটির বেশি টাকা।

তার প্রতারণার শিকার

আশিক এলাহী নামের এক ব্যক্তি, তার বড় ভাইয়ের লিখিত বক্তব্য নিচে তুলে ধরলাম তিনি বলেন ওনার ছোটভাই আশিকে এলাহি

এক চিল্লার জন্য তাবলীগ জামাতে বের হয়েছিলো তাদের জামায়াতে সেই একমাত্র আলিম ছিলো। আর বাকি সবাই মুরুব্বি।মাগরিবের নামাজের পরে বয়ান করতেছিলো। এরমধ্যে এই ছদ্দবেশী প্রতারক লোকটি মসজিদে প্রবেশ করে। চার পাঁচ দিন এভাবে মসজিদে তালিমে বসে। একদিন তালিমের ফাঁকে সামনে এসে জিজ্ঞেস করে বাবাজি তোমার নাম কী?

 

সে বলে ‘আশিক এলাহী।’

 

লোকটা বলে, ‘ঠিক তোমার মতো দেখতে আমার একটা ছেলে আছে। তোমার মতোই মাথায় বাবরিচুল।

 

চেহারাও কিছুটা তোমার মতো। তার ছেলের ছবি দেখালো। আসলেই ছেলেটা দেখতে আশিকের মতো ছিলো কিছুটা।

আমার ছেলে মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। এভাবে কয়েকদিন ছোট ভাইয়ের সাথে এই লোকের আলাপচারিতা হয়। বাসা কোথায়, বাবা কী করে, কয় ভাইবোন, তার ফিউচার প্ল্যান কী? আশিক সবকিছু উত্তর দেয়।

 

লোকটা বলে সে আমেরিকার বুস্টান শহরে থাকে। তখন আমার ভাইয়েরও নিউইয়র্কে যাওয়ার কথাবার্তা হচ্ছিলো। কিন্তু সেটা ফাইনাল ছিলো না।

এসব কথাবার্তা বলার দুইতিন দিন পর সে বলল, বুস্টান শহরে তার শ্বশুরের একটা মসজিদ আছে। শ্বশুর আমেরিকান।

সেই মসজিদের ইমাম সাহেব বৃদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন ইন্সট্যান্ট ইমাম নিবে। আমার ভাইয়ের তেলাওয়াত শুনে তার ভালো লাগে। তারপর সে প্রস্তাব দেয় আমি চাই তোমাকে আমেরিকার বুস্টানে নিয়ে যেতে। সেরকম খরচ লাগবে না।

 

তারপর লোকটা বলে এসব কথাবার্তা তো মসজিদে বসে বলা যায় না

 

চলো আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে বসি।

তার ব্যবহার, কথাবার্তা এতটা অমায়িক ছিলো যে কেউ তার ভক্ত হতে বাধ্য৷ তারপর রেস্টুরেন্টে নিয়ে চাউমিন খেতে দেয়। ভাই বলে আঙ্কেল আমি এটা খেতে পারবো না। লোকটা এমনভাবে অনুরোধ করলো তারপর সে বাধ্য হলো খেতে।

 

আমার ভাইয়ের থেকে আব্বুর নাম্বার নিলো লোকটা। তারপর আব্বুকে সব খুলে বলল। জানিনা লোকটার কথায় কী জাদু ছিলো, আমার জ্ঞানী বাবাও এই লোকের কথা বিশ্বাস করে নেয়। কেমন যেন জিম্মি হয়ে যায়।

 

আমার ভাইকে যদি বলা হতো লোকটার বাসা কোথায়, তার আত্মিয়স্বজন কে কে আছে খোঁজ নিতে সে কেন যেনো রেগে যেতো। তারপর পাসপোর্ট করলো। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে নাকি অনেক কাটখোড় পোহানো লাগবে, দালালরা অনেক টাকা খাবে। এজন্য দিল্লি থেকে যেতে চাইলো।

 

যেখানে আমেরিকা যেতে ২৫/৩০ লাখ লেগে যায় সেখানে ১৫ লাখ লাগবে।

 

কারণ লোকটা ফ্যামিলি ভিসায় নিতে চেয়েছে।

 

