বাংলাদেশ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু, রেলপথ অবরোধে ট্রেন চলাচল বন্ধ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৩ Time View

মোহাম্মদ মাহাবুব আলম পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অবরোধে প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা–পঞ্চগড় রুটের ট্রেন চলাচল।

 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি স্পেশাল ট্রেন পঞ্চগড় স্টেশন ত্যাগ করার পর সদর উপজেলার টেঙ্গনমারী এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইন পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটি ঠেলে পার করার চেষ্টা করার সময় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বান্দেরা মাগুড়া সিপাহীপাড়া এলাকার আকিরুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোঃ আরিফুল ইসলাম ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে পিলার ফেলে রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পুনরায় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে আসে।

 

এছাড়া ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং সান্তাহার থেকে পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। এতে উভয় পাশে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে স্থানীয় দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় অবরোধ দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

 

পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি রাতের অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভেতরে গিয়ে সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

 

স্থানীয়রা জানান, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে ওই এলাকায় আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ আলোচনার পর জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান, জনসাধারণকে বুঝিয়ে রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে রেললাইন থেকে অবরোধ অপসারণ করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে উভয় পাশে আটকে পড়া ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পঞ্চগড়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু, রেলপথ অবরোধে ট্রেন চলাচল বন্ধ।

Update Time : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদ মাহাবুব আলম পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অবরোধে প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা–পঞ্চগড় রুটের ট্রেন চলাচল।

 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি স্পেশাল ট্রেন পঞ্চগড় স্টেশন ত্যাগ করার পর সদর উপজেলার টেঙ্গনমারী এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইন পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটি ঠেলে পার করার চেষ্টা করার সময় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বান্দেরা মাগুড়া সিপাহীপাড়া এলাকার আকিরুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোঃ আরিফুল ইসলাম ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে পিলার ফেলে রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পুনরায় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে আসে।

 

এছাড়া ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং সান্তাহার থেকে পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। এতে উভয় পাশে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে স্থানীয় দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় অবরোধ দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

 

পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি রাতের অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভেতরে গিয়ে সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

 

স্থানীয়রা জানান, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে ওই এলাকায় আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ আলোচনার পর জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান, জনসাধারণকে বুঝিয়ে রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে রেললাইন থেকে অবরোধ অপসারণ করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে উভয় পাশে আটকে পড়া ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।