বাংলাদেশ ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দানিয়ুল হত্যার নেপথ্য কারন সিনেমার কাহিনীকেও হার মানাবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৭ Time View

শেখ সাইদুল আলম সাজু, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নির্ভুল নিখুত ছক্ এটে পরক্রীয়া প্রেমিকের সহায়তায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামী দানিয়ুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করিয়েছিল ৩২ বছরের সংসারের জীবন সঙ্গীনি সুলতানা রাজিয়া পপি (৪১) নামে তার স্ত্রী। নিজ শয়ন কক্ষে জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল তার স্বামী দানিয়ুল ইসলামকে (৫৬)।

 

প্রথমে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস। জেলা পুলিশ ডিবি এবং পুলিশের সাইবার টিমের তদন্তে একেএকে বেরিয়ে আসে হত্যাকান্ড সংঘটিত করার লোমহর্ষক কাহিনী। সেই সাথে জানা গেছে হত্যার নেপথ্য পরিকল্পনাসহ জড়িতদের নাম পরিচয়। যা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানাবে।

 

এব্যাপারে আজ রবিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণ মাধ্যম কর্মীদের কাছে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত বর্ননা করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।

 

তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে হত্যার ওই ঘটনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ চৌপুকুরিয়া গ্রামে। নিজের শয়ন কক্ষের খাটের উপর জবাই করা রক্তাক্ত অবস্হায় পড়েছিল দানিয়ুল ইসলামের মরদেহ। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল বালিশ চাপায় হত্যা করার। এতে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে অনায়াসেই পার পাবার ভাবনা চিল তাদের।

 

স্বামী হত্যার বিষয়ে পরদিন বীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত দৃষ্কৃতকারিকে আসামী করে দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী হয়েছিল তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া পপি। মামলা নম্বর ১২।

 

তদন্তে নেমে কোন কুল কিনারা ক্লু খুজে পাচ্ছিলনা বীরগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশ সুপার জিদান আল মুসার পরামর্শ মেনে ভিন্নপথে অনুসন্ধানের শুরুতেই বের হয় প্রায় ১২ বছর আগে স্ত্রীর পরক্রিয়া প্রেমের বিষয়টি। এবিষয়ে ১৭ / ১৮ সালের পাল্টাপাল্টি মামলা গড়িয়েছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। পরে সমঝোতা করে এক ছাদের নীচে বসবাস শুরু করেছিল তারা। কিন্তু পরক্রিয়ায় পথের কাটা দুর করতে স্ত্রীর মনে ছক চলতো স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায়। তার পরক্রিয়া প্রেমিক শাহ আলম কল্লোল জেলা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী। সে আল আমিন বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী। পরিকল্পনা মত কাপড় ব্যবসায়ীর সাবেক গাড়ী চালক বাগেরহাট জেলা সদরের উৎকুল গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর বাদশার দ্বারস্হ হন তারা। ১০ লাখ টাকার চুক্তির বিনিময়ে খুলনা থেকে ( সর্বহারা) ৩জন ভাড়াটে খুনি আনে সে। লেনদেন যোগাযোগ যেন চিহ্নিত করা না যায় এজন্য বেনামি সিমকার্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য বিনিময় করতো তারা। স্বামীকে নিখুত ভাবে খুন করতে বাড়ীর চাবি, ঘর বাড়ীর ভিডিও শর্ট ( মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারন করে খুনিদের কাছে সরবরাহ করেছিল তারা। আগাম রেকি শেষে ১২ ডিসেম্বর রাতে দানিয়ুল ইসলামকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে লাপাত্তা হয় ৪ খুনি। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি এবং আগের ঘটনার যোগসূত্র মিলিয়ে হত্যার পরিকরল্পাকারি খুনিদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ৮ জানুয়ারী খুলনা এবং বাগেরহাটে প্রথম অভিযানে নেমে জেলা পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। র‍্যাবের সহায়তায় গাড়ী চালক আব বক্কর বাদশাকে গত শুক্রবার খুলনার রূপসায় গ্রেপ্তারের পরপরই মুল পরিকল্পনাকারি তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া পপি তার পরক্রিয়া প্রেমিক শাহ আলম কল্লোলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দী রেকর্ড করা হয়েছে কল্লোলের। আজ সুলতানা রাজিয়া এবং গাড়ী চালক আবু বক্কর বাদশাকে আদালতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জড়িত অন্য ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দানিয়ুল হত্যার নেপথ্য কারন সিনেমার কাহিনীকেও হার মানাবে