বিশ্বাস করার অনেক কারণ ছিলো, সে ওমরা গিয়ে কাবা শরিফের ঘরের সামনে, তাওয়াফ করার সময়, সায়ী করার সময়, মদিনা গিয়ে আমার আব্বুর সাথে, ভাইয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতো। কাবার গিলাফের কাছে গিয়ে বলেছে ভাইজান চিন্তা করবেন না আপনার ছেলেকে আমি আমার নিজের সন্তানের মতো জানি। বিশ্বাস অর্জনের জন্য যা যা লাগে সব করেছে সে।

 

দেশে এসে আমার ভাইকে সে বলল, ভাইপো, আমাকে চিংড়ি মাছ গিফট করো। আমাদের এলাকা চিংড়ির জন্য বিক্ষাত। আমার দয়ালু বাবা ১৫ কেজি গলদা চিংড়ি উপহার দেয়। সেটা নাকি সে আমেরিকা পাঠাবে।

 

তারপর ভিভো নতুন ফোন কিনালো, এটা নাকি লাগবে এম্বাসিতে দেখানোর জন্য। ব্লাড কানেক্টেড ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বলা যাবে না। কারণ দিল্লির চেকপোস্টে এগুলো চেক করে। এগুলো মাথার উপর দিয়ে যায় আমাদের। ভিসা নেওয়ার সময় এম্বাসিতে নতুন ফোন জমা দিতে হবে।

প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পাঠায়। এটা ভিসার কাজে লাগবে। যা যা করানো লাগে সবই করে, মেডিকেল থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু ঢাকা থেকে করে।

কিন্তু ভিসা দিল্লি থেকে করতে হবে। দিল্লি হয়ে গেলে সুবিধা।

 

লোকটা বারবার বলতো, বাংলাদেশের মানুষ হলো কুত্তা। এরা টাকার কুত্তা। সব দালাল, সব জায়গায় ঘুষ খায়। বলতো, ঘুষ আমি খাবো না। এসব আমি পছন্দ করি না। খাবারও বেছে চলতো। এমনভাবে বলতো মনে হতো সে একজন আল্লাহর ওলী।

 

৫ লাখ টাকা ডলার করে বেনাপোল থেকে দিল্লিতে যায়। সেখানে একটা হোটেল বুকিং করে আশিককে রাখে। সেখানে মিট আইটেম কিছুই যেন না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক করতো। মাছ সবজী এসব যেন খায়। মাংস তো হালাল হবে না।

 

দিল্লি এম্বাসিতে ঢোকার সাথে সাথে সেখানে চেক করে বলে এগুলো কিসের ডলার? এটা বলার সাথে সাথে এই লোকটা ভাইয়ের থেকে ডলার গুলো নিয়ে বলে এগুলো কিছু না। এই ছেলেটা আমার রিলেটিভ। ভিসা হতে তিনদিন লাগবে। কোনো সমস্যা নেই সবই ঠিক আছে।

 

তিনদিন দিল্লিতে বসে কী করবে এজন্য লোকটা ট্যুরিস্ট বাস বুকিং করে বলে, ‘আশিক, আজ সারাদিন দিল্লি শহর ঘুরে দেখো। একা একা ভালো লাগবে না। লোকটা নিজের সাথে আশিককে রাখলো না। কারণ লোকটার সাথে তার স্ত্রী ছিলো। স্ত্রী হলো আমেরিকান মহিলা। আগে অমুসলিম ছিল, পরে মুসলিম হয়ে এই লোককে বিবাহ করে। তার স্ত্রী আসার কারণ হলো সে যেহেতু সরাসরি আমেরিকান এজন্য ভিসা হতে সময় লাগবে না।

 

সারাদিন দিল্লিতে ঘুরে রাতে হোটেলে ফিরে চোখটা লেগে আসে আশিকের৷ রাত ২ টার সময় তার ফোনে ম্যাসেজ আসে, বাবাজি আমার শ্বাশুড়ি মারা গেছে, সে তো অসুস্থ ছিলো কয়েকমাস ধরে। তোমার আন্টিই তাদের একমাত্র মেয়ে। তোমার আন্টি একদম ভেঙ্গে পড়েছে। এজন্য তাকে নিয়ে ইন্সট্যান্ট টিকিট কেটে আমেরিকা চলে যাচ্ছি।

ইনশাআল্লাহ ৩ মাস পরে এসে আমরা তোমাকে নিয়ে যাবো। আমার ভাই তো তখন সর্বশান্ত। তার হাতে ২ হাজার টাকা ছাড়া কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পরে সে দেশে আসে।

