
মন্জুরুল আহসান শামীম,স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে ওঠা বালুচরে ভুট্টা চাষে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটেছে। এক সময়ের অনাবাদি ধূ-ধূ বালুচর এখন সবুজের সমারোহে ঢাকা পড়েছে। পলিযুক্ত মাটিতে ভুট্টার বাম্পার ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর চরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তা নদী বেষ্টিত কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ২২টি চরে এখন শুধুই ভুট্টার জয়গান। প্রাননাথচর, নাজিরদহ, আরাজি হরিশ্বর, চর বিশ্বনাথ, চর গনাইসহ দিগন্ত জোড়া মাঠে শুধু ভুট্টার লক লকে সবুজ গাছ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৯৪ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৯৯০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯৪ হেক্টর বেশি।
চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুট্টা চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ অনেক বেশি। চর ঢোসমারা গ্রামের কৃষক কাদের মন্ডল জানান, তিনি এবার ২ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার টাকা, অথচ তিনি ৬০ থেকে ৬৫ মণ ফলনের আশা করছেন। আরেক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, ভুট্টার দানা ছাড়াও এর পাতা গো-খাদ্য এবং গাছ রান্নায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা কৃষকদের বাড়তি আয় নিশ্চিত করে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি কিছু সংকটের কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। গদাই গ্রামের রবিউল ও ফুনু মিয়া বলেন, “ভুট্টা মাড়াই ও বাজারজাতকরণের জন্য আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে আমরা আরও বড় পরিসরে চাষ করতে পারতাম।” কৃষকরা চরাঞ্চলে ভুট্টা সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার ও বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ফলনও অত্যন্ত ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে এবার ৯,১৩১ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
Reporter Name 























