বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ার উপজেলার পিআইও মাইদুলের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬১ Time View

 

মোহাম্মদ মাহাবুব আলম পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি । 

দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও প্রাইভেট কার ভাড়া বাকি রাখার অভিযোগ

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম শাহের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অফিসে অনিয়মিত থাকা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রতিদিন তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নিজ জেলা নীলফামারীতে যাতায়াত করেন ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কারে। প্রতিদিন যাতায়াতের খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা হলেও, গাড়িচালকদের অভিযোগ—তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করে তালবাহানা করেন এবং অনেক সময় অজুহাত দেখিয়ে দুর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী চালক হাসিবুল ইসলাম জানান, “প্রথমে নিয়মিত টাকা দিতেন, পরে বন্ধ করে দেন। এখনো প্রায় ২৫ হাজার টাকা বকেয়া।” অপর চালক রাসেল জানান, তার কাছেও প্রায় ২০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সূত্র জানায়, পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহের দায়িত্বে অবহেলার কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসামগ্রী অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অফিসে তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অসহায় পরিবারগুলো ত্রাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছু ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাবান্ধা, শালবাহান ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে। একাধিক চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি অভিযোগ করেন,

“পিআইও সাহেবের অফিসে বিল ছাড়ের জন্য ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে প্রকল্প অনুমোদন বা বিল পাস হয় না।”

তারা আরও বলেন, “একই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় তিন–চার গুণ বেশি বাজেট দেখানো হয়, যাতে নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা যায়।”

 

দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি এইচবিবি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও মানহীন কাজের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পটির দেখভালও করছেন পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রতিবেদককে ‘ম্যানেজ করার’ ইঙ্গিত দেন বলে জানা গেছে।

 

 

এর আগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত অবস্থায় সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ ও প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মাইদুল ইসলাম শাহের বিরুদ্ধে। জনপ্রতিনিধিদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তখন তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ার উপজেলার পিআইও মাইদুলের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়।

Update Time : ১২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

 

মোহাম্মদ মাহাবুব আলম পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি । 

দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও প্রাইভেট কার ভাড়া বাকি রাখার অভিযোগ

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম শাহের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অফিসে অনিয়মিত থাকা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রতিদিন তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নিজ জেলা নীলফামারীতে যাতায়াত করেন ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কারে। প্রতিদিন যাতায়াতের খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা হলেও, গাড়িচালকদের অভিযোগ—তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করে তালবাহানা করেন এবং অনেক সময় অজুহাত দেখিয়ে দুর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী চালক হাসিবুল ইসলাম জানান, “প্রথমে নিয়মিত টাকা দিতেন, পরে বন্ধ করে দেন। এখনো প্রায় ২৫ হাজার টাকা বকেয়া।” অপর চালক রাসেল জানান, তার কাছেও প্রায় ২০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সূত্র জানায়, পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহের দায়িত্বে অবহেলার কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসামগ্রী অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অফিসে তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অসহায় পরিবারগুলো ত্রাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছু ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাবান্ধা, শালবাহান ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে। একাধিক চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি অভিযোগ করেন,

“পিআইও সাহেবের অফিসে বিল ছাড়ের জন্য ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে প্রকল্প অনুমোদন বা বিল পাস হয় না।”

তারা আরও বলেন, “একই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় তিন–চার গুণ বেশি বাজেট দেখানো হয়, যাতে নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা যায়।”

 

দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি এইচবিবি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও মানহীন কাজের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পটির দেখভালও করছেন পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রতিবেদককে ‘ম্যানেজ করার’ ইঙ্গিত দেন বলে জানা গেছে।

 

 

এর আগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত অবস্থায় সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ ও প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মাইদুল ইসলাম শাহের বিরুদ্ধে। জনপ্রতিনিধিদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তখন তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।