 

তারপর ৩ মাস গেলো, তখন আরেকটা অযুহাত দেখালো। একবার তার শ্বাশুড়ি মরলো, আরেকবার তার বউ অসুস্থ হলো, শেষে তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ম্যাসেজ আসলো, ‘বাবাজি আমি তোমার আঙ্কেলের বোন ফুফু বলতেছি। তোমার আঙ্কেল মারা গেছে। আমরা তোমাদের ১০ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাই। ব্যাংক আকাউন্টের নাম্বার পাঠাও, আমার ভাই একাউন্ট নাম্বার পাঠালো। আজ দেব, কাল দেব করে দেয়নি।

 

যে ম্যাসেজ এসেছিলো সেই ম্যাসেজের ধরণ এই লোকের ম্যাসেজের মতোই ছিলো। সে মারা গেলো কী করে!

 

এই খবর শোনার পরে আমার ভাই, আব্বু ভেঙ্গে পড়েছিলো একদম। আমার মনে হচ্ছিলো, কী যেন হয়ে গেলো। কয়েকমাস আমাদের পরিবার একটা ট্রমার ভেতর ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিবে! কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। খোঁজ নিয়ে যেটা বের হয়, লোকটার নাম বলেছিলো আব্দুর রহমান। কিন্তু ব্যাংক একাউন্টে নাম ছিলো হেলাল উদ্দীন। এটা একটা গ্যাং, যার সাথে অনেক হিন্দু জড়িত।

 

আমাদের এসবে যখন সন্দেহ হতো তখন বলতাম লোকটা যদি ফ্রড হয়? এই কথা বললে আমার ভাই এবং আব্বু দুজনই কেনো যেন রেগে যেতো। এখানে রেগে যাওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। আমার আব্বু কখনোই কাউকে এভাবে বিশ্বাস করে টাকা দেয়নি। এই লোকটাকে কেনো বিশ্বাস করলো তিনি এখনো বুঝে উঠতে পারেননা। আমার ভাই তো এক প্রকার উন্মাদ ছিলো। তার আচরণ ছিলো অন্যরকম।

 

আমাদের অনেক আত্মিয়স্বজন আমেরিকা আছে। জেঠা, মামাদের অনেকেই আছে। আব্বু তাদের সাথেও শুরুতে এই লোকের কথা বলে, তারাও বলল হয়তো ভালো হবে। কিন্তু এত বড় প্রতারণার ফাঁদ বুঝলো না।

লেবাস আর কথায় বিশ্বাস করেছে। সে নিজেকে আলিম পরিচয় দিয়েছিলো। কথাবার্তাও আলিমের মতোই ছিলো।

 

শেষে একটাই সান্ত্বনা মনকে দিলাম আমার ভাইকে দিল্লি নিয়ে মেরে ফেলেনি এটাই অনেক।

 

সিলেটের মাওলানা জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সিলেট শাহপরান থানায় তার বিরুদ্ধে লিখত অভিযোগ করেন। মাওলানা জাহিদুল এর কাছ থেকে অভিনব কায়দায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

আমেরিকায় পাঠাবে বলে প্রতারণা করে ।

স্হায়ী ঠিকানা : মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ছদ্ম নাম আ:রহমান) পিতা:মোঃ আয়েজ উদ্দিন,মাতা: মোছাঃ জামিলা বেগম স্ত্রী মোছাঃ মুর্শিদা খাতুন। Occupation ব্যবসা Blood Group 0- জন্ম তারিখ ০১-০২-১৯৬৫

০ ফুলবাড়ী, জয়পুর পাড়া দক্ষিন, ওয়ার্ড নং-১৭, বগুড়া পৌরসভা, পৌরসভা, বগুড়া, সদর জেলা বগুড়া।

 

অস্থায়ী ঠিকানা

জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র,

বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান রোড, তেজগাঁও ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ।

পুরাতন NID নাম্বার

19651022017000006

নতুন NID নাম্বার

1499468419

 

+1 323-510-3833

 

+880 1790-625334

 

+1323-510-3833

 

+13235103833

একাউন্ট নাম্বার

20215152743 ডাচ্ বাংলা ব্যাংক আশকোনা শাখা।