বাংলাদেশ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৩ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগে ‘জ্বিনের বাদশা’ জাহাঙ্গীর মাঝিকে আটক করেছে র‌্যাব-৮ 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৬ Time View

 

তানজিল হোসেন, ভোলা:

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে অনলাইনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় পলাতক মূল আসামি জাহাঙ্গীর মাঝি (৫৭) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৮। ২৬ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকার হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৮, ভোলা ক্যাম্পের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

 

গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর মাঝি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চর কালিদাশ এলাকার মৃত আজগর মাঝির ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. রিফাত।

 

র‌্যাব-৮ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাহাঙ্গীর মাঝি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে অনলাইনে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তারা ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “বশীকরণ”, “ভাগ্য পরিবর্তন” ও “পারিবারিক সমস্যা সমাধান”-এর বিজ্ঞাপন দিতেন।

 

এই বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাদেক নগর এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম (৪০) তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তার ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারক চক্রটি দাবি করে “জ্বিনের মাধ্যমে বশীকরণ প্রক্রিয়া চালালে সব সমস্যার সমাধান হবে।”

 

এরপর চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে মোট ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা (৫৩,০৫,০০০) হাতিয়ে নেয় চক্রটি। প্রতারিত হয়ে দিদারুল আলম আদালতে অভিযোগ দাখিল করলে নির্দেশক্রমে ফটিকছড়ি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়।

 

মামলার তদন্তে নামলে র‌্যাব-৮ আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকার হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা জাহাঙ্গীর মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

র‌্যাব-৮ জানায়, এর আগে একই মামলার অপর আসামি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন মীর (৪৭) কে গত ১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর মাঝির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

 

র‌্যাব-৮ জানায়, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর মাঝির সহযোগী অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতারণা চক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে।

 

র‌্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. রিফাত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “দেশ ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‌্যাব সর্বদা সচেতন ও তৎপর। প্রতারণাসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের আওতার বাইরে কেউ থাকবে না।”

 

তিনি আরও বলেন, “র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের অভিযান চলমান থাকবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

৫৩ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগে ‘জ্বিনের বাদশা’ জাহাঙ্গীর মাঝিকে আটক করেছে র‌্যাব-৮ 

Update Time : ০৬:০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

 

তানজিল হোসেন, ভোলা:

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে অনলাইনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় পলাতক মূল আসামি জাহাঙ্গীর মাঝি (৫৭) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৮। ২৬ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকার হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৮, ভোলা ক্যাম্পের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

 

গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর মাঝি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চর কালিদাশ এলাকার মৃত আজগর মাঝির ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. রিফাত।

 

র‌্যাব-৮ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাহাঙ্গীর মাঝি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে অনলাইনে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তারা ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “বশীকরণ”, “ভাগ্য পরিবর্তন” ও “পারিবারিক সমস্যা সমাধান”-এর বিজ্ঞাপন দিতেন।

 

এই বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাদেক নগর এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম (৪০) তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তার ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারক চক্রটি দাবি করে “জ্বিনের মাধ্যমে বশীকরণ প্রক্রিয়া চালালে সব সমস্যার সমাধান হবে।”

 

এরপর চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে মোট ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা (৫৩,০৫,০০০) হাতিয়ে নেয় চক্রটি। প্রতারিত হয়ে দিদারুল আলম আদালতে অভিযোগ দাখিল করলে নির্দেশক্রমে ফটিকছড়ি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়।

 

মামলার তদন্তে নামলে র‌্যাব-৮ আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকার হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা জাহাঙ্গীর মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

র‌্যাব-৮ জানায়, এর আগে একই মামলার অপর আসামি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন মীর (৪৭) কে গত ১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর মাঝির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

 

র‌্যাব-৮ জানায়, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর মাঝির সহযোগী অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতারণা চক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে।

 

র‌্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. রিফাত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “দেশ ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‌্যাব সর্বদা সচেতন ও তৎপর। প্রতারণাসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের আওতার বাইরে কেউ থাকবে না।”

 

তিনি আরও বলেন, “র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের অভিযান চলমান থাকবে।”