
আ: ছাত্তার মিয়া নরসিংদী:
নরসিংদী সদর উপজেলার বাগহাটার বুকে একসময় অন্নপূর্ণা অয়েল মিল থেকে সরিষার তেলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত চারপাশে। কর্মচঞ্চল সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান আজ পরিণত হয়েছে মালিকানা দ্বন্দ্ব ও আইনি লড়াইয়ের এক জটিল অধ্যায়ে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই অয়েল মিলের জমি ও স্থাপনা চলে আসে অধিগ্রহণ তালিকায়। অথচ এখানেই শুরু হয় নাটকীয় মোড়—মিলের মালিক গিয়াসউদ্দিন গাজী গং দাবি তোলেন, মিলের স্বত্বাধিকারী সুধীর চন্দ্র সাহা স্থাপনাটির বিল নাকি তাদের নামে দিতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থাপনা বিল নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা চালান। অন্যদিকে, জীবনের বহু শ্রম, ঘাম আর পরিশ্রম ঢেলে গড়ে তোলা অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের প্রকৃত মালিকানা দাবি করেন সুরেশ ব্র্যান্ড সরিষার তেলের মালিক সুধীর চন্দ্র সাহা । তিনি বলেন, “আমি শুধু একজন ব্যবসায়ী নই, এই মিল আমার স্বপ্ন, আমার সংসারের রক্ত-ঘাম মিশে আছে এখানে অথচ আমার প্রাপ্য বিল অন্যের নামে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে—এটা কি ন্যায় হতে পারে?”
এ ঘটনায় সুধীর চন্দ্র সাহা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের হাতে যেন স্থাপনার বিল পৌঁছায়।
ঘটনাটি এখন নরসিংদীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এলাকার সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলছেন—শ্রমে ঘামে গড়ে ওঠা একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বত্ব কেন ভিন্ন খাতে ঘুরে যাবে? কেন মালিকের চোখের সামনে অন্য কেউ প্রাপ্য বিল আত্মসাৎ করবে?
আইনজীবীরা মনে করছেন, আদালতের রায়ই এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে । আর চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে স্থাপনার মালিক সুধীর চন্দ্র সাহা যেন তাহার প্রাপ্য বিল বুজে পান এটাই দাবি প্রশাসনের নিকট ।
Reporter Name 























