বাংলাদেশ ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূত্রাপুর থানা ওসি তদন্ত রুমে খুনি নয়নকে নিয়ে ‘জামাই আদর।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ Time View

**ফাঁস হওয়া তথ্য ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরপেক্ষতা

 

স্টাফ রিপোর্ট : রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। থানার তদন্ত কক্ষে এক অভিযুক্ত খুনি আসামি নয়ন অস্বাভাবিকভাবে ‘বিশেষ সম্মান’ বা তথাকথিত জামাই আদর করার অভিযোগে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তারের পর সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত)-এর কক্ষে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পরিবর্তে অভিযুক্তকে চা-নাশতা পরিবেশন, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসার সুযোগ এবং বন্ধুসুলভ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ফাঁস হওয়া তথ্য:

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ওই সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অভিযুক্তের সঙ্গে ওসি (তদন্ত)-এর কথোপকথন ছিল অত্যন্ত নরম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। এমনকি অভিযুক্তের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও হাস্যরসাত্মক আলোচনা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া কিছু অডিও ও ছবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এসব অডিও-ভিজ্যুয়ালের সত্যতা পাওয়া গেছে ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বক্তব্য সূত্রাপুর থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তবে এটি তদন্ত প্রক্রিয়ার চরম লঙ্ঘন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।”

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ:

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, “আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গেছি। কিন্তু খুনি যদি পুলিশের কক্ষে এমন সম্মান পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার কোথায়?”

 

 

 

প্রশাসনের অবস্থান:

 

এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল বলছে, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া:

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একজন অভিযুক্ত যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তদন্ত কক্ষে এমন আচরণ আইনের শাসনের পরিপন্থী। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।

 

উপসংহার:

 

সূত্রাপুর থানার ওসি তদন্ত কক্ষে খুনি নয়নকে ‘জামাই আদর’ করার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি থানার নয়, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। এখন দেখার বিষয়—এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হয় কি না, নাকি সবকিছুই চাপা পড়ে যাবে সময়ের অন্ধকারে ।

 

 

আমাদের প্রতিবেদক নিজ ব্যবহারিত নাম্বার দিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে সরকারি নাম্বারে ফোন দিয়ে ওসিকে বলেন চাঞ্চল্যকর হত্যার আসামি নয়নকে নিয়ে আপনার থানার ওসি তদন্তর রুমে জামাই আদর করছেন।

 

প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন: ওসি তদন্ত কর্মকর্তা মামলার আয়ুকে নিয়ে আসামি নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি ।

 

আমাদের প্রতিবেদকের প্রশ্ন আসামীকে ওসি তদন্ত রুমে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোন আইন বা বিধানে আছে কিনা?

 

আমাদের প্রতিবেদকের ভাষ্য: ওসি তদন্ত জিজ্ঞা

সাবাদ কক্ষে বসিয়ে প্রশ্ন করানোর ক্ষমতা নেই।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সূত্রাপুর থানা ওসি তদন্ত রুমে খুনি নয়নকে নিয়ে ‘জামাই আদর।

Update Time : ০৫:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

**ফাঁস হওয়া তথ্য ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরপেক্ষতা

 

স্টাফ রিপোর্ট : রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। থানার তদন্ত কক্ষে এক অভিযুক্ত খুনি আসামি নয়ন অস্বাভাবিকভাবে ‘বিশেষ সম্মান’ বা তথাকথিত জামাই আদর করার অভিযোগে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তারের পর সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত)-এর কক্ষে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পরিবর্তে অভিযুক্তকে চা-নাশতা পরিবেশন, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসার সুযোগ এবং বন্ধুসুলভ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ফাঁস হওয়া তথ্য:

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ওই সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অভিযুক্তের সঙ্গে ওসি (তদন্ত)-এর কথোপকথন ছিল অত্যন্ত নরম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। এমনকি অভিযুক্তের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও হাস্যরসাত্মক আলোচনা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া কিছু অডিও ও ছবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এসব অডিও-ভিজ্যুয়ালের সত্যতা পাওয়া গেছে ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বক্তব্য সূত্রাপুর থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তবে এটি তদন্ত প্রক্রিয়ার চরম লঙ্ঘন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।”

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ:

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, “আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গেছি। কিন্তু খুনি যদি পুলিশের কক্ষে এমন সম্মান পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার কোথায়?”

 

 

 

প্রশাসনের অবস্থান:

 

এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল বলছে, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া:

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একজন অভিযুক্ত যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তদন্ত কক্ষে এমন আচরণ আইনের শাসনের পরিপন্থী। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।

 

উপসংহার:

 

সূত্রাপুর থানার ওসি তদন্ত কক্ষে খুনি নয়নকে ‘জামাই আদর’ করার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি থানার নয়, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। এখন দেখার বিষয়—এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হয় কি না, নাকি সবকিছুই চাপা পড়ে যাবে সময়ের অন্ধকারে ।

 

 

আমাদের প্রতিবেদক নিজ ব্যবহারিত নাম্বার দিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে সরকারি নাম্বারে ফোন দিয়ে ওসিকে বলেন চাঞ্চল্যকর হত্যার আসামি নয়নকে নিয়ে আপনার থানার ওসি তদন্তর রুমে জামাই আদর করছেন।

 

প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন: ওসি তদন্ত কর্মকর্তা মামলার আয়ুকে নিয়ে আসামি নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি ।

 

আমাদের প্রতিবেদকের প্রশ্ন আসামীকে ওসি তদন্ত রুমে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোন আইন বা বিধানে আছে কিনা?

 

আমাদের প্রতিবেদকের ভাষ্য: ওসি তদন্ত জিজ্ঞা

সাবাদ কক্ষে বসিয়ে প্রশ্ন করানোর ক্ষমতা নেই।