বাংলাদেশ ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্মহত্যা থেকে হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমি দাশের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৯ Time View

মো:শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার:ৎসুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় গৃহবধূ সুমি দাশ চৌধুরীর (২১) মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা থেকে হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে সুমি দাশের শাশুড়ি ভাড়াটিয়া ভবনের ছাদ থেকে শুকানো কাপড় আনতে যান। পরে নিচে এসে দেখেন, সুমি দাশ তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। একাধিকবার ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে কাপড় কেটে তাকে নামিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমি দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ আত্মীয়স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রাথমিকভাবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার অভিযোগ করে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

নিহত সুমি দাশের মা বাবলী রানী চৌধুরী বাদী হয়ে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের স্বামী কিশাল শেখর দাস (২৪), শাশুড়ি রিপা দাস (৫০) ও শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাসকে আসামি করা হয়।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এটি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৯, তারিখ-০৮ জানুয়ারি ২০২৬; জিআর নং-৯; ধারা-৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি ১৮৬০।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, বিয়ের পর থেকেই সুমি দাশ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। নিহতের ভাই মিল্টন চৌধুরী জানান, ভালোবাসার সম্পর্কের মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে সুমি ও কিশালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় কিশাল শেখর দাস সুমিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। কয়েক মাস আগে গুরুতর মারধরের ঘটনায় সুমিকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হয়।

 

তিনি আরও জানান, দুই মাস আগে শ্বশুর-শাশুড়ি বুঝিয়ে সুমিকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। এর দুই মাসের মধ্যেই মৃত্যুর খবর আসে। মিল্টন চৌধুরী বলেন, “আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ দাবি করছে এটি আত্মহত্যা। নিহতের শাশুড়ি জানান, তিনি নিজেই লোকজন ডেকে এনে সুমিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাস, যিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানালের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত, দাবি করেন ঘটনার দিন তিনি সারাদিন অফিসে ছিলেন এবং খবর পেয়ে সরাসরি হাসপাতালে যান।

 

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সুমি দাশের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

আত্মহত্যা থেকে হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমি দাশের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

Update Time : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

মো:শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার:ৎসুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় গৃহবধূ সুমি দাশ চৌধুরীর (২১) মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা থেকে হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে সুমি দাশের শাশুড়ি ভাড়াটিয়া ভবনের ছাদ থেকে শুকানো কাপড় আনতে যান। পরে নিচে এসে দেখেন, সুমি দাশ তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। একাধিকবার ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে কাপড় কেটে তাকে নামিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমি দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ আত্মীয়স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রাথমিকভাবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার অভিযোগ করে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

নিহত সুমি দাশের মা বাবলী রানী চৌধুরী বাদী হয়ে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের স্বামী কিশাল শেখর দাস (২৪), শাশুড়ি রিপা দাস (৫০) ও শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাসকে আসামি করা হয়।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এটি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৯, তারিখ-০৮ জানুয়ারি ২০২৬; জিআর নং-৯; ধারা-৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি ১৮৬০।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, বিয়ের পর থেকেই সুমি দাশ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। নিহতের ভাই মিল্টন চৌধুরী জানান, ভালোবাসার সম্পর্কের মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে সুমি ও কিশালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় কিশাল শেখর দাস সুমিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। কয়েক মাস আগে গুরুতর মারধরের ঘটনায় সুমিকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হয়।

 

তিনি আরও জানান, দুই মাস আগে শ্বশুর-শাশুড়ি বুঝিয়ে সুমিকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। এর দুই মাসের মধ্যেই মৃত্যুর খবর আসে। মিল্টন চৌধুরী বলেন, “আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ দাবি করছে এটি আত্মহত্যা। নিহতের শাশুড়ি জানান, তিনি নিজেই লোকজন ডেকে এনে সুমিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাস, যিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানালের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত, দাবি করেন ঘটনার দিন তিনি সারাদিন অফিসে ছিলেন এবং খবর পেয়ে সরাসরি হাসপাতালে যান।

 

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সুমি দাশের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।