Update Time : ০৭:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

শেখ সাইদুল আলম সাজু, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নির্ভুল নিখুত ছক্ এটে পরক্রীয়া প্রেমিকের সহায়তায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামী দানিয়ুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করিয়েছিল ৩২ বছরের সংসারের জীবন সঙ্গীনি সুলতানা রাজিয়া পপি (৪১) নামে তার স্ত্রী। নিজ শয়ন কক্ষে জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল তার স্বামী দানিয়ুল ইসলামকে (৫৬)।

 

প্রথমে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস। জেলা পুলিশ ডিবি এবং পুলিশের সাইবার টিমের তদন্তে একেএকে বেরিয়ে আসে হত্যাকান্ড সংঘটিত করার লোমহর্ষক কাহিনী। সেই সাথে জানা গেছে হত্যার নেপথ্য পরিকল্পনাসহ জড়িতদের নাম পরিচয়। যা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানাবে।

 

এব্যাপারে আজ রবিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণ মাধ্যম কর্মীদের কাছে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত বর্ননা করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।

 

তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে হত্যার ওই ঘটনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ চৌপুকুরিয়া গ্রামে। নিজের শয়ন কক্ষের খাটের উপর জবাই করা রক্তাক্ত অবস্হায় পড়েছিল দানিয়ুল ইসলামের মরদেহ। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল বালিশ চাপায় হত্যা করার। এতে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে অনায়াসেই পার পাবার ভাবনা চিল তাদের।

 

স্বামী হত্যার বিষয়ে পরদিন বীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত দৃষ্কৃতকারিকে আসামী করে দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী হয়েছিল তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া পপি। মামলা নম্বর ১২।

 

তদন্তে নেমে কোন কুল কিনারা ক্লু খুজে পাচ্ছিলনা বীরগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশ সুপার জিদান আল মুসার পরামর্শ মেনে ভিন্নপথে অনুসন্ধানের শুরুতেই বের হয় প্রায় ১২ বছর আগে স্ত্রীর পরক্রিয়া প্রেমের বিষয়টি। এবিষয়ে ১৭ / ১৮ সালের পাল্টাপাল্টি মামলা গড়িয়েছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। পরে সমঝোতা করে এক ছাদের নীচে বসবাস শুরু করেছিল তারা। কিন্তু পরক্রিয়ায় পথের কাটা দুর করতে স্ত্রীর মনে ছক চলতো স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায়। তার পরক্রিয়া প্রেমিক শাহ আলম কল্লোল জেলা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী। সে আল আমিন বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী। পরিকল্পনা মত কাপড় ব্যবসায়ীর সাবেক গাড়ী চালক বাগেরহাট জেলা সদরের উৎকুল গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর বাদশার দ্বারস্হ হন তারা। ১০ লাখ টাকার চুক্তির বিনিময়ে খুলনা থেকে ( সর্বহারা) ৩জন ভাড়াটে খুনি আনে সে। লেনদেন যোগাযোগ যেন চিহ্নিত করা না যায় এজন্য বেনামি সিমকার্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য বিনিময় করতো তারা। স্বামীকে নিখুত ভাবে খুন করতে বাড়ীর চাবি, ঘর বাড়ীর ভিডিও শর্ট ( মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারন করে খুনিদের কাছে সরবরাহ করেছিল তারা। আগাম রেকি শেষে ১২ ডিসেম্বর রাতে দানিয়ুল ইসলামকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে লাপাত্তা হয় ৪ খুনি। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি এবং আগের ঘটনার যোগসূত্র মিলিয়ে হত্যার পরিকরল্পাকারি খুনিদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ৮ জানুয়ারী খুলনা এবং বাগেরহাটে প্রথম অভিযানে নেমে জেলা পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। র‍্যাবের সহায়তায় গাড়ী চালক আব বক্কর বাদশাকে গত শুক্রবার খুলনার রূপসায় গ্রেপ্তারের পরপরই মুল পরিকল্পনাকারি তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া পপি তার পরক্রিয়া প্রেমিক শাহ আলম কল্লোলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দী রেকর্ড করা হয়েছে কল্লোলের। আজ সুলতানা রাজিয়া এবং গাড়ী চালক আবু বক্কর বাদশাকে আদালতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জড়িত অন্য ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।