
মন্জুরুল আহসান শামীম স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগ খালি রেখে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফারহানা সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘নামমাত্র’ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি সেবার মতো সংবেদনশীল স্থানে দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত চেম্বারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নাম বল্তে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, “জরুরি বিভাগে এসে দেখি ডাক্তার নেই। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর জানতে পারি তিনি বাইরে চেম্বারে রোগী দেখছেন। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সেবা না পাই, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এটা আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।”
বুকের ব্যথা নিয়ে আসা অপর এক রোগী সবুজ জানান, জরুরি বিভাগে কাউকে না পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিউটিরত চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজয় সাহা জানান, বিষয়টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসককে এরই মধ্যে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত ফারহানা সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা যা পারেন লেখেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।”
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা জানান, ডিউটি চলাকালীন ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাকে আগে কেউ জানায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাউনিয়াবাসী। তাদের আশঙ্কা, কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা বা শিথিলতা অব্যাহত থাকলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
Reporter Name 























