বাংলাদেশ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে সাংবাদিকের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩৪ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেটে আদালত প্রাঙ্গণে খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মুঠোফোন ভাঙচুরের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর ও বালু লুট মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

হামলার শিকার ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক নয়ন সরকার বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, তাঁর ভাই ও ছেলে কাজী বায়জিদ আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরই সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদাপাথর লুট–কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল ওয়াদুদকে রিমান্ড শুনানির জন্য সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। সে সময় তাঁর সমর্থক ও নেতা–কর্মীরা আদালত এলাকায় জড়ো হন। শুনানি শেষে আদালত ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাঁকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করছিলেন।

 

এ সময় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আবদুল ওয়াদুদ সাংবাদিক নয়ন সরকারের মুঠোফোন কেড়ে নেন। অন্যদিকে আরেকটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক বিশাল দের মুঠোফোন কেড়ে নেন ওয়াদুদের ছেলে কাজী বায়জিদ আহমেদ। বায়জিদ পরে ফোনে থাকা ভিডিও মুছে সেটি ফেরত দেন। এ ঘটনায় অন্য সাংবাদিকেরা এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় ওয়াদুদ ও তাঁর সহযোগীরা আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল করেন।

 

সাংবাদিক নয়ন সরকারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে হাজতে চলে যান। পুলিশ তাঁর মুঠোফোন উদ্ধারে কোনো সহযোগিতা করেনি। পরে তিনি জানতে পারেন, ফোনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট আদালত পুলিশের পরিদর্শক জামশেদ আলম বলেন, সাংবাদিকেরা খুব কাছ থেকে আসামির ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে আসামি এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। ভাঙা মুঠোফোনটি পুলিশের হেফাজতে আছে। আদালত প্রাঙ্গণে তখন অনেক ভিড় ছিল। কারা সাংবাদিক আর কারা আসামির লোকজন, সেটি জানার উপায় ছিল না।

 

অভিযুক্ত আসামি কাজী আবদুল ওয়াদুদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তিনি সাদাপাথর ও বালু লুট, হত্যা এবং ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ ১৯টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।

সূত্র প্রতিদিনের সিলেট

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেটে সাংবাদিকের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৬:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেটে আদালত প্রাঙ্গণে খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মুঠোফোন ভাঙচুরের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর ও বালু লুট মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

হামলার শিকার ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক নয়ন সরকার বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, তাঁর ভাই ও ছেলে কাজী বায়জিদ আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরই সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদাপাথর লুট–কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল ওয়াদুদকে রিমান্ড শুনানির জন্য সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। সে সময় তাঁর সমর্থক ও নেতা–কর্মীরা আদালত এলাকায় জড়ো হন। শুনানি শেষে আদালত ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাঁকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করছিলেন।

 

এ সময় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আবদুল ওয়াদুদ সাংবাদিক নয়ন সরকারের মুঠোফোন কেড়ে নেন। অন্যদিকে আরেকটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক বিশাল দের মুঠোফোন কেড়ে নেন ওয়াদুদের ছেলে কাজী বায়জিদ আহমেদ। বায়জিদ পরে ফোনে থাকা ভিডিও মুছে সেটি ফেরত দেন। এ ঘটনায় অন্য সাংবাদিকেরা এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় ওয়াদুদ ও তাঁর সহযোগীরা আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল করেন।

 

সাংবাদিক নয়ন সরকারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে হাজতে চলে যান। পুলিশ তাঁর মুঠোফোন উদ্ধারে কোনো সহযোগিতা করেনি। পরে তিনি জানতে পারেন, ফোনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট আদালত পুলিশের পরিদর্শক জামশেদ আলম বলেন, সাংবাদিকেরা খুব কাছ থেকে আসামির ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে আসামি এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। ভাঙা মুঠোফোনটি পুলিশের হেফাজতে আছে। আদালত প্রাঙ্গণে তখন অনেক ভিড় ছিল। কারা সাংবাদিক আর কারা আসামির লোকজন, সেটি জানার উপায় ছিল না।

 

অভিযুক্ত আসামি কাজী আবদুল ওয়াদুদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তিনি সাদাপাথর ও বালু লুট, হত্যা এবং ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ ১৯টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।

সূত্র প্রতিদিনের সিলেট